দিনগুলো তো সব একই মনে হয়, তবুও মনের মাঝে যেন আলপিন দিয়ে গাঁথা থাকে কিছু কিছু দিন। তেমনি একটি দিন আজ। আমার সাথে আমার জীবন সঙ্গিনীর ‘সঙ্গজীবন’-এর কথা পাকাপাকি হয়। দীর্ঘ প্রবাস পেরিয়ে, স্বদেশের অলিগলি খুঁজে যখন তাকে পেলাম, গুরুজনেরা তাদের সুবিধা-অসুবিধার হিসেব কষতে শুরু করলেন। ঘরোয়া সে বৈঠকে আর চুপ থাকতে পারলাম না। ছোটমামাকে ডেকে বললাম: কি হচ্ছে এসব? মামা বুঝলেন এবং বুঝিয়েও দিলাম। কিন্তু তার ফোন বার বার বিপত্তি ঘটালো। বিনাতারে ভেসে আসল ‘আজই বিয়ে হোক’! আকাশ থেকে পড়লাম। রেগে গিয়ে বাইরে ডাকলাম। শুধু এতটুকু কথা শুনে চুপসে গেলাম, রাগ পানি হলো যে, ‘আমাকে বলানো হচ্ছে’। তার প্রতি সেটাই ছিল প্রথম ‘রাগ’।

আমি তো বরাবরই ভুলোমন। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একটা চিরকুটের ধ্বণি বেজে উঠলো। তাতে লেখা- “সালাম, …. আজ তোমার-আমার জীবনের গিট্টু দেয়ার দিন। মিস ইউ। ১৬/০৩/২০০৯। আজ একটি লেখা লিখো আমার জন্য। ঘুমালাম।”

আমি বরাবরই গুরুত্ব বুঝে কাজ করতে পছন্দ করি। গুরুত্বের ভারে হালকা হয়ে গেল আজকের নিশি। তাই পূর্ণিমার চাঁদ আকাশে ও আমার ঘরে, ঘরে-বাইরে কবিতার ছন্দের মত হাওয়ার দোল, অথচ আমি কোন এক ছন্দহীন বৈঠকে মশগুল; এটাকেই হয়ত পথ দেখে জীবন চলা বলে। জীবন দেখে পথ চলতে গেলে এসব দেখা যায় না।

ফুলের দোকানদার একটা গোলাপ সাজিয়ে দিলো আর আমি একটি পাথরকুচি পাতার ছবিযুক্ত কার্ডের পিঠে চড়িয়ে দিলাম চারটি লাইন-
“দিনে দিনে দিন পেরিয়ে আসবে রে এই দিন
মনের মাঝে সানাই বাজে তাক ধিনা ধিন্ ধিন্,
এই দিবসে ছিল মোদের সাক্ষাত আর সখ্যতা
মন-পবনে উড়ছে আজো প্রথম দিনের হৃদ্যতা।”

যখন চাবি ঘুরিয়ে আমি কুটিরে, তখন আবছা আলোয় সুনসান নিরবতা, ঘুমের অন্ধকারে হারিয়ে গেছে স্মরণীয় একটি দিন।.