'ফজলে এলাহি মুজাহিদ' -এর ব্লগ

হাসতে গেলে হৃদয় মাঝে আর্তনাদই বিঁধে...

কি ঝরাবো কুরবানীতে পশুর তাজা রক্ত আর

বিশ্বজুড়ে মুসলমানের রক্তঝরা নিত্যকার,

হৃদয় জুড়ে বইছে তুফান কি আনন্দ ঈদে

হাসতে গেলে হৃদয় মাঝে আর্তনাদই বিঁধে!

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ব্লগিংয়ের প্রতি আবারো একটা 'টান' অনুভব করছি। একটা সময় ছিল যখন অবসরের সামান্য ছাড়া সবটুকুই ব্লগিং, লেখালেখি, ছবি এডিটিং ইত্যাদি ভার্চুয়াল কাজে ব্যয় হতো। তখন সবাই বলতো, 'সময় নষ্ট করছি'।

আরো নানা কারণে ব্লগিং তথা লেখালেখি থেকে হাত গুটিয়ে নিলাম। ময়দানী কাজে সময় দিলাম বেশী। কিন্তু এখন মনের মাঝে একটা 'সমন্বয়' ভাব অনুভব করছি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

স্মৃতি, শিশুর সরল প্রশ্ন ও আমার অসহায়ত্ব

মেয়েটার ক্ষতির কোন চিন্তাই মাথায় এলো না; বরং সন্তানের মাকে নিয়ে ছিল সবটুকু ভয়। বার বার এমন সব সমস্যার কথা জেনেছি যে, নিজেও শংকিত হয়ে পড়েছিলাম। অপারেশন থিয়েটারে যাবার প্রাক্কালে এমন ভাবে বিদায় নিচ্ছিলো যেন এই বুঝি শেষ দেখা। মনটা আরো ছোট হয়ে পড়েছিল। দারুন উৎকণ্ঠায় প্রতিটি মুহূর্ত যেন দীর্ঘ প্রহর। কিন্তু দেখলাম, চিন্তায়, ক্লান্তিতে অথবা আল্লাহর রহমতে অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। কিছুটা সময় মাত্র, তবুও মাথাটা হালকা হলো যেন।

অপেক্ষা করছিলাম, কখন ডাকবে। ডাক এলো, ভেতরে গেলাম, শিশুদের জন্মোপরের প্রাথমিক অবস্থা রিপোর্ট করার বাংলাদেশী ডাক্তার জানালেন, বাচ্চার অবস্থা ভালো না। তবে বাচ্চার মা ভালো আছেন। তখনো মনে স্থান দেইনি, অনুমতি নিয়ে কানে আযান শোনালাম। জানিনা, মা আমার শব্দ শুনতে পেয়েছিল কি না। নিদারুন এক হেঁচকি তাকে যেন সংজ্ঞাহীন করে রেখেছিল তাকে। তবুও আশাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আনন্দিত হবার চেষ্টা করলাম। না! ডাক্তার আমাকে আতংকের কথা শোনাতে লাগলেন। ধীরে ধীরে পায়ের তলার মাটিও যেন নরম হতে থাকলো। আমি দেয়াল ধরে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করতে থাকলাম।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

"আসমাউল হুসনা প্রদর্শনী" মদীনা সফরকারীদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ

معرض اسماء الله الحسنى - المدينه المنورة

মহান আল্লাহর নামসমূহ নিয়ে Exhibition বা প্রদর্শনী।

মসজিদুন্ নববীর পশ্চিমের লোহার সীমানা ঘেঁষে একটি দালান উঠি উঠি করছে বিগত বেশ ক'বছর থেকে। কিন্তু তার উঠাই শেষ হচ্ছে না। এমনটি অবশ্য এদেশে নতুন নয়; বিভিন্ন স্থানে এরকম আরো স্থাপনা দেখা যায় যেগুলো শেষ হয় না অথবা শেষ না হতেই তাদের ভেঙ্গে পড়তে হয় আঁতুড়েই। 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

দিন-কালের দরজায় ঠক্ ঠক্ ঠক্

আসসালামু আলাইকুম।

কেমন আছেন সবাই? অনেক দিন ব্লগে আসা হয়নি। মাঝে
অনেক পানি গড়িয়েছে গঙ্গা-মেঘনা-যমুনা-পদ্মায়। লোহিত সাগরেও নেচেছে অনেক
ঢেউ। কিন্তু ওরা কেউ নাচাতে পারেনি অন্তর। মোহে মোহে কেটে গেছে অনেকটা কাল।
ভুলে থেকেছি, তা কখনো হয়নি। ব্লগ না লিখলেও নযরকে বুলিয়ে যেতে ভুলিনি।

পুরোনো
অনেক নাম খুঁজে খুঁজে দেখি। লেখাগুলো পড়ার চেষ্টা করি। একটা টান অনুভব
করি। নতুনদের সাথে পরিচয় হয়নি, তাই খোঁজা হয়না। নিয়মিত হতে পারলে ধীরে ধীরে
সবাই পুরোনো হয়ে যাবে। ভালো লাগে নতুন প্রতিভা দেখতে। তবে আনন্দ অনুভব করি
যখন দেখি, সত্যের পক্ষে তাদের কীবোর্ডে ঝড় উঠে। আফসোস হয় অনন্য
প্রতিভাগুলোকে যখন দেখি, জেনে বুঝে অথবা নিছক মোহের বশে মিথ্যা পক্ষাবলম্বন
করে নর্তন কুর্দন করে যায়। আহাঃ কি অসাধারণ মেধাগুলো রীতিমত ডাস্টবিনে
নিক্ষিপ্ত হচ্ছে প্রতিদিন একটু একটু করে।

একটি ব্যাপার ভেবে আজো
হাসি। শুরুর দিকে যখন ব্লগ লেখা শুরু করি, তখন ভাবতাম, ব্লগ ছেড়ে বাঁচবো কি
করে। আজো সেসব অনুভূতি নাড়া দেয় অন্তরে। অথচ জীবনের টুকরো টুকরো কাজগুলো

আপনার রেটিং: None

চেরাপুঞ্জির ঝর্ণা হতে সুরমার শীতলতায়-১

শৈশবের রেশ কেটে উঠিনি তখনো, যেমন কাটেনি ভোরের রেশও, সেদিনের সকালে। কিছু আগেই তো শেয়ালের ডাকে দুরু দুরু বুকে হাতুড়ি-কাঠে পেরেকের ঠুকাঠুকি অবস্থা আর ভোর-পূর্ব সোবহে সাদিকের ঠাণ্ডায় যেন কনকন শব্দ হচ্ছিল। তারও আগে কাঁথার আদরে বেঘোরে নিদ্রিত ছিলাম নানার আদরে। অনেক টানা-হিঁচড়ার পর চোখ মেললাম, শিশুবেলা আর ছেলেবেলার ঘুমটা এমন ছিল যে, চোখ জাগলেও কান জাগতে জাগতে কিছুটা সময় নিত। অবশেষে কানের ঘুম ভাঙ্গতেই শুনতে পেলাম ঘরজুড়ে বেশ হৈচৈ ব্যস্ততা আর এসবের থেকে সম্পূর্ণ দূরে ওপাশের রুমেই শুধু হাল্কা ব্যথিত শব্দ হচ্ছিল যেন, গিয়ে দেখতেই অবাক দেখলাম। রাগে টুইটুম্বর নানার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে, তিনি কাঁদছেন, ভাবতেই অবাক লাগছিল; অথচ দু'চোখে দেখছি। সেদিনই টের পেলাম প্রথম- রাগি মানুষগুলোর আড়ালে একটা খুব স্পর্শী-নরম মন লুকিয়ে থাকে। সকলের কান্না আর কাঁদো-কাঁদো ব্যস্ততা এবং ঘুম জাগা চোখ কচলাতে কচলাতেই দেখি রাতের পোষাক উধাও; আমরা দু'ভাই বেশ সাহেব সাহেব সেজে গেলাম।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

ঈদ পূনর্মিলনী: আনন্দ যেখানে দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয়

“ঈদ পূনর্মিলনী” -শব্দ দু’টির সাথে যেন রাশি রাশি আনন্দ মিশে আছে। একে তো ঈদ মানেই আনন্দ, তদুপরি বন্ধু-সুধী-প্রিয়জনদের সাথে পুনরায় মিলিত হবার অতিরিক্ত আনন্দ; এ যেন ঈদের ছুটির পর শুক্রবারের ছুটি। বিষয়টি উপস্থিতির জন্য যতটা আনন্দের, আয়োজকদের জন্য ঠিক যেন ততটাই পেরেশানীর হয়। তবুও এই পেরেশানীতে লুকিয়ে থাকে দ্বিগুণ আনন্দ। একে তো আমিও একজন উপস্থিতি, দ্বিতীয়তে আমি একজন মেজবানও। তাই কষ্টের পরতে পরতে ঘামের মতই যেন খুশী ঝরে হৃদয়ের কার্ণিশে। পরিশেষে শরীরময় ক্লান্তি নিয়ে যখন অনুষ্ঠানের ইতি টানতে যাই, তখন মনে হয় হৃদয় আজ পূর্ণ হলো।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.3 (3টি রেটিং)

মরুর আকাশ মেঘলা এখন

মরুর আকাশ কিছুদিন থেকে সত্যিই মেঘলা। হঠাৎ বড় বড় ফোটায় প্রবল বৃষ্টি, আবার থেমে থেমে ইলশাগুঁড়ি তো আবার হেসে উঠে শিশুবেলার সূর্যিমামা।মরুর বাসিন্দা আমরা, 'মামা'কে নিয়েই থাকতে হয়, 'মেঘলা' খালা বছরে দু'একবার বেড়াতে আসেন আমাদের উষ্ণ পল্লীতে। তিনি এলে কি যে আনন্দ হয় আমাদের, তখন ভাষা দাদু চলে যান পাশের গাঁয়ে। আর আমরা নির্বাক হয়ে আনন্দে মেতে উঠি, নেচে উঠি বৃষ্টির প্রতিটি ফোটার সাথে সাথে। মরুচারী হয়ে এগার বছরে এগার কিংবা তারও কিছু বেশী হবে হয়তো, বৃষ্টি দেখেছি। প্রথম বৃষ্টি ভড়কে দিল, বন্যায়-বানে ছিল যার সখ্যতা, সে তো শুষ্ক বালুর বুকে ঢল বইতে দেখলে ভড়কাবেই। গাড়ীগুলো ডুবে গেল, ঘরের দুয়ারে হাঁটু পানি। তবে বেশীক্ষণ থাকেনি, ঘন্টা কয়েক পরেই পাশের লোহিত সাগর চুষে খেল সবটুকু মরু-নির্যাস। তারপরের বছর দেখলাম বৃষ্টিভেজা বেদুঈন বালা আর শিশুদের আনন্দ, বৃষ্টিমুখর দেশে শৈশব থেকে যৌবনে এসেও যা কখনো দেখিনি। বালা-কনেরা বোরখা জড়িয়ে টিলা-পাহাড়ে উঠে বৃষ্টির মায়া নিল, আর শিশুরা নেচে-গেয়ে কাদা-জলের সাথে পরিচিত হলো কেউ, কেউ সাক্ষাত নিল জীবনে প্রথম। তারপর বৃষ্টিকে মনে পড়ে যখন কর্মব্যস্ত বিকেল।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

গাধারাও চোখে দেখে

পৃথিবী নামক গ্রহটির যে অংশে স্রষ্টা আমাদের পাঠিয়েছেন, তা অনন্য। এ বিশ্বাস যেন জন্মগত ভাবেই অর্জিত সম্পদ। শুধুমাত্র বিশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে এ এক ভালবাসায় রূপ নিয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। কেউ শেখায়নি এ ভালবাসার পদ্ধতি। প্রকৃতি যেন নিজেই এসে গেঁথে দিয়েছে মনের কোন এক গভীর অতলে একটি নাম- বাংলাদেশ। যতদিন মাটির গন্ধ শুঁকেছি ততদিন ভালো লেগেছিল এক তরফাভাবে। সীমানা পেরিয়ে যেদিনই কেউ বেরিয়ে এসেছে বিশ্বের প্রান্তরে, সেদিনই প্রথম ব্যথা অনুভব করেছে নিশ্চিত। সেদিনই বুঝেছে কি ছেড়ে এসেছে বহুদূরে। স্বদেশ নিয়ে এমন ভাবনাগুলো আজন্ম তবে ধীরে ধীরে গাঢ় হয়েছে বয়সের সাথে সাথে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

কিভাবে আগুন থেকে নিজেকে ও নিজ পরিবারকে রক্ষার চেষ্টা করবেন

স্বজন-পরিজন আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের ধারাবাহিকতা নির্ভর করছে পরিবার-পরিজনের সম্পর্কের মাঝে। একটা সময় ছিল যখন কেউ কল্পনাতেও আমাদেরকে আনতে পারেনি। তারপর পিতামাতার মাধ্যমে এই পৃথিবীতে আমরা এখন। ঠিত তেমনিভাবে আমাদের মাধ্যমে আমাদের সন্তানগণ। এছাড়াও রক্তের সম্পর্কের বাইরে কিছু প্রিয়জন এসে নিজেদের সম্পর্ককে জুড়ে নেয় আমাদের সাথে। সব মিলিয়ে একটা ভালবাসার সুপরিকল্পিত বন্ধনের মাঝে আমাদের বেঁচে থাকা এবং ধারাবিহকতা চলে আসছে এই পৃথিবীতে।
পার্থিব নানা প্রয়োজনে যেমন পরিবার ও পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য আমরা ক্ষুদ্র থেকে জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে দ্বিধা করি না। ঠিক তেমনি আমাদের আখেরাতের জন্যেও তদ্রূপ প্রচেষ্টা থাকা উচিত। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.3 (6টি রেটিং)

পাওয়া-নাপাওয়ার দিনগুলো যখন বেহিসাবী হয়ে যায়

মানুষ হিসেবে আসলে কখনোই আমরা তুষ্ট হতে পারি না। তুষ্টির কোন শেষ নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনেক স্বপ্ন দেখে যাই। অনেক স্বপ্ন পূর্ণ হয়; অনেক স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। স্বপ্ন দেখার প্রাক্কালে তার বিনিময়ও ভেবে রাখি। এই যেমন, যদি আমার জীবনে এমন ঘটে তাহলে আমি এমন এমন কাজ করবো। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পর তা কঠিন হয়ে পড়ে। মূলতঃ কঠিন নয়; শুধু নিজের অন্তহীন পাওয়ার চাহিদা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। ভুলিয়ে দেয়, অলস করে দেয় চেতনাগুলোকে; যার দ্বারা সে তার ওয়াদা পূর্ণ করতে পারতো। এভাবেই আমরা স্রষ্টার সাথে কৃত বহু ওয়াদা ভঙ্গ করে বসি। অবশ্য এসব ওয়াদার বহুলাংশই ঘটে শুধুমাত্র ব্যক্তি এবং তার প্রতিপালকের সাথে; একান্ত সঙ্গোপনে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (4টি রেটিং)
Syndicate content