১০ বছরে ৯ লাখ হিন্দু কমেছে

শিশির মোড়ল | তারিখ: ২২-০৯-২০১২

  • ৪৮ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো

সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো

২০০১ ও ২০১১ সালের শুমারির জেলাভিত্তিক তথ্য পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, ১৫টি জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা কমে গেছে। বিবিএসের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব জেলার হিন্দুরা দেশের অন্য কোনো জেলায় চলে গেছে, পরিসংখ্যান তা বলছে না। অর্থাৎ, অন্য জেলায়ও হিন্দু জনসংখ্যা বাড়েনি। কর্মকর্তারা এদের বলছেন, ‘মিসিং পপুলেশন’ বা ‘হারিয়ে যাওয়া মানুষ’।
বরিশাল বিভাগের কোনো জেলাতেই হিন্দুদের সংখ্যা বাড়েনি। বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা—এই ছয়টি জেলায় ২০০১ সালের আদমশুমারিতে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল আট লাখ ১৬ হাজার ৫১ জন। ২০১১ সালের শুমারিতে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৬২ হাজার ৪৭৯ জনে।
খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা—পাশাপাশি এই তিন জেলায় হিন্দুদের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। বিভাগের নড়াইল ও কুষ্টিয়া জেলার প্রবণতা একই। ঢাকা বিভাগের মধ্যে এ তালিকায় আছে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলা। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলায়ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে হিন্দু বাড়েনি।
স্বাধীনতার আগের দুটি ও পরের পাঁচটি শুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট জনসংখ্যার তুলনায় হিন্দুদের সংখ্যা ও হার কমেছে। মুসলমানদের সংখ্যা ও হার সব সময়ই বেড়েছে। বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর হার মোটামুটি একই ছিল বা আছে।
প্রবীণ রাজনীতিক ও গণঐক কমিটির আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রদায়িক আবহ তৈরি করে সম্প্রীতি নষ্ট করায় এমনটা ঘটছে। জামায়াতের মতো শক্তিগুলো পরিকল্পিত ও নিয়মিতভাবে নানা ঘটনা ঘটাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, কুড়িগ্রামের চিরিরবন্দরে ধর্মীয় জিগির তুলে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না, তাদের আশ্বস্ত করছে না। নীরবে তাই দেশত্যাগ হচ্ছেই।
কেন কমছে: একাধিক শুমারির প্রতিবেদনে হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট—টিএফআর) তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এর পক্ষে কোনো তথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাছে চেয়ে পাওয়া যায়নি।
তবে গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ভোলার বিভিন্ন গ্রামে কথা বলে জানা গেছে, হিন্দুদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বড় কারণ দেশত্যাগ। কয়েকটি জেলার লোকজন বলেছেন, ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগের সময় থেকে এই ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা স্বাভাবিক প্রবণতা। কেউ বলেছেন, মূল কারণ শত্রু সম্পত্তি আইন। বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের চাপ ও নির্যাতনে পড়তে হয় হিন্দুদের। অন্যদিকে ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তার আঁচও লাগে এ দেশের হিন্দুদের গায়ে।
‘বুক বেঁধে দাঁড়াবার সংস্কৃতি কমে গেছে’—এমন মন্তব্য করেছেন ড. আনিসুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইমেরিটাস অধ্যাপক বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার অভাববোধ বাস্তব ও অনুমিত। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে কিছু লোক নানা ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে কিছু নেতা বা রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সেই প্রতিশ্রুতি পালিত হয় না, কর্মী পাওয়া যায় না।
আতঙ্ক আছে চাঁদশী-ইল্লা-ধানডোবায়: বরিশাল জেলার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে বেশ কিছু হিন্দু পরিবার ২০০১ সালের পর এলাকা থেকে চলে গেছে।
ধানডোবা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মনোজ বৈদ্য তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনের দুই দিন পর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আর ফিরে আসেননি। মনোজের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই নির্বাচনের পরদিনই বিএনপির কর্মীরা গ্রামের হিন্দু ও খ্রিষ্টানবাড়িতে আক্রমণ ও লুটপাট করেন। তাঁরা মনোজের বাড়ি থেকে গরু, ধান নিয়ে যান। পানের বরজ নষ্ট করেন।
ইল্লা গ্রামের কালীপদ দফাদার, সুবল দফাদার, মন্টু দফাদার, জয়দেব নন্দীর পরিবারও দেশ ছেড়ে চলে যায় ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাসের কারণে। একই কারণে সুতারবাড়ি গ্রামের আদিত্য নাগ ও সুবল দে পরিবার নিয়ে দেশ ছেড়েছেন।
৩ নম্বর চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত দে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর নিজের পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশীসহ অনেক পরিবারে আক্রমণ, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ইউনিয়ন থেকে কোনো পরিবার এলাকা ছেড়ে যায়নি। তবে অনেক পরিবারের অংশবিশেষ দেশে থাকে না। তিনি বলেন, ‘ধরেন, কোনো পরিবারে পাঁচ ভাই আছে, তাদের দুই ভাই দেশে থাকে না।’
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ বলেন, সম্মান রক্ষায় অনেক বাবা-মা অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন, অথবা ভারতে রেখে স্কুলে বা কলেজে পড়াচ্ছেন। তবে তিনি দাবি করেন, দেশত্যাগের প্রবণতা কমেছে। শত্রু সম্পত্তি (অর্পিত সম্পত্তি) নিয়ে সরকারের উদ্যোগ পুরোপুরি সফল না হলেও সংখ্যালঘুরা আশা করছে, সম্পত্তি আর হাতছাড়া হবে না বা হাতছাড়া সম্পত্তি ফেরত পাবে। এখন বড় বড় শহরে হিন্দুরা বাড়ি করছে, ফ্ল্যাট কিনছে।
ভোলার পরিস্থিতি: বিবিএস পরিসংখ্যান বলছে, ভোলা জেলায় ২০০১ সালে হিন্দু ছিল ৭২ হাজার ২৭৫ জন। সর্বশেষ শুমারিতে দেখা যাচ্ছে, জনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ১৬২ জনে।
ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের নলগোড়া গ্রামের সাধু সিংয়ের বাড়িতে ছিল ছয়টি পরিবার। পরিবারের প্রধান ছিলেন লক্ষ্মী নারায়ণ সিং। লক্ষ্মী নারায়ণ ১৯৯২ সালের পরে জমিজমা বিক্রি করে চলে যান। ওই গ্রামের লোকজন প্রথম আলোকে বলেছেন, ১৯৯২ সালের পর থেকে হিন্দু পরিবারগুলো চলে যেতে শুরু করে। ওই সময় বাররি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে ভারতে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার হয় এই গ্রামের মানুষ।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরও অনেক পরিবার চলে গেছে। গ্রাম ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯২ সালের পর থেকে সুতারবাড়ির চারটি, ডাক্তারবাড়ির ১০, মাঝের সিংবাড়ির ছয়, রাস কমল হাওলাদার বাড়ির সাত, লক্ষ্মীকান্ত হাওলাদার বাড়ির তিন, তীর্থবাস হাওলাদার বাড়ির সাত, পরেশ হাওলাদার বাড়ির সাত, তেলীবাড়ির তিন, রাধেশ্যাম সুতারবাড়ির তিন, মন্টু হাওলাদার বাড়ির এক এবং রাড়ি বাড়ির সব কটি পরিবারসহ গ্রামের ৭৫টি বাড়ির দুই শতাধিক পরিবার চলে গেছে।
উপজেলার নলগোড়া, লেজপাতা ও চরগুমানী—এই তিনটি গ্রাম ছিল হিন্দু-অধ্যুষিত। স্বাধীনতার সময় এই গ্রামে চার শতাধিক বাড়ি ছিল। এই গ্রামগুলোর ১৭২টি বাড়ির কয়েক শ পরিবার চলে গেছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এক হাজারের বেশি হিন্দু পরিবার ছিল। বর্তমানে সেখানে আছে ৪৪টি পরিবার।
লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে চারটি গ্রাম ছিল হিন্দু-অধ্যুষিত। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এই ইউনিয়নে চার হাজার ৬০০ হিন্দু ভোট ছিল। ইউনিয়নের অন্নদাপ্রসাদ গ্রামের যাত্রামণি লস্কর বলেন, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের ঘটনা ও ২০০১ সালে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গ্রামগুলোর অধিকাংশ হিন্দু পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের দেওয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, বর্তমানে ইউনয়নে হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ৬০০।
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগের একক প্রাধান্য। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, দলটির সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সুসম্পর্ক আছে। স্বাধীনতার পর জেলায় সাম্প্রদায়িক সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও উল্লেখ করার মতো নয়। তার পরও এই জেলা থেকে নিয়মিতভাবে হিন্দুরা চলে যাচ্ছে। ২০০১ সালে এই জেলায় হিন্দু ছিল তিন লাখ ৭১ হাজার ৬২৯ জন। ১০ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৪ জনে।
জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ সাংবাদিক প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘শত্রু সম্পত্তির’ নির্যাতন চেপে আছে প্রায় ৫০ বছর ধরে। এরপর বড় আঘাত আসে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার মধ্য দিয়ে। এসব ব্যাপারে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছেন, উপযুক্ত হওয়ার পরও জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পদ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পায় না। সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সংসদে হিন্দু শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ পদ সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। ছোট গোপালগঞ্জ শহরে বড় দলের নেতারা সংখ্যালঘুদের বাড়ি-সম্পত্তি দখল করে দিব্যি বসবাস করছেন। এসব দৃশ্য দেখে নিরাপদ বোধ করে না হিন্দুরা।
গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সম্পর্কে কাজল দেবনাথের মন্তব্য, ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার।’
উদ্যোগ নেই: দেশত্যাগ বন্ধের উদ্যোগ এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোপালগঞ্জ জেলার একজন চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘নিরাপদে জমি-বাড়ি যেন বিক্রি করতে পারে, সে ব্যাপারে কিছুটা সাহায্য করার চেষ্টা করি। থেকে যেতে বলতে পারি না।’
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদ্যাপন পরিষদ মাঝেমধ্যে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে সভা ও সেমিনার করে। এসব সভা-সেমিনারে দেশ না ছাড়ার, নির্যাতনের প্রতিবাদ করার কথা বলা হয়। কাজল দেবনাথের দাবি, এতে কাজ হচ্ছে।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নেয়ামতউল্লাহ (ভোলা প্রতিনিধি), সুব্রত সাহা (গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি) ও জহুরুল ইসলাম (গৌরনদী, বরিশাল প্রতিনিধি)]

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Sumanta Barman, Germany

Sumanta Barman, Germany

২০১২.০৯.২২ ০২:৩০
আমার পরিবার ভুক্তভুগিদের মধ্যে একটি। আমাদের সম্পত্তির বড় একটা অংশ অন্যদের দ্বারা দখল হয়ে গিয়েছে, আর আমার দাদু বাড়ির (নানা বাড়ি) পুরুটাই দখল হয়ে গেছে অন্যদের দ্বারা। আমার নানা বাড়ির কেউই আর নেই বাংলাদেশে। আমার পরিবারের সদস্যরা আর কয়দিন থাকতে পারবে বাংলাদেশে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আমার আত্মীয়স্বজন দের অনেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছে বিভিন্ন দেশে....সর্বশেষ বাকি আছে আমার পরিবার...... জানি না কতদিন থাকতে পারবে জন্মভুমিতে.......বুকের মাঝে অনেক কষ্ট, নানা বাড়ি দেখি না সেই কত দিন হল....জানি না আবার একই কষ্ট পেতে হয় কিনা নিজেদের বাড়ির জন্য....... জানি যে এখানে দুই চার লাইন লিখে কিছুই হবে না, তবুও লিখলাম...............

Liton Biswas

Liton Biswas

২০১২.০৯.২২ ০২:৪২
Very sad newse as i am a hindu but i never wanna leave my country. because of this is my country and i love my country. from my heart..

SAGAR BISWAS

SAGAR BISWAS

২০১২.০৯.২২ ০৪:১২
হিসাব আমার মনে হয় ৫০ লাখ এর মত হতে পারে

Md. Salah Uddin

Md. Salah Uddin

২০১২.০৯.২২ ০৬:১৫
আমি আপনার প্রতিবেদনের সংখ্যাতত্ত্ব বিষয়ে একমত। কিন্তু আপনি সম্ভবত সঠিক কারণটি ব্যাখ্যা করেননি।
২০১২.০৯.২২ ০৮:৩৫
শত্রু সম্পত্তি আইন - এর মূল কথা রিপর্টটিতে উল্লেখ থাকলে আমাদের বুঝতে একটু সুবিধা হতো। কোন পাঠক কি দয়া করে লিখবেন - শত্রু সম্পত্তি আইন কি এবং এর দ্বারা হিন্দু সম্প্রদায় কি ভাবে সম্পত্তি হারাতে পারে?

saifuddin

saifuddin

২০১২.০৯.২২ ০৮:৪৫
হিন্দুর সংখ্যা কেন কমছে সেটা সকলেই বেশী বেশী জানে ,কিন্তু সাহস করে কেউ কিছু বলে না।
প্রতিবেদনে অনেক কথা এসেছে ,আরও কথা আছে যা বললে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

Syed Shah

Syed Shah

২০১২.০৯.২২ ০৮:৫৮
We need to bring about changes in our collective mindset. Communal feelings towards minorities, spurious sense of superiority of individual religious-cultural practices, insularity, ignorance and greed to occupy their properties are contibuting factors to widespread sense of insecurity. These are symptoms of a failed society in which people have no trust in legal systems, and mistrust in the systems of governance. Rule of law, equal protection of law and a general respect for minority rights can contibute to building a more robust, democratic Bangladesh in which seperation of state and religion must be implemented in practice.
২০১২.০৯.২২ ০৯:২৮
A good report, thanks.

Sarfaraj Alam

Sarfaraj Alam

২০১২.০৯.২২ ০৯:৪৫
rightly said Syed Shah

alam

alam

২০১২.০৯.২২ ১০:১৫
আমার এক হিন্দু রুমমেট চাচার পরিবারও আগামি মাসের এক তারিখের দিকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সব সিদ্ধান্ত ঠিক রয়েছে।

২০১২.০৯.২২ ১০:২৫
When a person can understand that his/her neighbour's has the opposit mentality then they first try to avoid that neighbour and finaly leave the place.

bimol

bimol

২০১২.০৯.২২ ১০:২৮
বাংলা লোকগীতির কালজয়ী বাউল শাহ আব্দুল করিম এর বিখ্যাত গান " গ্রামের নও- জোয়ান, হিন্দু-মুসলমান, এক সাথে গাইতাম জারি- সারি, বাউল আর মুরসিদি গান, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম" ।

Protap

Protap

২০১২.০৯.২২ ১০:৩০
This is the largest Ethinic cleansing ever............

২০১২.০৯.২২ ১০:৪৫
বাংলাদেশের আদমশুমারি তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয় ।

akash ahmed

akash ahmed

২০১২.০৯.২২ ১১:১২
এটা মেনে নেয়া যায় না।কয়জন ভারতীয় আমাদের দেশে এসেছেন?কেন ভারতের সংখ্যালঘুরা এদেশে বা পাকিস্তানে আসেন না?কারন তারা ভারতে খুব ভালোই আছেন।ভারত একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ,এজন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।বাংলাদেশ পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হোক এটাই কামনা করি।ধর্ম যার যার কিন্তু এই রাষ্ট্র সবার।এখানে একজন মুসলিম যা পাবে,একজন হিন্দুও তাই পাবে,একজন বৌদ্ধও তাই পাবে,একজন খ্রিস্টানও তাই পাবে,একজন নাস্তিকই তাই পাবে।এটাই মহান হবার সংজ্ঞা।

akash ahmed

akash ahmed

২০১২.০৯.২২ ১১:১৩
@Syed Shah,Righteous person you are! I fully support you.You should separate religion from state completely before it is too late like pakistan.

sojol sarty

sojol sarty

২০১২.০৯.২২ ১১:১৫
বেদনাদায়ক বাস্তবতা। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, নানা সময়ে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও নিপিড়নসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপদত্তার অভাববোধ এর প্রধান কারণ।

Biplob chandro sil

Biplob chandro sil

২০১২.০৯.২২ ১১:১৭
জন্ম আমার ধন্য হল।।
কি সুন্দর পরিসংখান! যেখানে দেশের জনসংখ্যা দিন দিন মাত্রারিক্ত হারে বাড়ছে, সেখানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমতে কমতে তলানির দিকে যাচ্ছে! খুব ভাল লাগছে.. হয়তো আমার প্রিয় দেশটিতে আমি আর বেশীদিন থাকতে পারব না। :
স্বাগতম গণতন্ত্র, স্বাগতম স্বাধীন দেশের স্বাধীন কার্যকলাপকে।

rafsan rafy

rafsan rafy

২০১২.০৯.২২ ১১:২৫
হিন্দু ভাই বোনেরা যাতে এই দেশকে নিরাপদ ও নিজের দেশ মনে করতে পারেন, সেইটা বুঝানোর জন্য সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, এখানে কোন ধরনের ভয় নিয়ে বসে থাকা ঠিক না। আওামিলিগ সরকারের আমলেও এমনকি গোপালগঞ্জেও হিন্দু ভাই ও বোনেরা নিরাপদে থাকতে পারতেসেন না, এইটা খুবই দুঃখজনক। তবে আমি এটাও বলব বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কখনই ভারতের মত এতো খারাপ ছিলনা। এখনো নাই। আমি সিলেটে থাকি, এখানে ছোটবেলা থেকেই হিন্দু-মুসলিমের সুন্দর সহাবস্থান দেখেই বড় হয়েছি। কখনই হিন্দু সম্প্রদায়কে আমি বা আমার পরিবার পর মনে করিনি। আমার মা সারা জীবন এক মহিলা হিন্দু চিকিৎসকের কাছে যেতেন। আমি যে সুপার স্টোরে প্রায়ই বাজার করতে যাই, সেটাও হিন্দু এক ভাইয়ের।
২০১২.০৯.২২ ১১:৫৩
ধন্যবাদ এই মানবিক প্রতিবেদনের জন্য ।
২০১২.০৯.২২ ১২:৩৮
নিউজটি খুবি স্পর্শকাতর ।

ras

ras

২০১২.০৯.২২ ১২:৪৬
প্রথম আলো কে ধন্যবাদ চমৎকার রিপোর্টটির জন্য।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের মিডিয়াও সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে ততটা মনযোগি নয়। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ব্যাপারগুলো বিচ্ছিন্ন ব্যপার হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়।
আমাদের বুঝতে হবে দেশত্যাগ কোন সমস্যার সমধান হতে পারেন।...আমরা যদি পরষ্পরের বিপদে পাশে না দাঁড়াই, অতীক ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেই, তবে আমরা সারাজীবন শুধু এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতেই থাকব । শান্তি কোথাও পাব না।

M Z HAQ

M Z HAQ

২০১২.০৯.২২ ১২:৫১
This is what happens when you begin the Constitution with the name of a particular religion and declare one single religion as state religion.
২০১২.০৯.২২ ১২:৫১
পাকিস্তানে বৃষ্টি হলে এদেশে ছাতা ধরার লোক যেমন আছে, তেমনি ভারতে বৃষ্টি হলে এদেশে ছাতা ধরার লোকেরও অভাব নেই।

mdmuzib

mdmuzib

২০১২.০৯.২২ ১২:৫৫
আপনার এই প্রতিবেদনের সাথে কিছুতেই একমত হতে পারছিনা বলে দুঃখিত ।

Irfan Ahmed

Irfan Ahmed

২০১২.০৯.২২ ১৩:১০
এই দেশ কোন একক ধর্মের দেশ নয়। হিন্দু ভাইবোনদের উচিত কোন অবস্থাতেই মাতৃভূমি ত্যাগ না করা। মাতৃভূমি স্বর্গাদপি গরিয়সী।

মনিরুজ্জামান

মনিরুজ্জামান

২০১২.০৯.২২ ১৩:১২
আমার কলেজের বন্ধু চন্দন ঘোষাল ওর পরিবারের সাথে ভারত জেতে রাজি হয় নি, এটা ওর ও দেশ , আমি চন্দন কে বলেছিলাম তোর যদি এ দেশ ছেড়ে যেতে হয় তবে এ দেশ আমার ও না, আজ চন্দন কানাডা আর আমি সিঙ্গাপুরে

shawkat Ali

shawkat Ali

২০১২.০৯.২২ ১৩:২০
খুব লজ্জাজনক তথ্য।

Monosha Nandan Singh

Monosha Nandan Singh

২০১২.০৯.২২ ১৩:২৮
সঠিক কারণটা সমাজ সচেতন মানুষ প্রত্যেকেই জানে কিন্তু মুখে বলতে পারে না। বুঝতেই পারছেন সত্য বললে কি হয়।আমার বেলাতেও তাই।

Ali Naser

Ali Naser

২০১২.০৯.২২ ১৩:৩৬
@akash ahmed
২০১২.০৯.২২ ১১:১২
আপনার প্রথম দুইটি লাইন সম্পর্কে আমি একমত হতে পারলাম না। আপনার বাড়ি যদি বাংলাদেশের সিমান্তবর্তী কোনো জেলায় হলে আপনার কিছুটা ধারনা থাকত যে কি পরিমান মুসলমান পরিবার প্রতিবছর বাংলাদেশে চলে আসছে। যারা আসছে তারা বেশিরভাগ হয় অত্যাচারিত হয়ে না হয় স্বাধীন ভাবে ধর্ম কর্ম করতে না পেরে।

Akash

Akash

২০১২.০৯.২২ ১৪:০১
ভাই অনেক তো লিখলেন কিন্তু হিন্দুরা যেই তিমির সেই তিমিরেই তো রয়ে গেল, আবার নির্বাচন আসছে , আমিতো বলব আবার নির্যাতন আসছে!

Md. Rabiul Islam

Md. Rabiul Islam

২০১২.০৯.২২ ১৪:৩৭
রিপোর্টটির সাথে পুরোপুরি এক মত হতে পারলামনা কারন আমার দেশ অসাম্প্রদায়িক যার নজির অহরহ আছে।
২০১২.০৯.২২ ১৪:৪৪
সঠিক ব্যাপার গুলো আসছে লেখায়। আমার পরিবারের সবাই ভারতে শুধু আমরা ছাড়া। আমরা দেশে থেকে ১৪ বছর ধরে মামলা করছি তার সাথে যার কাছে কোনোদিন আমরা কোনো কিছু বিক্রি করিনি বা কিনি নি। এধরনের অনেক সমস্যা আছে। সরকারের উচিত কিছু পদক্ষেপ নেয়া।
২০১২.০৯.২২ ১৪:৫৬
যে রাষ্ট্র তার সকল সন্তানকে সমান মর্য্যাদা, সুযোগ, সুবিধা, সুরক্ষা ও ভালবাসা দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের উন্নতিও কোনোদিন হয় না। ইতিহাস তাই বলে । নির্যাতিতদের হাহাকার ও দীর্ঘনিঃশ্বাস সেই উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরকে পদপিষ্ট করে কারো ভাল কোনোদিন হয় নি, হবেও না। হিন্দুদের কথা যদি ভাবতেই হয়, তাহলে প্রথমেই বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসাবে ঘোষণা করা উচিৎ। কথা নয়, কাজ চাই।

Sojun Kanthi

Sojun Kanthi

২০১২.০৯.২২ ১৫:০৬
It is sad to hear this news but we need to find out the principal reason.

dibakar .

dibakar .

২০১২.০৯.২২ ১৬:০১
শত সহস্র ধন্যবাদ প্রথম আলো ।
২০১২.০৯.২২ ১৬:১২
It's normal & real

Monzur

Monzur

২০১২.০৯.২২ ১৬:৪৩
এটি আমাদের ব্যর্থতা আমরা দেশের অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধরে রাখতে পারছি না।

Biplob Roy Genis

Biplob Roy Genis

২০১২.০৯.২২ ১৬:৪৯
এমন প্রতিবেদন এর আগে কোনদিন কোন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছিল কিনা,আমার জানা নেই। তাই, প্রথম আলোকে শুধু ধন্যবাদ দিলেই হয় না। বলতে হচ্ছে-প্রথম আলোর তুলনা, কারো সাথে চলে না।

ranajit

ranajit

২০১২.০৯.২২ ১৭:২৬
অামি মনে করি প্রকৃত সংখ্যাটা অারো বেশী হবে । বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে গেলে বুঝা যাবে কি বিপুল পরিমান হিন্দু জনগোষ্ঠী দেশান্তর হয়েছ
২০১২.০৯.২২ ১৭:৪২
@Sumanta Barman Da I agree with u. আরো দুঃথের কথা কি জানেন কোন এক কারনে হিন্দু ক্ষত্রিয় বর্মনরা (Varma/Varman) আজ বাংলাদেশে আদিবাসী তে পরিনত হয়েছে । অথচ ভাষাগত/সামাজিক আচার কখনই বাংগালীদের চেয়ে ভিন্ন নয় ।

sozin syed

sozin syed

২০১২.০৯.২২ ১৭:৪৬
বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের হিন্দু সমাজের আত্মত্যাগ অতুলনীয়। তারা নিজের মাতৃভূমীর জন্যই তা করেছিলেন সুতারাং মাতৃভূমী ছেড়ে যাবেন কেন? বরং স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি হায়েনার তাবেদার ঘৃন্য যুদ্ধাপরাধীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া দরকার। দেশের সার্বভৌমত্বের সার্থে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এক থাকতে হবে। বাংলাদেশ সব ধর্মের দেশ। একমাত্র যুদ্ধাপরাধী ছাড়া সকলের থাকার অধীকার আছে এই দেশে।

Mohammed Khan

Mohammed Khan

২০১২.০৯.২২ ১৮:১০
দেশের জন্য সংবাদটা মোটেই ভাল নয়।

Abdur Rahman Sheikh

Abdur Rahman Sheikh

২০১২.০৯.২২ ১৯:১৫
ছোটবেলায় আমাদের এলাকায় অনেক হিন্দু পরিবার ছিল। আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বাল্যবন্ধুও একজন হিন্দু ছেলে। আস্তে আস্তে তাদের অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে চলে গেছে, আর তাদের সাথে বিনিময় করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক মুসলিম পরিবার আমাদের এলাকায় এসেছে। অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় এই মানুষগুলি সত্যিই খুব হতভাগা। দেশে থাকলে তারা সংখ্যালঘু, দেশ ছাড়লে তারা রিফুজি। ভারত থেকে আসা মুসলিম পরিবার গুলির সাথেও এলাকার মানুষ মোটেও ভালো ব্যাবহার করেনা। বিয়ে ও অন্যান্য কাজে সামাজিকভাবে তাদেরকে হেয় করা হয়। আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে তুলনামুলকভাবে ভারত-পাকিস্তান থেকে ভালো, তারপরও আমাদের মন-মানসিকতার আরো পরিবর্তন দরকার।

Rayhan

Rayhan

২০১২.০৯.২২ ১৯:১৯
We should do something to protect the minority, please take immidiate action...

surjya

surjya

২০১২.০৯.২২ ১৯:৩৮
Never wrote any comments in newspaper. But can't stop myself that time. The news is greathope that will change one day and we can come back to our lovely homeland..

Ahmed

Ahmed

২০১২.০৯.২২ ২০:২৬
Congratulation PROTHOM-ALO and its reporter for publishing this report

Kamal

Kamal

২০১২.০৯.২২ ২৩:২৪
জেলার একজন চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘নিরাপদে জমি-বাড়ি যেন বিক্রি করতে পারে, সে ব্যাপারে কিছুটা সাহায্য করার চেষ্টা করি। থেকে যেতে বলতে পারি না।’ আরও ভালো ভাবে বললে কিভাবে কম পয়সায় ও ঠকিয়ে বিদায় দেওয়া যায় । ধর্মর নামে দেশ ভাগ থেকে শুরু হলো অন্যায়.আজো থামেনি । দুনিয়াতে শুধু ধর্মগুলোর নাম নিয়ে যত অন্যায়,অবিচার একক ভাবে হয়েছে তা বোধকরি আর কিছুতে হয়নি । এসবই মানবতার বিরোধী ।
old version
শুক্র
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ