ফজরের পর ঘুমোবো কি না এ ভাবনাটা সালাতের আগে থেকেই শুরু করেছিলাম। সালাত শেষে ফিরে আমার পাঁচ ছুঁই ছুঁই টুনটুনি পাখিটার দিকে তাকাতেই দেখি ও স্বপ্ন দেখে কি যেন বলছে। পাছে ভয় পেয়ে যায় তাই ছুটে গিয়ে যা শুনলাম ও বলছে যে, তরকারী মজা হয়নি, আমি খাবো না। আমিও মজা পেয়ে বললাম, না, তোমাকে খেতে হবে, তরকারী মজা হয়েছে‍। সাধারণতঃ ওর সাথে আমার দৌড়ঝাঁপের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। একেলা, তাই খেলার সাথী না পেয়ে বাবাকেই সাথী বানিয়ে নিয়েছে। যদিও তেমন সময় পেয়ে উঠি না আর পেলেও সব সময় ভালো লাগে না। মেয়েটা আমার আজন্ম চঞ্চলা। যখনো হাঁটতে পারতো না, তখন ছবি তোলার জন্য চেষ্টা করে করে বিরক্ত হতাম। এই হাত ছুঁড়লো তো এই পা, এই মাথা নাড়ালো তো এই বেঁকে বসলো।

দিনের শুরুটা আমাদের সাধারণতঃ হৈচৈয়ের মধ্যে শুরু হয়। অবশ্য যখন পরিবারের সোয়া দুই সদস্যের সবাই ঘুমের অবচেতনা কেটে সচেতন হই। আজকাল আমার টুনটুনিকে জাগিয়ে তুলতে একটা কৌশল ব্যবহার করছি। বাবাকে দৌড়ে ধরার ব্যাপারে তার যারপর নাই আগ্রহ। তাই ঘুম ভাঙ্গাতে গিয়ে মোটামুটি চিৎকার চেঁচামেচিতে এতটা জাতিয়ে দিয়ে দৌড় লাগাতে হয় যতটাতে সে বুঝতে পারে যে এবার বাবাকে দৌড়াতে হবে। ব্যস্, শুরু হয়ে যায় সকালের ব্যায়াম- দৌড় প্রতিযোগিতা। দু’টো মাত্র ঘরের মধ্যে যে সংযুক্ত দরজা, তা প্রায়ই খোলা থাকে। তাই মোটামুটি একটা গোল চক্কর হয়ে যায় আমাদের দৌড়াদৌড়ির জন্য। মাঝে মাঝে খুব ক্লান্ত হয়ে গেলেও আনন্দ পাই মেয়ে হাসির ঝংকারে।

আজ অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ছিলাম। শুনলাম তার মা তাকে ডাকছে। ফিরে এসেই বলে বাবা টাকা দাও। বললাম তোমার মা শিখিয়ে দিয়েছে? স্পষ্ট বললো- হাঁ। তাকে দিলাম, নিয়ে বললো আম্মুর জন্য দাও, তাও দিলাম। তারপর কি যেন ভেবে ফ্র‍ীজ থেকে একটা ফলের রস এনে হাতে দিয়ে বললো এটা খাবে। আমি না না বললেও শুনলো না, নিতেই হবে। নিলাম আর এই ভাবনা ভাবতে ভাবতে বেরেয়ে এলাম যে, মেয়েরা এমনি হয়। পাঁচের নিচেই ভাবতে শিখেছে মা শা আল্লাহ্ বাবার ভালো-মন্দ নিয়ে। প্রসঙ্গতঃ মেয়েকে আমি আম্মু ডাকি আর সে আমাকে ডাকে ‘বাবু’ অর্থাৎ তার ছোট্ট ছেলে। পৃথিবীতে সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর বিরাট নেয়ামত, আবার এরাই পরীক্ষাস্বরূপ। প্রার্থনা করছি- তিনি যেন নেয়ামতের সবটুকু দান করেন এবং পরীক্ষায় সফলভাবে পাস করান। আরেকটু চাওয়া হলো- আল্লাহ্ আমাদের সন্তানকে আমাদের জন্য দুনিয়াতে চক্ষুশীতলকারী এবং আখেরাতে মুক্তির উছিলা বানিয়ে দেন।.