কামদুনি-কাণ্ডে চার্জশিট জমা পড়ল না ১৫ দিনে

কামদুনিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাজিতার পরিবারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে৷ এক মাসের মধ্যে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে৷

বারাসত: কামদুনিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাজিতার পরিবারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে৷ এক মাসের মধ্যে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে৷ গাইঘাটা এবং দত্তপুকুরের নির্বাচনী জনসভাতেও তিনি একই দাবি করে জানান, ‘এক মাসের মধ্যে আমরা দোষীদের ‘ফাঁসি এবং মৃত্যুদণ্ডের’ ব্যবস্থা করব৷ মালদহের একটি ধর্ষণ-মামলায় ২৭ দিনের মধ্যে শাস্তির ব্যবস্থা করেছি৷’ কামদুনির ঘটনার পর সেই ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ হল শনিবার৷ কিন্ত্ত মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতিমতো এদিন পুলিশ এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিতে পারেনি৷ কবে পারবে, তাও তারা জানাতে পারেনি৷

এদিকে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এক মাসের মধ্যে দোষীদের শাস্তি হবে কী করে৷ তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের একাংশও জানাচ্ছে, ১৫ দিনের মধ্যে কোনও মতেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হত না৷ গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘সিএম কী করে এ কথা বললেন, কে জানে৷’ মামলার তদন্তকারী অফিসার এদিন জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে কোনও কথা বলবেন না৷ জেলা আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী মহেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এখনও ময়না তদন্তের রিপোর্ট, কেমিক্যাল রিপোর্ট এবং ফরেনসিক রিপোর্ট সিআইডির হাতে আসেনি৷ সেই সব রিপোর্ট হাতে পেলেই গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলার চার্জশিট দিয়ে দেবে৷ সেসব সিআইডি কবে হাতে পাবে জানতে চাওয়া হলে গোয়েন্দা কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷

অন্যদিকে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কামদুনির দুই প্রতিবাদী মহিলা টুম্পা এবং মৌসুমী কয়ালের বাড়ির সামনে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেও এদিন পর্যন্ত জেলা পুলিশ কোনও কিছুই করেনি৷ এ প্রসঙ্গে টুম্পা-মৌসুমরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যমের কাছেই শুনেছি যে৷ আমাদের নাকি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে৷ কিন্ত্ত কোথায় কী৷’

এদিন কামদুনি-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত আনসার আলিকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়৷ তাকে নিয়ে পুলিশের পিক আপ ভ্যান আদালতে ঢুকতেই একটি মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা আনসারির ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন৷ কিছুক্ষণ পর হাজির হন এক দল বিজেপি সমর্থক৷ তাঁরাও একই দাবি তোলেন৷ তাঁরা তৃণমূল নেতাদের নাম ধরে হুঁশিয়ারি দেন দুষ্কৃতীদের মদত দেওয়ার জন্য৷ এসবের মধ্যেই আদালত চত্বরে ঢোকে কামদুনি গ্রামের জনা পঁচিশেক পুরুষ-মহিলা৷ তাদের সামনে ছিল অপরাজিতার ছোট ভাই প্রসেনজিত্‍৷ খয়েরির মধ্যে সাদা-কালো চেকের বারমুডা আর লাল গেঞ্জি পরা প্রসেনজিতের চোখ আদালতের প্রত্যেকটি ঘরে দিদির ঘাতককে খুঁজে বেড়াচ্ছিল৷ ততক্ষণে আনসারকে ততক্ষণে কোর্ট লক আপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ সেটা জানতে পেরে যে এজলাসে তাকে তোলা হবে, সেখানে গিয়েই সে বেঞ্চের দ্বিতীয় সারিতে বসে পড়ে দলবল নিয়ে৷ ঘণ্টাখানেক পর বারাসত বিশেষ দায়রা আদালতে তোলা হয় আনসারিকে৷ ডোরাকাটা চেক গেঞ্জি, সাদা শর্ট প্যান্ট পরা আনসার ছিল ভাবলেশহীন৷ হঠাত্‍ পিছনের দিকে তার চোখ আটকে যায়৷ একবার চোখাচোখিও হয় প্রসেনজিত্‍ এবং কামদুনির অন্যদের সঙ্গে৷ তার পর সে চোখ ঘুরিয়ে নেয়৷ বাইরে বেরিয়ে প্রসেনজিতের প্রতিক্রিয়া, ‘দেখে মনে হল, জামাই শ্বশুরবাড়িতে এসেছে৷ একবার যদি হাতের সামনে পেতাম৷’ সাংবাদিকদের কাছে সে জানতে চাইল, এই মামলায় পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে কি না৷ গ্রামের বাসিন্দা ক্ষুদিরাম ঘোষের ক্ষুব্ধ মন্তব্য, ‘এই না মুখ্যমন্ত্রী বলে গেলেন, ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে৷ এক মাসের মধ্যে ওদের ফাঁসি দেওয়া হবে৷ কোথায় কী?’ বাবুসোনা নস্কর এবং সুমন ঘোষের বক্তব্য, ‘ওসব প্রতিশ্রুতিই সার৷ দেখবেন, কিছু হবে না৷’

বিচারক সেলিম নামচু আনসারকে ১৪ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন৷

 
এবার কলকাতা সময়(kolkata news News in Bangla)    Bangla News( bangla News) এই পরিষেবা পেতে ডাউনলোড করুন ফ্রি মোবাইল অ্যাপ। bangla News App ...টাটকা খবরের আপডেট পান
kolkata news News Ei Samay-এর ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
Web Title kamduni sunani

(বাংলা খবর from Eisamay , TIL Network)

Get state news, latest bangla news headlines from all cities of Bengal. Stay updated with us to get latest West Bengal news
শুধুমাত্র আপনার জন্য
 
আরও খবর পড়ুন