বৃহস্পতিবার, ১৭ কার্তিক ১৪১৯; ০১ নভেম্বর ২০১২; রাত ১১:৪৫

ইসলামী আন্দোলন বিষয়ক একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ১৬ ডিসেম্বর ২০১১, দুপুর ১২:২৯

আসসালামু আলাইকুম। ব্লগে আপনার লিখা পড়ে অনেকদিন ধরে জমে থাকা একটা খটকা প্রশ্নের উত্তর কামনা করছি। বলতে পারেন, একপ্রকার চিন্তার বিনিময়, যা আপনার সব লিখতেই উত্সাহ দেয়া থাকে।

ধরুন, আজ থেকে ২০ বছর পর বাংলাদেশে একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত ক্রমান্নয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের একটি পরাশক্তি হয়ে উঠলো, আর আমাদের বর্তমান অধপতিত গণতন্ত্র দিনে দিনে আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে এতটাই দুর্বল করে তুলল যে, ভারতের কাছে আমাদের অর্থনৈতিক প্রাপ্তির বিষয়টাই প্রাধান্য লাভ করলো। ফলে আমাদের বর্তমান "মুসলিম জাতীয়তাবাদ" অথবা "বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ" অর্থনৈতিক চাহিদার কাছে হেরে গেল। সার্বিকভাবে জনগণই চাইল, এখন সময় আমাদের ভারতের অংশ হয়ে যাবার! তার নেতৃত্ব স্বাভাবিকভাবেই সেকুলাররা দিয়ে থাকবে। এর আগেই আরো অনেকগুলো বিষয় দৃশমান হয়ে পরবে, যেমন ভারতে চাকুরী, ব্যবসা এবং অর্থনৈক্ভাবে এত পরিমানে লোকজন নির্ভরশীল হয়ে পরবে যে, তাদের সফলতাই আমাদের অধিকাংশ স্বার্থবাদী লোকদেরকে ভারতের প্রতি আমাদের বর্তমান বিদ্ধেষকে একেবারে শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে বাধ্য করবে যেমনটা কানাডা আর আমেরিকা। জাতীয়তাবাদীরা তখন মিন মিন করে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে থাকবে যেমনটা ৭১ সালে ডানপন্থীরা ছিল। আর সেকুলাররা বৃহত্তর ভাতৃত্বের লোভ দেখিয়ে ভারতের প্রদেশ হবার দিকে নিয়ে গেল যেমনটা '৪৭ সালে নিয়েছিল (বলে রাখা ভালো '৪৭ এর বিভক্তিকে এখন ধর্মে ধর্মে বিভক্তি বলে সেকুলাররাই সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চালায় অথচ তারাই ধর্মের নামে পাকিস্তানের সৃষ্টি করেছিল, '৪৭ সালে কলকাতা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষের জীবন দেয়ায় যেই সোহরাওয়ার্দী উত্সাহ দিয়েছিলেন, পাকিস্তান তৈরী করে উনিই আবার পূর্ব পাকিস্তানের অসাম্প্রদায়িক সেকুলারদের গুরু হয়েছেন! আর পাকিস্তান তৈরিতে বাঙালি জনগণ সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন কারণ তারা হিন্দু জমিদারদের হাত থেকে রক্ষা পেতে চেয়েছিলেন, অর্থাত শুধুই অর্থনৈতিক)। তখন হয়ত জাতীয়তাবাদীরা এখনকার আসামের উলফার মত হবে। আর সেকুলাররা ভারতের সেকুলারদের সরাসরি তত্বাবধানে আরো অধিক শক্তিশালী হবেন। আর ইসলামপন্থীরা? অবশ্যই জাতীয়তাবাদীদের সাথেই থাকবেন! বর্তমান ইসলামপন্থীদের মানসিকতায় আমার কাছে তাই মনে হয়। তখন হয়ত ইসলামপন্থীরাই বলবেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা শুধু ঈমানী দায়িত্ব নয়, বরং অস্ত্র হাতে ঝাপিয়ে পড়তে হবে! আর পক্ষে বড় বড় আলেমরাই বলবেন! যেমনটা হয়েছিল ৭১ সালে। আর এর ঠিক উল্টা দিকেই থাকবে জনগণ। যেই জনগণ '৪৭ সালে দেশ তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়ে আকাংখা পূরণ না হওয়ায় মাত্র ২৪ বছরে মধ্যে আলাদা দেশ তৈরী করেছিল নতুন স্বপ্ন নিয়ে, স্বাধীনতার প্রায় ৬০ বছর (ধরে নেয়া!) পরও প্রকৃত স্বাধীনতার সুযোগ না পাওয়া জনগণ যে আবার সেই স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতে এগিয়ে আসবে না, সেই নিশ্চয়তা কি আমরা দিতে পারি? তাহলে, সামারি করলে দাড়ায়, "রাষ্ট্র" ও "ইসলাম" নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ইসলামপন্থীদের ৩ টি অবস্থান। প্রথমত, ৪৭ সালে দ্বৈত অবস্থান, মাওলানা মওদুদী (র.) প্রথমে ভারত বিভক্তির বিপক্ষে ছিলেন, পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টির পক্ষেই আসলেন না বরং সেই উপসংহারে নিয়ে গেলেন, যেই ইসলামের নামে পাকিস্তান হয়েছে সেই রাষ্ট্রকে যেই করেই হোক ইসলামী রাষ্ট্রই বানাতে হবে। সেকুলাররা তো সেই সুযোগেই সব দোষ ধর্মের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা পরিছন্ন হয়ে গেলেন! "রাষ্ট্র ও ইসলাম" নিয়ে জামায়াতসহ আরো অনেক ইসলামী দলের ক্রমাগত প্রচারনায় '৭১ সালে একটাই উপসংহারে আসা উচিত ছিল এবং যা হয়েছেও "রাষ্ট্র = ইসলাম"! আরো সহজ করে বলতে গেলে, "পাকিস্তান = ইসলাম"! '৭১ সালে জামায়াতের বিতর্কিত কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেকেই এই কারনটা বেমালুম ভুলেই যান যে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উপর এই সিকলোজিক্যাল এফেক্টের পরিনতি। জামায়াতের মত একটা ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন (আমার মনে তখনকার সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক দল যার নেতৃত্বে মাওলানা মওদুদীর মত ব্যক্তি যিনি কিনা এই উপমহাদেশে ইসলামী আন্দোলনের এক এবং অপ্রতিদ্বন্দী থিওলজিআন) যখন এই ধরনের সিদ্ধান্তে আসে যে, "পাকিস্তান = ইসলাম", তখন কর্মীদের উপর বিষয়টার গুরুত্ব কতটা মনস্তাত্বিকভাবে আঘাত করবে, সেইটা যারা ছাত্রসংগঠন করেছেন, তারা খুব সহজেই বুঝতে পারার কথা। শুধু তাই না। জামায়াতের সাথে তখন বাকি প্রায় সকল ইসলামী সংগঠন যখন একই তালে এই প্রচারণা চালায় যে, "পাকিস্তান = ইসলাম", তখন আলবদর বা আল শামসের মত সংগঠনে গিয়ে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই তো আমার কাছে বৃথা মনে হয়। অথচ এখনকার ইসলামপন্থীরা তাই করে যাচ্ছেন। বিবেচনায় আনছেন না, সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গিটার কথা! যাইহোক, ফলাফল হলো, একাত্তরের পর আমাদের ইতিহাস থেকে এই শিক্ষাই নেয়া নেয়াটা উচিত মনে হয়, "রাষ্ট্র ইস নট ইকুয়েল তো ইসলাম"! এবার আসুন, এখনকার ট্রেন্ড! অনেকের কাছেই শুনি, '৭১ সালে জামায়াত দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, কিন্তু এখন সবচেয়ে দেশপ্রেমিক। এতে আমার সন্দেহ করা উচিত না! কিন্তু এই দেশপ্রেমের ধারণা থেকেই কি আজ থেকে ২০ বছর পড়ে ইসলামপন্থীরা এই উপসংহারে সহজেই আসবে না, "বাংলাদেশ = ইসলাম"। তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবার অধিকাংশ জনমতের বিপরীতে অস্ত্রধারণ! আবার একসাথে দেশের সকল ইসলামপন্থী দল একই অবস্থায় পরবে, যেমনটা ৭১ এর পর পরেছিল! তাহলে, আমি কি এই উপসংহারে পৌছাতে পারি, যেই মাওলানা মওদুদী (র.) মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করে, ইসলামী আন্দোলনের ভিত্তি গড়েছিলেন, সেই আন্দোলনই ক্রমান্নয়ে সময়ের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে স্রেফ "জাতীয়তাবাদী" এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে? গত ৭০ বছরেও কি তাহলে তাত্ত্বিকভাবে "রাষ্ট্র", "ইসলাম" ও "জাতীয়তাবাদ" এই তিনটা বিষয়কে আলাদা আলাদা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা গিয়েছে? "মুসলমানদের রাষ্ট্র" আর "রাষ্ট্রে মুসলমান" এই বিষয় দুটোকে কি কখনই identify করা গিয়েছে? ইসলামপন্থীদের কি তাহলে, "রাষ্ট্র" কি?- এই সংজ্ঞাটা আবার নতুন করে ভাবা উচিত? তাত্তিকভাবে আপনার কাছে উত্তরগুলো আসা করছি।

আরো একটা বিষয় আপনাকে জানানো দরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ইসলামপন্থীদের অবস্থানটাও কি একই ধাচের না? পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী যত প্রচারণা হয়, তার বেশির ভাগ ওয়েবসাইটেই দেখবেন, জামায়াতবিরোধী প্রচারণা, অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বাঙালীই জামায়াত। আমি তো এখনো সরাসরিই বলতে পারি, কোনো কারণে যদি পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করে, তাহলে সবার আগে সেনাপক্ষে অবস্থান নিবে, ইসলামপন্থী ভাইয়েরা। এইখানেও কি হিউমেন ভাল্যুর সাথে রাষ্ট্রের সংঘাত হয়ে না? তখনও কি ইসলামকে হিউমেন ভাল্যুর সাথে যুদ্ধে নিয়ে আসবেন না ইসলামপন্থীরা?

আপনার কাছ থেকে একটু তাত্ত্বিক উত্তর পেলে খুশি হব। ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফিজ।

দেশের বাহিরে উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত এক সহকর্মীর উপর্যুক্ত ই-মেইলের উত্তরে আমি লিখেছি -

আপনার লেখাটা পড়ে তাজ্জব বনে গেলাম !!!! মাশাআল্লাহ!!!! আপনার লেখার প্রতিটা বাক্যের সাথে আমি একমত। অতিসংক্ষেপে আমার মন্তব্যঃ

১. ইসলাম = জামাআতে ইসলাম
কিম্বা ইসলাম = কোন দেশ বিশেষ [ বাংলাদেশ, সৌদি বা অন্য কোন জমহুরিয়াত]
-- এমনটা আমি মনে করি না।

২. জাতীয়তাবাদ কে আমি স্বয়ং খারাপ মনে করিনা। জাতীয়তাবাদ বলতে যদি সাম্প্রদায়িকতা বোঝানো হয় তাহলে তা খারাপ। ইসলাম যতটুকু ব্যক্তিগত ততটুকু সামাজিক, যতটুকু আন্তর্জাতিক ততটুকু জাতীয়ভিত্তিক।

৩. পদ্ধতি হিসাবে গণতন্ত্র যতটুকু ভাল এবং লক্ষ্য তথা য়্যন্ড হিসাবে যতটুকু (পুরোটাই!) খারাপ; জাতীয়তাবাদও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ততটুকু ভাল এবং খারাপ হতে পারে।

৪. একথাটা অতিবড় সত্য যে, বাস্তবের বড় ভুলগুলির মূল কারণ তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি। যেমন জামাআতে ইসলামীর অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্তা র বড় কারন হলো শীর্ষ জামাআত নেতৃত্বের এই ভুল তত্ত্ব যে, এ দেশের মানুষ ইসলাম চায়, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বই সমস্যা।

৫. এ দেশের মানুষ ইসলামের সঠিক জ্ঞান রাখে না। এরা মূলতঃ এক অস্পষ্ট ও আধ্যাত্মবাদী ইসলাম পছন্দ জনগণ। এঁদেরকে আগে ইসলাম না বুঝিয়ে ইসলাম কায়েম করতে যাওয়া/চাওয়া একটা শ্রেণীগত বিভ্রান্তি বা ক্যটাগরী মিসটেক।

৬. সবার আগে যারা ইসলাম কায়েম করতে চান তাঁরা নিজেরা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক হতে ইসলাম-কে বুঝতে হবে। শুধুমাত্র আক্বীদা বা তত্ত্ব বুঝলে/মানলে হবে না। বুঝতে হবে চিরায়ত ও সমকালীন উভয় আসপেক্টে ইসলামের প্রায়োগিক তত্ত্ব বা পদ্ধতি কী। মদিনার রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য যারা ইচ্ছুক তাঁদের শুরু করতে হবে নবুয়তী জিন্দেগীর শুরু থেকে, অতঃপর হিজরত থেকে। ফতেহ মক্কা দিয়ে শুরু করলে হবে না। ঘোড়ার আগে গাড়ী জুড়ানোর তোরজোড়ের দরকার কী?

বিষয়শ্রেণী: বিবিধ
শেয়ার করুনঃ
৬৮৫ বার পঠিত, ৪৮ টি মন্তব্য
২০ জনের পছন্দ
রেটিং দিতে লগইন করুন
পাঠকের মন্তব্য:
মন্তব্যের জবাব দিতে সমস্যা হলে এখানে ক্লিক করুন এবং নতুন পাতায় মন্তব্য লিখুন
564380
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ১২:৫৬
শামিম লিখেছেন : ভালো লেখছেন, তবে এইটুকু বলি মানশূহের এখতিয়ার হলো ইচ্ছা ও চেষ্টা, সম্পাদন করার দায়িত্ব আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা'র হাতে।

shirk নিয়ে পড়তেছিলাম। আন্ডারলাইন করা পয়েন্টটা একটু খেয়াল করে দেখবেন, বিস্তারিত জানা থাকলে একটু বলবে প্লীজ।

Major Shirk Includes
• Shirk ad Du’a – invoking or supplicating to a false deity besides Allah
• Shirk al-Niyah wa Iraada wal Qasd – having the intention and determination to deliberately worship a deity other then Allah.
Shirk at- Ta’a – obeying any created being against the command of Allah.• Shirk al-Muhabbah – loving a created being or an object more than Allah
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:০৮
547285

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : মায়াসসালাম।
কোন শামীম? সরওয়ার কবীর শামীম?
যাহোক, শিরক নিয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকা জরুরী। দেখেছি, যারা সব সময়ে শির্ক ফাইন্ডআউট করার জন্য উদগ্রীব থাকেন তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পিউরিটানিজমে ভোগেন। শির্ক আছে কিনা তা খোঁজার দরকার নাই। শির্ক দেখা গেলে তা বর্জন করতে হবে। আর কিছু কিছু শির্ক যেমন রিয়া বর্জনের চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহর কাছে সব সময়ে পানাহ চাইতে হবে। এ-ই যথেষ্ট।

আমরা যে সেক্যুলার অথরিটির অধীনে চাকুরী করি তা কী (আপনার উদ্ধৃত সঙগা মোতাবেক) শির্ক? আমি তা মনে করি না। এতেক্বাদী (ধারনাগত) শির্ক না হলে মুশরিক হবেনা। বোঝার ভুলের কারনে কারো ধারনাগত শির্ক থাকলে তাঁকে সহীহ বুঝ দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। সে যদি বুঝে শুনে সঠিক ধারনাকে মানতে অস্বীকার করে তাহলে তাঁর থেকে দূরে থাকতে হবে।

সৌদি আরবের সেক্যুলার সুন্নাহ-চর্চা সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন - পরামর্শ।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:২৭
547295

শামিম লিখেছেন : ধন্যবাদ পরামর্শের জন্য। আমি কিন্তু ঐরকম কিছু মিন করি নাই, আমি মিন করছি আমার চেষ্টার কথা, আল্লাহ প্রদত্ত আইনের বিরুদ্ধে গেলে আমি চেষ্টা করবো আল্লাহ'র আইনের জন্য, এটাই না মেনে নেওয়া। সুদভিত্তিক অর্থনীতি আমার প্রচেষ্টা ইসলাম বেইজড অর্থনীতি, এটাই না মেনে নেওয়া। আমি যদি আমার আমার দায়িত্বটুকু না করি এবং কিচ্ছু করতে গেলে বাধা বিপত্তি আসবে এই ভেবে সুদ গ্রহন করি এটা হলো মেনে নেওয়া। আমার ভিউ হলো এটা। ঐ যে বললাম, আমরা শুধু ইচ্ছা ও চেষ্টা করতে পারি, আমার পুরষ্কার বা শাস্তি এর উপর নির্ভর, সম্পাদনের উপর নহে, কারন সম্পাদন করার শক্তি আমার না।

সৌদি আরবের সেক্যুলার সুন্নাহ-চর্চা সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন-- এটা নিয়ে আমার ধারনা নাই।

আমি আসলে জানতে চাচ্ছি এই জন্য যে তাওহিদ বুঝতে হইলে আগে শিরক জানতে হবে, শিরক না করলেই তাওহিদ হয়ে গেলো, এই কন্সেপ্টে।
যাযাকাল্লাহ খাইরা..!
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:৪৩
547305

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ক। আক্বীদা ইত্যাদি নিয়ে খুব আলোচনা, প্রকাশনা ও সতর্কতা কিন্তু অথরিটি-সংশ্লিষ্ট কথাবার্তা যেগুলোকে এককথায় রাজনৈতিক বলা হয় সেগুলো নিয়ে যথাসম্ভব চুপ মেরে থাকা কিম্বা জায়েযের সর্বনিম্ন অবস্থানে সন্তুষ্ট থাকা - এর ই নাম সেক্যুলার সুন্নাহ-চর্চা।

খ। রাসূলের (স) ইবাদত, সুন্নাত এসব নামে বড় বড় বই। [আমি অনেক বিতরণ করেছি, এক সময়ে।] যেগুলোতে ওয়াজতানিবুত ত্বাগুত নামের সর্বশ্রেষ্ট বর্জনের সুন্নাতের কোন প্রসঙ্গ নাই - এ সব ই হচ্ছে সেকুল্যার সুন্নাহ-চর্চা।

গ। যে কোন নেতিবাচক বিষয়ের মতো, শির্ককে খোঁজার দরকার নাই। শির্ক হিসাবে যা স্পষ্টতঃ প্রতিভাত হবে তা বর্জন করতে হবে।

ঘ। সেক্যুলার সুন্নাহ-চর্চাকারীদের একটা অংশ সদা-সর্বদা শির্ক-বিদআতের পিছনে লেগে থাকেন, তা নিয়ে অযথা তর্ক করেন; আর যে কোন খেলাপে-সুন্নাতকেও বিদআত দাবী করে বসেন। অথচ ত্বাগুত সম্পর্কে উনারা দৃশ্যতঃ অপারগতার মাসআলায় আজীবন সন্তুষ্ট থাকেন!!??

ঙ। চিন্তা, কথা/লেখা ও কাজ-কর্মে আমাদেরকে ইতিবাচক ও প্রোএকটিভ হতে হবে। আমার জন্য আমি এই মূলনীতিকে অত্যন্ত জরুরী মনে করি।

ধন্যবাদ।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:৩০
547372

শামিম লিখেছেন : জ্বী, ধন্যবাদ।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:৫৩
547403

হাসান তারিক লিখেছেন : সেক্যুলার সুন্নাহ-চর্চা শব্দবন্ধটা পছন্দ হইছে খুব....
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:১৬
547431

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : হ্যাঁ ভাই, সেক্যুলারিজমের কত ভারশান!!! তাই না?
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; বিকেল ০৫:২৩
547688

হাসান তারিক লিখেছেন : হুম
564395
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:১৩
নোমান সাইফুল্লাহ লিখেছেন : এ দেশের মানুষ ইসলামের সঠিক জ্ঞান রাখে না। এরা মূলতঃ এক অস্পষ্ট ও আধ্যাত্মবাদী ইসলাম পছন্দ জনগণ। এঁদেরকে আগে ইসলাম না বুঝিয়ে ইসলাম কায়েম করতে যাওয়া/চাওয়া একটা শ্রেণীগত বিভ্রান্তি বা ক্যটাগরী মিসটেক।
৬. সবার আগে যারা ইসলাম কায়েম করতে চান তাঁরা নিজেরা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক হতে ইসলাম-কে বুঝতে হবে। শুধুমাত্র আক্বীদা বা তত্ত্ব বুঝলে/মানলে হবে না। বুঝতে হবে চিরায়ত ও সমকালীন উভয় আসপেক্টে ইসলামের প্রায়োগিক তত্ত্ব বা পদ্ধতি কী। মদিনার রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য যারা ইচ্ছুক তাঁদের শুরু করতে হবে নবুয়তী জিন্দেগীর শুরু থেকে, অতঃপর হিজরত থেকে। ফতেহ মক্কা দিয়ে শুরু করলে হবে না। ঘোড়ার আগে গাড়ী জুড়ানোর তোরজোড়ের দরকার কী?


স্যার আপনাকে অনেক দিন মিস করেছি। প্লিজ আপনি নিয়মিত লিখুন। অসাধারন চিন্তা। এখনকার ইসলামী আন্দোলনের এটাই বড় সমস্যা। আবার এক হয়ে যাওয়ার যে উদাহরন দেয়া হলো, এটা মনে হয় ঘটার সম্ভাবনা কম। কারণ এদেশীয় এজেন্টের মাধ্যমে ভারত যদি পরিপূর্ণ অঙ্গ রাজ্যের সুবিধা পায়, তাহলে রিস্ক নেয়ার দরকার কি? কারণ ভারতে যে স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে তা নিয়ে ভারতই হিমশিম অবস্থা। হয়ত খুব বেশী দিন তার আন্দোলনরত জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। আপনাকে ধন্যবাদ। আবার অনুরোধ আপনি নিয়মিত লিখুন.....
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:২৬
547294

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : কখনো কোন পাবলিক প্লেসে বা ফর্মাল প্রোগ্রামে বা টকে কাউকে ইনফর্মাল সম্বোধন ব্যবহার করবেন না, প্লিজ! কথাটা এ জন্য বললাম, এখানে আমি শুধুই একজন ব্লগার।

আমি বা আমার সংশ্লিষ্ট সহকর্মী কেউ মনে করেন না যে, বাংলাদেশ সুদূর ভবিষ্যতেও ভারতের অঙ্গরাজ্য হতে চাইবে। জাতীয়তাবাদ নিয়ে ইসলামপন্থীদের বৈপরীত্যমূলক অবস্থান ও ধারনাগত দ্বন্দ্ব-কে তুলে ধরার জন্য এই চিত্রকল্প দেয়া হয়েছে।

ইসলাম বোঝার জন্য কোরআন-হাদীস ইত্যাদি পড়তে হবে। তবে, শুধুমাত্র এটুকু যথেষ্ট নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণও বটে।

রাসূল (স) এর বাস্তব জীবন ও সামাজিক বিবর্তনের নিরিখেই সবকিছু বুঝতে হবে।

ধন্যবাদ।
564408
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:১৯
জুমানা লিখেছেন : অনেক ধন্যবাদ
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:২৭
547296

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : আপনাকেও !
564452
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:১০
মেজর রাহাত লিখেছেন : খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি লিখা। জামাতীদের খুলিতে ঢুকবে না যদিও, খটখটিয়ে বাড়ি খাবে শুধু।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:২১
547354

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : লেখাটা জামাতীদের খলিতে ঢুকবেনা!!! এমনওতো হতে পারে, লেখাটা কোন জামাতীর-ই খুলি হতে বের হওয়া!!!???
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:১৯
547439

উদার আকাশ লিখেছেন : লেখাটা জামাতীদের খলিতে ঢুকবেনা!!! এমনওতো হতে পারে, লেখাটা কোন জামাতীর-ই খুলি হতে বের হওয়া!!!??? অসাধারণ লাগল মন্তব্যটা।

জামাতীরা যে এসব চিন্তা করে তা আপনাদের মতো মেজরদের চিন্তার অতীত। বুঝলেন দাদা?
564453
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:১১
jibon লিখেছেন : I respectfully disagree with you.
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:২২
547357

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : on which points specifically, please?
564498
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:৪৪
সুমাইয়া দীবা লিখেছেন : আপনার চিন্তাধারা সঠিক আছে। চট্টগ্রামের উদাহরনটা সুন্দর হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:২৬
547446

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : আমার না আমার সহকর্মী’র? নো পয়েন্ট অফ ডিজএগ্রিমেন্ট, এ্যনিওয়ে?
২৪ ডিসেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:০৫
560783

সুমাইয়া দীবা লিখেছেন : i am agree with both of you, i mean your colleague and your anser also.
564515
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:৫৭
আব্দুস সামাদ লিখেছেন : অদ্য পান্ত পড়ার সময় হলনা। পরে পড়ার ইচ্ছা থাকল। আপনার কথায় যুক্তি খুজে পাব আশাকরি। আগে নিজেকে ডাক্তার বানিয়ে তবে অন্যের উপর ডাক্তারী ফলাোই উচিৎ। আমার একটা লেখায় লিখে ছিলাম;-
"নবীর নায়েব হতে হে বস্তা কাঁধে নাও,
পথের কাঁটা না দেখিলে বুড়ির বাড়ী যাও
নিজের পাতে ভাগ বসাতে অন্নহীনে ডাকো,
প্রতিবেশীর সাথে সদা ভালবসা রাখো।
বস্ত্রহীনে বস্ত্র যোগাও, তোমার মত তারও,
হিসাব করে চুকিয়ে দিও, যার কাছে যা ধারো।"
তাদেরই জন্য যারা ইসলাম কায়েম করতে চায়।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:২২
547441

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : মানুষকে উদ্ধার করার মন-মানসিকতা পরিহার করে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-নেতা দের উচিত সামাজিক দায়িত্বসমূহ পালনের মাধ্যমে নাজাতের তরীকা খোঁজা। আমরা মানুষের নাজাতের জন্য কাজ করছি - দায়িত্বশীলদের এ মাইন্ড-সেট একটা বড় ধরনের সমস্যা।

ধন্যবাদ।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:২৯
547449

উদার আকাশ লিখেছেন : পড়ে চোখে পানি এসে গেল। আমরা কেমন মুসলমান ? আমাদেরকে কি আল্লাহ এমনিতেই জান্নাত দিয়ে দিবেন ?

অসাধারণ কবিতাটার জন্য অসাধারণ ধন্যবাদ
564518
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:০৩
এ, এম, বিশ্বাস লিখেছেন : ভাল লাগল।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:২২
547442

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ধন্যবাদ।
564622
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; বিকেল ০৪:০২
মাহমুদ নাইস লিখেছেন : Very very nice the post. Thanks for yours thinking.
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ০৫:২১
548350

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : জনাব নাইস, ভেরী নাইস । থ্যঙ্কস !
১০
564787
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; বিকেল ০৫:২৫
লাল বৃত্ত লিখেছেন : ওহ!! মনে হল নিজের কথাগুলো নিজেই পড়ছি। আমি বহুদিন থেকেই ভেবে কুল পাচ্ছিনা যে একটা শব্দ তার সম শব্দের সাথে তুলনা চলে। ইসলামের সাথে জাতিয়তাবাদের কনফ্লিক্টই যদি লাগে তাহলে তো এদেশে ইসলাম কায়েমের আন্দোলনই যায়েজ নাই। তাদেরকে উপমহাদেশে কিংবা সমগ্র বিশ্বে খেলাফত কায়েমের জন্য দৌড়াতে হবে। পরিবর্তিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় যখন সমগ্র বিশ্বে ভিন্ন একটি সিষ্টেম চলছে তখন সেই সিষ্টেমকে ব্যবহারই যদি করবেন তাহলে আবার সেই সিষ্টেমের উপকরণগুলো কিকরে উপেক্ষা করবেন?

জামায়াত ইসলামের এই সরলীকরণ এবং রাষ্ট্র = ধর্ম এবং = জাতীয়তা বিষয়গুলোকে এক কাতারে নিয়ে আসাটাই তাদের বিভিন্ন সময়ের ভিন্নধর্মী দূর্বলতর অবস্থানের কারণ।

বিষয়গুলোতো এতো সরল নয় যতটা সরল ভাবে তারা বক্তৃতা ও বিবৃতিতে বলে থাকে।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:১৯
547916

শামিম লিখেছেন : আমরা যত সহজে কথাগুলো বলতেছি অতটা সহজ কি ছিলো ব্যাপারগুলো। আসলে কি তারা রাষ্ট্র= ধর্ম এরকম কোন স্ট্রাটেজি ছিলো কি আসলে, না অন্য কোন চিন্তা বা যুক্তি তাদের ছিল?আমরা মনে হয় একটু বেশি অনুমান প্রিয়।
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:৪৬
547991

লাল বৃত্ত লিখেছেন : হয়তো আমরা বেশি অনুমান প্রিয়, কিন্তু অবস্থা এমন হয়েছিলো যে এখন সেই অবস্থানটা কোন কারণে ছিলো তাও কেউ ব্যখ্যা করতে রাজি নন, এবং অধ্যাপক গোলাম আজম সাহেবের সাক্ষাতকারে তো মনে হলো জামায়াত রাজাকার আল বদর কি চিনেইনা।

যে যুক্তি আর যে কথাই অন্তরালে থাকুকনা কেন ২৫ মার্চ রাতের হামলার পর থেকেই তো পূর্ব পাকিস্তান জালিম হয়ে গেলো, তখনো হয়তো মজলুম মুসলমানের পক্ষে সুযোগ সন্ধানী মুশরিকরা থাকায় মুসলিম জালেমদের জুলুমকেই শ্রেয় হিসেব ধরে পূর্বপাকিস্তানের সাথে দলীয় এবং রাষ্ট্রীয় সংযোগ অক্ষুণ্ণ রেখেছে, কেননা দল তো তখনো আলাদা হয়নি। যদি পাকিস্তান আন্দোলন হালাল হয় তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষ অবলম্বন করাটাও তাদের জন্য হালাল ছিলো, আর যদি জাতিয়তাবাদের বিপরিতে খিলাফত কায়েমেরই উদ্দ্যেশ্য থাকতো তাহলে তো মাদানী সাহেবই সঠিক। পাকিস্তান আন্দোলনটাই হারাম হয়ে যায়। কেননা জাতীয়তাবাদ যদি ইসলামী হয় আর তা যদি হয় আমি ছাড়া অন্য সবাই অচ্ছুত আর নিন্ম প্রকৃতির বলে ধারণা করা তাহলে সেটাতেও ইসলামের সাপোর্ট থাকার কথা নয়। এখানে ঝামেলাটা বেধেছিলো দারুল ইসলাম আর আদ্রুল হারব নিয়ে, কিন্তু সেক্যলারিজমের ধারকেরা ইসলামী ষ্টেট প্রতিষ্ঠার মুলো আল্লামা মাওদূদী আর সমমনা সব উলামাদের সামনে ঝুলিয়ে ধরে নিজেদের উদ্দ্যেশ্য ঠিকই আদায় করে নিয়েছে। হতে পারে ধর্মীয় আইডেন্টিটিতে বিভক্তি হয়েছে কিন্তু মননে খুব একটা পার্থক্য কোন শাষকগোষ্ঠীরই ছিলোনা।

তাহলে অবশেষে বিষয়টি কি এরকম দাড়ালো যে পরিস্থিতির কারনে আজ যেটা হালাল কালই তা হারাম?
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ০৫:৩১
548357

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : কেন জানি কিভাবে যেন দৃষ্টিভঙ্গী কথাবার্তা মিলে যায় !!??

চাই, এনশিয়র করতে, এভরিবডিজ রাইট টু স্পিক। হুইচ ইজ দ্য কি টু অল সর্টস অফ ইনট্যলেকচুয়্যলিটি। এন্ড ইন্টেলেকচুয়্যলিটি ইজ এ্য ভেরি স্পেশাল থিং দ্যট ইসলাম হ্যজ।

ভাল থাকুন।
১১
564911
১৬ ডিসেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:১৩
হিন্দোল লিখেছেন : পাকিস্তানকে দুই টুকরো করেও ভারতের লাভ হয়নি : লে. জেনারেল জ্যাকব

আহমদ হাসান ইমরান ভারত

এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ইস্টার্ন কমান্ডের তদানীন্তন চিফ অব স্টাফ লে. জেনারেল জে. এফ. আর. জ্যাকব বেশ ক’টি পত্রপত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাংবাদিকেরা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ১৯৭১ সালে ভারত পাকস্তানকে ভেঙে দিতে সমর্থ হয়েছে। এর ফলে ভারত কি আরো নিরাপদ হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে জেনারেল জ্যাকব বলেন, ‘ভারত পাকিস্তানকে রাষ্ট্র হিসেবে দুই টুকরো করে দিতে সমর্থ হলেও সামরিক দিক থেকে তাতে ভারতের লাভ হয়নি। বরং এর ফলে ভারত সামরিক দিক থেকে আরো বেশি চাপের মুখে পড়েছে।’
‘পাকিস্তানকে ভেঙে দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে আরো বেশি নিরাপদ করে তোলা। কিন' তা হয়েছে কি?’- এ প্রশ্নের জবাবে জেনারেল জ্যাকব বলেন, ‘না, সে উদ্দেশ অর্জিত হয়নি। বরং সম্পূর্ণ বিপরীত অবস'ায় সৃষ্টি হয়েছে। আগে দুটো ফ্রন্ট ছিল। একটি ছিল আমাদের পশ্চিমে পশ্চিম পাকিস্তান এবং আমাদের পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান। দুই ফ্রন্টে ব্যবস'াপনা করতে গিয়ে আমাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করার সামর্থ্য পাকিস্তানের ছিল না। কিন' এখন তাদের সব সেনাবাহিনী এবং অস্ত্রশস্ত্র পাকিস্তানে (পশ্চিম পাকিস্তান) কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ফলে তারা আরো সক্ষমভাবে এগুলোর ওপর নজর দিতে পারছে।’
জেনারেল জ্যাকবকে আরো প্রশ্ন করা হয়, ‘আমরা কি ’৭১-এর সামরিক বিজয় থেকে যথাযথ ফায়দা নিতে ব্যর্থ হয়েছি?’
উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কথাটি সঠিক। ১৯৭২ সালে সিমলা চুক্তির সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে আমাদের এক লিখিত চুক্তি করা উচিত ছিল যে, বর্তমান সীমারেখাই জম্বু-কাশ্মিরে অস্ত্রবিরতির সীমারেখা হবে। এ প্রস্তাবে ভুট্টো বলেন, তিনি লিখিতভাবে কিছু দিতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে দেশে ফিরে গেলে তাকে হত্যা করা হবে। পরে ভুট্টো তার মৌখিক বক্তব্য থেকেও সরে আসেন।’
‘ওই সময়ের আপনার সব থেকে উল্লেখযোগ্য স্মৃতি কোনটি?’- এ প্রশ্নের জবাবে জেনারেল জ্যাকব বলেন, ‘আমার মনে পড়ছে, ঢাকায় জেনারেল নিয়াজির সদর দফতরের কথা। যখন আমি তার কাছে আত্মসমর্পণের শর্তাবলি পড়ে শুনালাম, জেনারেল নিয়াজি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তার পরেই যা মনে পড়ে তা হলো- রমনা রেসকোর্সে প্রকাশ্যে এবং জনসমক্ষে জেনারেল নিয়াজির আত্মসমর্পণের সময় বাংলাদেশীরা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। জেনারেল নিয়াজিকে সরিয়ে আনতে আমাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।’
বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কে লে. জেনারেল জ্যাকব বলেন, ‘অনেকের বিপরীতে আমি কিন' সব সময় এই অবস'ান নিয়েছি যে মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের অভিযানের সময় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারা অনবরত পাকিস্তানিদের হয়রান করে গেছে এবং পাকিস্তানিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের সময় বাংলাদেশে আমরা এক হাজার ৪০০ সেনাসদস্যকে হারিয়েছি। চার হাজার সেনা বাংলাদেশ যুদ্ধে আহত হয়। মুক্তিবাহিনী সাহায্য না করলে আমাদের হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি হতো। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে নিজের লেখা বইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাকে তুলে ধরেছি।’
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ০৫:১৯
548347

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ধন্যবাদ। জনাব হিন্দোল। আপনিতো দেখছি চিন্তার জগতে দোলা দিতে সক্ষম !!! প্রিয়তে নিলাম আপনাকে।
১২
565279
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; রাত ০৩:৪৯
তারাচাঁদ লিখেছেন : মোজাম্মেল ভাই, ধরুন আজ থেকে ২০ বছর পরে হঠাৎ একদিন বাংলাদেশে "ইসলামাইজেশন অব এডুকেশন" করে ফেলার সুযোগ আসল । তখন আপনার সাবজেক্ট "দর্শন"-এর অবস্থা কি হবে ?
বছর পাঁচেক আগের কথা । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় 'ইসলামিক স্টাডিজ'-এর কারিকুলাম তৈরী করতে চাইল । ইসলাম বিষয়ে ভুড়ি ভুড়ি ডক্টর থাকার পরও কেউ একটা পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম তৈরী করে দিতে পারল না । এটা কি দুঃখের নয় ?
এই বছর মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু হয়েছে । আগামী বছর যদি সরকার ঘোষণা দেয়, "এবছর থেকে মাদ্রাসায় চার বছর ব্যাপী ইসলামী দর্শন কোর্স চালু হবে" । সত্যিই এমনটি হলে অবস্থাটা কি হবে চিন্তা করেছেন ? আপনি তো দর্শনের শিক্ষক । আপনাকে যদি শিক্ষামন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন,
# ইসলামাইজেশন অব ফিলসফি'র উপর আপনার কয়টা বই আছে ?
# ইসলামী দর্শনের উপর চার বছরের অনার্স কোর্স খোলার জন্য একটা কারিকুলাম তৈরী করে দেন তো !
# বাতিল দর্শনের চেয়ে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে আপনি কয়টা বই লিখেছেন ?
ভ্রাতঃ, এগুলো ইসলামী সমাজ গঠনের জন্য অতীব প্রয়োজন (Prerequisite) । আপনাদের মত শিক্ষকরা একটু অগ্রসর চিন্তা না করলে, আর কারা এ কাজ করবে ?
ইউসুফ আল কারযাভী বলেছেন, শিক্ষিত ইসলামপন্থীরা তাদের নিজের বিষয়কে ইসলামাইজেশন করার প্রয়োজনীয়তা একেবারে ভুলে গিয়ে, যা তার বিষয় নায় এমন ব্যাপারে মত্ত থাকে । যে তিনটি প্রশ্ন আমি রাখলাম, আপনি কি নিশ্চিত যে, এমন প্রশ্ন আল্লাহ আপনাকে করবেন না ? না কি এর সুফল কিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকলেও সদকায়ে জারিয়া হিসাবে গণ্য হবে না ।
ইসলামী সমাজ কায়েমের স্বপ্ন দেখি বলে এই প্রশ্ন আমার মনে বারংবার উঁকি দেয় ।
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ০৫:১৪
548343

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ভাই তারাচাঁদ,

(১) আপনার কথা থেকে মনে হচ্ছে আপনি আরলি টোয়েন্টিজ -এর কোন ব্লগার নন। আমি স্বনাম, স্বছবি ও স্বপরিচয় ব্লগিং করি বিধায় আপনি আমাকে স্পেসিফেকিলি কথা বলতে পারলেন। তাই না? আমার মনে হয় আমাদের সকলেরই সত্যিকারের পরিচয়ে লেখালেখি করা উচিত। আমার স্বপ্নের যে কনসেপ্ট গ্রুপ, সেটি গড়ে তোলার জন্য এটি দরকার।

(২) ইসলামাইজেশান অব নলেজ - বিষয়টি আমার কাছে পরিষ্কার নয়। যদিও এ বিষয়ে আমি একটা সাড়া জাগানো সেমিনার আয়োজন করেছিলাম। বছর কয়েক আগে, চবি-তে। ইসমাইল ফারুকী ইত্যাদি আমি পড়েছি। বাংলাদেশে সমকালীন মুসলিম দর্শন নামের কোর্স আমরাই প্রথম চালু করেছিলাম । প্রথম তিন বছর আমি পড়িয়েছি। সমকালীন জ্ঞানতত্ত্বের দুনিয়জোড়া নামকরা কয়েকটা টেক্সট শুধুমাত্র চবি-তেই পড়ানো হয়। এবং আমিই এসবের একমাত্র শিক্ষক। বি আই আই টি চট্টগ্রামের কার্যকরী সভায় নিয়মিত অংশগ্রহন করি। সম্প্রতি প্রতিবেশী প্রফেসর আবদুন নুর স্যারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ইসলামাইজেশান অফ নলেজ কায়েম হয়ে যাবার পরে এথিইজম এবং এ ধরনের বিষয়াদি পড়ানো হবে কিনা। তিনি নেতিবাচক উত্তর দিলেন। আমি উনার সাথে প্রবলভাবে দ্বিমত প্রকাশ করেছি। মালয়েশিয়ার আই ইউ এম - এ ইসলামাজেশান অফ নলেজের উপর পি-এইচ ডি করছেন, নেয়ামত উল্লাহ ভাইয়ের সাথে অবশ্য আমি পুরোপুরিভাবে একমত হয়েছি। এ বিষয়ে উনার বক্তব্য আমার কাছে রেকর্ড করা আছে। যাতে উনি বিষয়টাকে মূলতঃ কারিকুলাম রিফর্ম হিসাবে তুলে ধরেছেন।

(৩) সাধারন লোকজনতো বটেই, অতিশিক্ষিত ও উচ্চ পর্যায়ের ইসলামী নেতৃবৃন্দও সাধারন কথাবার্তা ও লেখালেখিতে সরাসরি ইসলাম-কে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের অতি-স্পষ্ট মোটিভ নিয়ে অগ্রসর হন। অথচ, তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রচলিত যে সব ধারনা, বিশ্লেষণ, যুক্তিপ্রক্রিয়া - সেসবকে সিস্টেমেটিকেলি এনালাইজ, সিন্থেসাইজ ও এগজষ্ট করার অপরিহার্যতা বোধ করেন না। মাওলানা মওদূদী ইসলামী নৈতিকতার প্রসঙ্গে যা বলেছেন তা অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি বলেছেন, আপনি জানেন, ইসলামী নৈতিকতা হচ্ছে মৌলিক মানবীয় গুণাবলীর অতিরিক্ত ও উচ্চস্তরের বিষয়।

আমরা সরাসরি গাছের আগায় অবস্থান নিতে চাই, গোড়া ও শেকড় নিয়ে ভাবিনা !!!!!!!!!! এটি বুদ্ধিবৃত্তি থেকে রাজনীতি সর্ব ক্ষেত্রে ।

(৪) সে জন্যই আমি সব সময়ে বলি - আমাদেরকে আগে ইসলাম বুঝতে হবে। যাহা কিছুতে ইসলামের সিল বা নাম আছে তা ইসলামী আর বাদবাকী সব অনৈসলামী। এটি এক ধরনের চিন্তা। আবার, যা কিছু স্পষ্টতঃ ইসলামবিরোধী নয় এমন সব কিছুই ইসলামী। এটি ভিন্ন ধরনের চিন্তাধারা। আমাদেরকে ঠিক করতে হবে - আমরা কোন পথে যাব।

বিস্তারিত মতামত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ০৮:০৬
548529

হাসান তারিক লিখেছেন : যা কিছু স্পষ্টতঃ ইসলামবিরোধী নয় এমন সব কিছুই ইসলামী।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এই চিন্তাধারার অনুসারী।
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; বিকেল ০৪:২৩
549343

অনুরণন লিখেছেন : তারাচাঁদ ভাই, কাল্পনিক কোন কিছু নিয়ে কথা বলতে উৎসাহ পাইনা, কিন্তু আপনি যেটা বলেছেন সেটা আসলে খুবই বাস্তব একটা সমস্যা আমাদের জন্য। তাই কয়েক লাইন লিখছি।

প্রথম কথা হচ্ছে 'ইসলামাইজেশন অব নলেজ' এই তত্ত্ব আদতে কতটুকু গ্রহনযোগ্য? এই তত্ব দেয়ার পরে ৩৫ বছর চলে গেছে কিন্তু এক মালয়েশিয়া প্যাট্রনাইজেশন বন্ধ করে দেয়ার পরে আর কিন্তু সেরকম অগ্রগতি হয় নি। আর 'ইসলামাইজেশন নাকি ইসলামিক' এই বিতর্ক খুব স হজে শেষ হবে বলে মনে হয় না।

একমাত্র অর্থনীতি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এর প্রায়োগিক গুরুত্ত্ব কিন্তু এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে ট্রিপল আইটি, আইআইইউএম ছাড়া আর কেউ এটা নিয়ে খুব বেশি কাজ করছে বলে মনে হয় না।

কারিকুলাম সংক্রান্ত বিষয় যতটুকু বুঝি, তাতে ডক্টরদের কাজ কিন্তু কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট না। কারিকুলামের উপর ডক্টরেটরা বরং এটা করবেন, আর স্ব স্ব সাবজেক্টের ডক্টররা তাদেরকে সহয়তা করবেন।
এটা হল তত্ব কথা। বাস্তবতা তো আরও ভিন্ন। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিলেবাস/কারিকুলাম সবই তৈরী হয় সাধারণত: আরেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কপি করে। মাঝে মাঝে কেউ বাইরে থেকে ডিগ্রী করে আসলে সে বিষয়ে একটা কোর্স যোগ করেন, যদি যথেষ্ট প্রভাবশালী বা উদ্যোগী হন । দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সাবজেক্টের সিলেবাস/কারিকুলাম কখনও গবেষনা করে উপযোগিতা পরীক্ষা করে তৈরী/সংশোধন করা হয়েছে বলে আমার জানা নাই।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুলত: জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা হলেও সে পর্যায়ে পৌছাঁনোর মত অবস্থা আমাদের এখনও হয়নি। আমরা আপাতত: অন্যের অর্জিত জ্ঞান পূনর্বিতরনের পর্যায়েই আছি। এই যায়গায় ইসলামপন্থী/অনৈসলাম পন্থী সবাই সমান। সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ গবেষনাপোযগী না হলে শিক্ষকরা বা গবেষকরা কিছু সম্মানজনক ব্যাতিক্রম ছাড়া কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

পুনশ্চ: এতকিছু লেখার পরে যেইটা মনে হল সেটা হচ্ছে "ডিম আগে না মুরগী আগে"
১৭ ডিসেম্বর ২০১১; বিকেল ০৫:১৯
549485

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ইতোপূর্বে দেয়া দর্শন বিষয়ক দুটা পোষ্ট পড়া ও মন্তব্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি -

দর্শন কী? প্রসঙ্গঃ দর্শন ও ইসলাম
http://sonarbangladesh.com/blog/mohammad_mozammel_hq/53842

ইসলাম ও দর্শনঃ প্রচলিত ভুল ধারনার সংশোধন
http://sonarbangladesh.com/blog/mohammad_mozammel_hq/54063
১৮ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ০৬:০২
550329

ঈগল লিখেছেন : কারযাওয়ী বলেছেন তাই তার সব কিছুই গ্রহণ করতে হবে এই রকম প্রবণতা সেকুলার সুন্নাহ (স্যার দেওয়া) চর্চাকারীদের কাছে ইদানিং কালে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সব কিছুকেই ইসলামিকরণ করার আকাংখা নিশ্চিতভাবেই রিয়ের সুন্নাহর চর্চাকে ব্যহত করবে।
১৮ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:২৮
551279

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ইসলামাইজেশান অফ নলেজের বিষয়ে একটা মজার তথ্য - আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম -এর প্রোভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক মালয়েশিয়াতে ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি একটা আর্টিক্যল লিখেছেন, ইসলামাইজেশান অফ ফেকাহ - এই নাম দিয়ে !!???। আমার কাছে আছে।
১৩
567008
১৮ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ০৬:২৪
ঈগল লিখেছেন : স্যার, বহুদিন পর আপনাকে পেলাম।
--------------------------------
দেশ=ইসলাম' এই ধরণের কনসেপ্ট আপনি পছন্দ করছেন না কিন্তু এটা আমার কাছে গ্রহণ যোগ্য, আদতেই সেই দেশটি যদি ইসলামি রাষ্ট্র হয়। কিন্তু পাকিস্তান=ইসলাম এটা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
আপনি জনগনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কিন্তু আমার বিশ্বাস আপনি একমত হবেন যে, সাধারণভাবে মানুষ পাপ প্রিয় হয়। দুনিয়ার রুপ যেদিকে বেশি ঝলকায় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সেইদিকেই যাবে।
সেই অর্থে, আগামি দশ বছরে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং কোন যোক্তিক কারণে এই ইসলামী রাষ্ট্রটি জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় আর এর বিশ বছর পর ভারত অর্থনৈতিক এবং সামরিকভাবে বিশ্বের পরাশক্তি হয় তখন দেশের সিংহভাগ জনগণ যদি তাই তারা ভারতের সঙ্গে একিভূত হবে!! এটা মেনে নেওয়ার যৌক্তিক কোন কারন আছে কি? একিভূত হতে বাধাদান কারীরা যদি ৭১ এর রাজাকারের ভূমিকা নেই তাতে তো অপরাধ দেখছি না।
১৮ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০৩:২৩
551269

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : আমরা যা-ই মনে করি না কেন, ইতিহাসের নির্মম সাক্ষ্য হচ্ছে, মানুষ তথা জনগণ শুধুমাত্র কোন আদর্শ বিশেষের টানে কোন স্ট্রাকচারকে যথেষ্ট সময় পর্যন্ত সমর্থন দেয়না, যদি সে আদর্শ তাঁদের বস্তুগত, বৈষয়িক বিশেষ করে অর্থনৈতিক দিক থেকে ন্যূনতম সক্ষম না হয়।

শুধুমাত্র আদর্শিক রাষ্ট্র - এটি অবাস্তব। মদীনার রাষ্ট্র ব্যবস্থা যা রাসূল (স) কায়েম করে গেছেন - তা আদর্শিক দিক থেকে পুরোপুরি আদর্শিক। একই সাথে তা ছিল বিদ্যমান সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বৈষয়িক দিক দিয়ে সক্ষম সমাজ ও রাষ্ট্র।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। [একজন সাধারন ব্লগার হিসাবে সম্বোধন আশা করি।]
১৪
569329
১৯ ডিসেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:৩০
ইবনে বতুতা লিখেছেন : মোজাম্মেল ভাই, অনেক দিন পর আপনার বড় একটা লেখা পড়ে খুব ভাল লাগল। অনেক গভীর লেখা। আরো লিখবেন আশা করি।
ভাল থাকুন।
২১ ডিসেম্বর ২০১১; রাত ০৮:১০
556698

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ধন্যবাদ।
মন্তব্য লিখতে লগইন করুন
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
 
লেখকের অন্যান্য লেখা