Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২ ফাল্গুন ১৪১৯, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মতিঝিল পল্টন রণক্ষেত্র : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত শিবির পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০০ গ্রেফতার ৩০০

রকীবুল হক
পরের সংবাদ»
পীর-ওলামা-জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ আর গণগ্রেফতারের ঘটনায় গতকাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর মতিঝিল ও আশপাশের এলাকা। পুলিশের মুহুর্মুহু গুলি, সাঁজোয়া যান নিয়ে টহল, দাড়ি-টুপিধারী, সন্দেহভাজন ও পথচারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ এবং গ্রেফতারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজধানীবাসীর মধ্যে। সংঘর্ষে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদী হাসানসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এরমধ্যে গুলিবিদ্ধ ২০ জন। ঘটনাস্থল, বিভিন্ন এলাকা ও যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ করে দেয়া হয় ফুটপাতসহ আশপাশের দোকানপাট। অন্যান্য সড়কেও যানবাহন ও মানুষের চলাচল কমে যায়। রণপ্রস্তুতি নেয়া পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায় মাওলানা সাঈদীর মুক্তি দাবিতে আয়োজিত পল্টনের পূর্বনির্ধারিত গণজমায়েত। তবে পুলিশি বাধা ও হামলার মধ্যেও মতিঝিল, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামলী এলাকায় ঝটিকা মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই কর্মসূচি পালনের সময় ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনাসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বহু নেতাকর্মী আহত ও আটক হয়েছে।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচারের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ করার প্রতিবাদ ও তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি এবং দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে গতকাল রাজধানীর পল্টন মোড়ে এই গণজমায়েত আয়োজন করেছিলো মুফাসসিরিন, উলামা, পীর মাশায়েখ ও জনতার মঞ্চ নামের একটি সংগঠন। সারাদেশে বিভাগীয় শহরগুলোতেও একই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জামায়াত-শিবির কর্মীদের সহায়তায় এই জমায়েত সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলো সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে এ কর্মসূচি দমনে রাজধানীসহ সারাদেশে ভোর থেকেই রণপ্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলো পুলিশ। বিশেষ করে গতকাল রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা ছিল অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় কঠোর ও মারমুখী। মতিঝিল, পল্টন, দৈনিক বাংলা, বায়তুল মোকাররম, যাত্রাবাড়ী, কাকরাইলসহ আশপাশের এলাকায় সাঁজোয়া যান নিয়ে টহল দেয় তারা। সকালে ওলামা মাশায়েখ ও জনতাসহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পল্টন এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ এসব জায়গায় বেপরোয়া গুলি, হামলা ও গ্রেফতার শুরু করে। ওলামা-জনতার ব্যানারে জামায়াত-শিবির কর্মীরাও এ সময় বেশ কিছু জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। কয়েক দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা চলে দুপুর পর্যন্ত। এসব সংঘর্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে সাড়ে তিনশ’সহ সারাদেশে ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে ৩শ’ পিকেটারকে আটকের কথা স্বীকার হয়েছে।
এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। এ কর্মসূচিতে বাধা বা হামলা নির্যাতন করা হলে আগামী রোববার থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতাল দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন এক নেতা। তবে সংগঠনটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেয়া হলেও হরতালের কথা উল্লেখ করা হয়নি। অপরদিকে ওলামা জনতার কর্মসূচিতে হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির।
পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে রণক্ষেত্র : প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মাওলানা সাঈদীর মুক্তি দাবিতে আয়োজিত গণজমায়েত ঠেকাতে গতকাল ভোর থেকেই বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ কড়া অবস্থান নেয়। একই সময় তারা সাঁজোয়া যান নিয়ে আশপাশের সড়ক ও গলিতে তল্লাশি চালায়। ওলামা মাশায়েখ ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পল্টনের দিকে আসার পথে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার ও মারধর শুরু করে পুলিশ। এ সময় তারা মুহুর্মুহু ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পুলিশের নির্মম নির্যাতন ও গ্রেফতারের শিকার হয় অনেক পথচারী সাধারণ মানুষ। পুলিশ এ সময় পথচারী ও সন্দেহভাজনদের ব্যাগ করে। সকাল থেকেই পল্টন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে বায়তুল মোকাররম সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
সকাল সোয়া ৭টার দিকে আরামবাগ আল-হেলাল পুলিশ বক্সের সামনে থেকে শিবির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ফকিরাপুলের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সাড়ে ৯টার দিকে ফকিরাপুল ও আরামবাগের বিভিন্ন গলি থেকে রাস্তায় ছয়টি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টায় ফকিরাপুল ও আরামবাগ ইনার সার্কুলার রোডে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। সোয়া দশটার দিকে আরামবাগের কালভার্ট রোড থেকে শিবির কর্মীরা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে একটি মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে হামলা চালায়। মিছিলকারীরাও এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিত সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের গুলিতে পথচারীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। এ সময় একটি বাসে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষেরা আতঙ্কে চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকেন। পুলিশ এ সময় আশপাশে তল্লাশি করে ৬ জনকে আটক করে। একই সময় ফকিরাপুলে পুলিশের গুলিতে ডাব ব্যবসায়ী রুবেল আহত। পুলিশের টহল গাড়ি থেকে তাকে গুলি করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বেলা ১১টার দিকে রাজউক ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদি হাসানসহ পুলিশের ৪ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। এ সময় আরও ৮ পথচারী আহত হন। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখতে যান আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার।
জোহরের নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াত-শিবির মিছিল বের করতে পারে—এমন খবর পেয়ে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। র্যাবের পাশাপাশি এপিসি নিয়ে টহল ও থেমে থেমে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। ফুটপাতের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানে মিছিল না হলেও একই সময় গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজার মোড়, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামলী এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে সংগঠনটি। যাত্রাবাড়ীতে মিছিলে পুলিশ হামলা ও গুলি চালায়। এতে বেশ ক’জন আহত হন। এসময় বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ীতে তিন শিবিরকর্মীকে বেধড়ক মারধর করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। শ্যামলীতেও মিছিলে পুলিশ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গোলাপশাহ মাজারের কাছে অনুষ্ঠিত মিছিল-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আজ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ওলামা নেতা ফখরুল ইসলাম। বিকালের পর থেকে রাজধানীতে কিছুটা স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।
চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিল, সড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাঙচুর : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে সড়ক-মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ওলামা ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক অবরোধ এবং যানবাহন ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা। বিশেষ করে নগরীর প্রধান দুটি প্রবেশপথ সিটি গেট ও কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়। তবে পুলিশ তা অপসারণ করে। দুপুর ১২টার দিকে জামায়াত-শিবির চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে নগরীতে প্রবেশের প্রধান পথ সিটি গেট ও কর্নেল হাট, দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে নগরীতে প্রবেশের প্রধান সড়ক কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়া নগরীর বাকলিয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় এলোপাতাড়ি গাড়ি রেখে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করা হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ৯-১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে। নগর ও জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত-শিবির কর্মীরা সড়ক অবরোধের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন স্থানে বেশক’টি যানবাহন ভাঙচুর করে।
এদিকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় তিন-চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এসময় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের বাধার মুখে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এছাড়া মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। তবে এসব স্থানে ব্যারিকেড দেয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালায়। বিভিন্ন স্পট থেকে তারা ১০ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। কর্ণফুলী ব্রিজ ও কর্নেলহাট এলাকায় ব্যারিকেডের কারণে এক ঘণ্টারও বেশি সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ব্যারিকেড অপসারণ করলে পরস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রংপুরে সংঘর্ষে আহত ৩০, গ্রেফতার ২৪ : রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুরের মিঠাপুকুরে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শিবিরের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় ২৫ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল দুপুরে এ সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অপরদিকে নগরীর ভাঙ্গা মসজিদ এলাকায় দুপুর ২টার দিকে শিবির মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এসময় প্রায় ১০-১২ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জামায়াত নেতা হেলাল উদ্দিন, শাহ জালাল ও হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে কয়েকশ’ জামায়াত-শিবিরকর্মী নগরীর বাইরে বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে ১৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রংপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
খুলনায় শিবিরের মিছিল থেকে চার কর্মী আটক, ১ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা : খুলনা অফিস জানায়, পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রশিবির গতকাল দুপুরে নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।
অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে মহানগরী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফরাজীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মিম মিরাজ হোসাইন, মু. মহিউল ইসলাম মাহি, হাফেজ ইমরান খালিদ, হাদিসুর রহমান, একেএম তানজিল, আজগর মো. তাসনিম প্রমুখ। মিছিলের এক পর্যায়ে পুলিশ বাধা দেয় এবং ধরপাকড় চালায়। মিছিল থেকে আটকরা হলেন—মইন উদ্দিন, রুহুল আমিন, সাকিব ও আরাফাত হোসেন।
অপরদিকে খুলনার কয়রা উপজেলায় জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক হাজারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খায়রুল কবির জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশের এসআই হাশেম, এএসআই সোহরাব, এএসআই আকতার, এএসআই সুফিয়ান, কনস্টেবল দেলোয়ার, রহিত ও চঞ্চল আহত হন। এ ঘটনায় কয়রা থানা পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩৫ জনের নামোল্লেখ করে এবং অন্যদের অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে মোট ১ হাজার জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে। খায়রুল কবীর আরও জানান, এ পর্যন্ত এ মামলায় ৫০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যশোরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল : যশোর অফিস জানায়, বিভিন্ন দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বিকালে শহরের হোমিওপ্যাথিক কলেজের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি রবীন্দ্রনাথ সড়ক কাঁচাবাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার নূরুন্নবী, শহর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল ও শিবিরের শহর শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকশ’ নেতাকর্মী অংশ নেন। কারাগারে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে মিছিল থেকে স্লোগান দেয়া হয়।
কয়রায় ৪৫ জন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী আটক : কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি জানান, খুলনার কয়রা উপজেলায় জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। থানা পুলিশের রাতভর সাঁড়াশি অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে এবং গতকাল সকাল পর্যন্ত ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের বেশিরভাগ জামায়াত-শিবিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় জামায়াত-শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মী আটক : দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঢাকা যাওয়ার পথে গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় পুলিশ জামায়াত-শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মী আটক করেছে।
দাউদকান্দি থানার ওসি তদন্ত মো. নাসিম উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নাশকতার কাজে ঢাকা যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী টোলপ্লাজায় পুলিশ গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার রায়কে সামনে রেখে ঢাকায় ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশে তারা ঢাকায় যাচ্ছিল বলে পুলিশের নিকট তারা স্বীকার করেছে।
চাটখিলে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা : চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকালে চাটখিল উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে চাটখিল আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুজ্জামান, পৌরসভা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, পৌরসভা জামায়াত সেক্রেটারি ডা. হারুন উর রশিদ, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন হাসান, শিবির সভাপতি আজগর আলী, মমিনুল ইসলাম পাটোয়ারী প্রমুখ। শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মিছিলটি চাটখিল আলীয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে আরম্ভ হয়ে চাটখিল পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণ বাজারের জামায়াত কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
আয়োজক সংগঠনের প্রতিবাদ : মুুফাসসিরিন, উলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ ও জনতার মঞ্চের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ এবং সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলা, টিয়ারসেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ, গুলীবর্ষণ ও গণহারে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ মুফাসসিরিন, উলামায়ে কিরাম ও পীর-মাশায়েখ নেতারা। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, উলামা-মাশায়েখদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা বর্বর হামলা চালিয়েছে। এসময় রাজধানীতে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া আটক করা হয়েছে ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৫০ জন।
জামায়াতের প্রতিবাদ : মুফাসসিরিন, ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ ও জনতার মঞ্চ কর্তৃক আহূত গতকাল ঐতিহাসিক পল্টন মোড়ের গণজমায়েত করতে না দিয়ে তাদের ওপর পুলিশের ব্যাপক হামলা ও গুলিবর্ষণ এবং মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলে ব্যাপক হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের মুফাসসিরিন, ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ ও জনতার মঞ্চের পক্ষ থেকে বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কোরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধী অভিহিত করে বিচারের নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করার প্রতিবাদে, ন্যায় বিচার ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এবং দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আজ ঐতিহাসিক পল্টন মোড়ে গণজমায়েতের ঘোষণা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু সকাল থেকেই হাজার হাজার পুলিশ পল্টন এলাকা ঘিরে রাখে। পুলিশ মুফাসসিরিন, ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ ও জনতাকে সমাবেশ করতে না দিয়ে বেআইনিভাবে তাদের ওপর হামলা চালাতে থাকে। পুলিশ শত শত রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। তাতে শতাধিক আহত হয়েছে। পুলিশ পল্টন, বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলা মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। গ্রেফতার করেছে প্রায় ৪ শতাধিক লোককে।
সরকারের অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে আওয়ামী মহাজোট সরকার ও মহাজোটের শরীকরা পরিকল্পিতভাবে শাহবাগে সমাবেশ করে ইসলামী আদর্শ, ইসলামী দল ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারপূর্ণ উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
শিবিরের প্রতিবাদ : অপরদিকে আলেম সমাজকে গণজমায়েত করতে না দেয়া, জামায়াত-শিবিরের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে বাধা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের বর্বর হামলা, নির্বিচার গুলিবর্ষণ, নির্যাতন, দেশব্যাপী গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতারা।