Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২ ফাল্গুন ১৪১৯, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

প্রেস ক্লাবের সামনে ৩ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে সাংবাদিকদের সমাবেশ : গণমাধ্যমে আগুন ও বন্ধের হুমকি দাতাদের গ্রেফতারে আলটিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে গতকাল সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৈনিক নয়া দিগন্ত অফিস ও প্রেসে অগ্নিসংযোগ এবং আমার দেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বন্ধের হুমকিদাতাদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী ফ্যাসিবাদী সরকারের মিডিয়ার ওপর হামলার জবাব দেয়া হবে।
গণমাধ্যমের ওপর নগ্ন হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় এ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে পুনরায় প্রেস ক্লাবে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীর মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো প্রেস ক্লাব এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কারণে পল্টন মোড় থেকে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত রাস্তার এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বিএফইউজে মহাসচিব ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, অবিভক্ত বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এমএ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডিইউজে সভাপতি আবদুস শহিদ, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্রাব) সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ আকন, ডিইউজে আমার দেশ ইউনিট প্রধান বাছির জামাল, দৈনিক সংগ্রাম-এর ইউনিট চিফ শহিদুল ইসলাম, দিগন্ত টেলিভিশনের শাহিন হাসনাত, অনলাইন নতুনবার্তা সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শফিউদ্দিন জিতু প্রমুখ।
এছাড়া সাংবাদিকদের সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি প্রফেসর ড. ইউসুফ হায়দার, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক মো. আবুল আসাদ, সাবেক ডিন প্রফেসর ড. তাজমেরী এস ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শিক্ষক ঐক্য পরিষদ সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ঢাবি’র পালি বিভাগের প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, সুশীল বড়ুয়া, সাংস্কৃতিক ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও চিত্রনায়ক আবুল কাশেম, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বিশিষ্ট সুরকার ও শিল্পী মনিরুজ্জামান মনির, কবি আসাদ বিন হাফিজ, কবি কামাল ফরিদ, স্বাধীনতা ফোরামের আবু নাসের রহমাতুল্লাহ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন আমার দেশ-এর সিনিয়র সহকারী সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার ও ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।
সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে মিডিয়া বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান এবং সে স্মারকলিপির প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি জানানোর ঘটনা নজিরবিহীন। এর মাধ্যমে তিনি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন ৪টি পত্রিকা রেখে সব মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এবার বন্ধ করা হচ্ছে ভিন্ন কায়দায়। পত্রিকা অফিসে হামলা, আগুন, তল্লাশি, বন্ধের হুমকি ও সম্পাদককে অবরুদ্ধ করে রাখার সবকিছুই হচ্ছে ফ্যাসিবাদী কায়দায়। তিনি শাহবাগের আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, মিডিয়ায় আবারও হামলা হলে প্রয়োজনে সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবে মঞ্চ করে আজীবন অবস্থান করবেন। তিনি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নয়া দিগন্ত অফিস ও প্রেসে আগুন এবং আমার দেশ বন্ধের হুমকিদাতাদের গ্রেফতার না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন।
শওকত মাহমুদ বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না বলেই মিডিয়ার ওপর নগ্ন হামলা চালাচ্ছে। তিনি শাহবাগ আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, যারা আজকে পত্রিকা পোড়াচ্ছে, তারা স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানে না। ওই আন্দোলন যদি অরাজনৈতিক হয়, তাহলে কারাবরণকারী এবং অবরুদ্ধ সাংবাদিকের পত্রিকা বন্ধের হুমকি ও পত্রিকায় আগুন কেন? তিনি বলেন, এমন সময় পত্রিকা অফিসে আগুন দেয়া হলো যখন সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছিল। সাংবাদিকদের এ ঐক্যে চিড় ধরানোর জন্যই পত্রিকা অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে।
মুহাম্মদ বাকের হোসাইন বলেন, বর্তমান সরকার নাকি মানবতাবাদী। যদি তাই হয়, তাহলে সরকারের চার বছরে ১৭ সাংবাদিক খুন, ২০০ জন ঘরছাড়া, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, নয়া দিগন্ত অফিসে আগুন এবং আমার দেশ পোড়ানো হচ্ছে কেন? তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আন্দোলনে রাজনীতিকরা একাত্ম হলে তার দায়ভার সরকারের। তখন প্রজন্ম চত্বর দিয়ে কিছু হবে না। আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, যে প্রক্রিয়ায় মিডিয়ার ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, এ আলামত ভালো নয়। অতীতেও এরকম আক্রমণ হয়েছিল; তারা নিঃশেষ হয়ে গেছে। আবদুস শহিদ বলেন, গত চার বছর ধরে গণমাধ্যমে হামলা হচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা এতে উস্কানি দিচ্ছেন। শুধু এখন নয়, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা গ্রেফতার না হলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ব্যর্থ বলে গণ্য হবেন।
কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, সাংবাদিকরা যখন ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নেমে পড়েছেন, তখন এ ঐক্যে চিড় ধরানোর জন্য নয়া দিগন্তে আগুন ও আমার দেশসহ বিভিন্ন মিডিয়া বন্ধের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি অগ্নিসংযোগের দীর্ঘ সময় পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আমরা বর্তমানে এমন সময় পার করছি যখন গণমাধ্যমে কঠিন দুর্দিন চলছে। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা অত্যন্ত ফ্যাসিবাদী কায়দায় গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় নয়া দিগন্ত অফিস ও প্রেসে আগুন, আমার দেশ বন্ধের হুমকি এবং সম্পাদককে তার কার্যালয়ে দু’মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা রয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পরাজয় আর গণতন্ত্রের বিজয় হবেই। ইলিয়াস খান আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পত্রিকা অফিসে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার মাধ্যমে সেই ’৭২-৭৫’র পদধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অতীতে গণমাধ্যমে হামলাকারীদের শেষ রক্ষা হয়নি। এবারও হবে না। বাছির জামাল বলেন, পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগ ও বন্ধের হুমকির ঘটনা গণতন্ত্রের ওপরই হুমকি। সাংবাদিকদের এ হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।
ইউসুফ হায়দার তার সংহতি বক্তব্যে পত্রিকা অফিসে আগুন ও আমার দেশ বন্ধের হুমকির নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান। তাজমেরী এস ইসলাম সমাবেশের সঙ্গে ঢাবি সাদা দলের একাত্মতা জানিয়ে বলেন, একটি কুচক্রী মহল গণমাধ্যমে এ হামলার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে নস্যাত্ করার অপচেষ্টা করছে। এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনও একসঙ্গে চলতে পারে না। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না বলেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীকে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার দেশ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা হলে তার প্রতিবাদে ফাঁসির মঞ্চ হলেও সেখানে গিয়ে আমি প্রতিবাদ জানাব। সুশীল বড়ুয়া গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আক্রমণ ও ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, দেশকে আরেক আফগানিস্তান-পাকিস্তান বানাবেন না।
আজ পেশাজীবী পরিষদের সমাবেশ : এদিকে নয়া দিগন্ত অফিস ও প্রেসে অগ্নিসংযোগ, আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের হুমকি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পত্রিকার কপিতে আগুন ও মিডিয়া বন্ধের হুমকির প্রতিবাদে আজ বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে সবাইকে অংশ নেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।