ধান কুড়োনো মায়ের ধুলিমলিন দু’টি পা
আঁকড়ে ধরছে বার বার চারখানা হাতপা
স্বচ্ছ লালা ঝরছে কোমল পাপড়ির মত দু’ঠোঁটের কোণে
বিচিত্র ভাষায় হাসি-কান্নার সাথে বিরামহীন কত কথা
আমি মমতার বন্ধন ছিন্ন করা সে মানব শাবকের কথা বলছি…

মাটির গতরে লুটোপুটি খেয়ে বেড়ে উঠেছে সে
এই বাংলার কাদাজল খেয়ে তা’রে নাড়ীতে বেঁধেছে
জ্বলে জ্বলে তার মোলায়েম চামড়াকে করেছে তাম্র কঠিন
জলা-জঙ্গলায় দৌড়ে, ঝাঁপিয়ে, সাঁতরে, তাড়িয়ে
নিয়ত সখ্যতা করেছে সাপ-নেউলের সাথে
আমি চরম শৃংখলহীন সে বিনম্র বালকের কথা বলছি…

শিক্ষার গণ্ডিতে গড়াতে গড়াতে বিদ্যালয়ের ভূমি দেখেছে
সে বহু কন্টক দেখে‌ছে চলার পথে, অর্জনের ধাপে ধাপে
ইজম নামে প্রকাশিত বহু পুরোনো, কিছু কিছু নতুন
নিয়মের আবরণে যত্তসব অনিয়মের আবর্জনা।
সহসা কে যেন তাকে ডাক দিলো, যেন তার হৃদয় হতে
যে এ ডাক সপ্তাকাশের পর্দা ভেদিয়া এসেছে তার কানে
এখানে আমি পরম মৌন এক যুবকের কথা বলছি…

সহসা রাশি রাশি চিৎকার, হুংকার, তাণ্ডবে প্রলয় যেন
মৌনতা ভেঙ্গে খান খান, তুমি আমাদের! তুমি আমাদের!
যুবক জানে তার অধিকার, ভূমিতে, বাতাসে, আকাশে, সমাজে
অথচ কি অপ্রিয় পন্থায় তাকে টেনে হিঁচড়ে যেন ছিঁড়ে ফেলবে
নাস্তিক্যবাদ বলে তুমি আমাদের
সাম্যবাদ বলে তুমি আমাদের
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বলে তুমি আমাদের
জাতীয়তাবাদ বলে তুমি আমাদের
ধনতন্ত্র বলে তুমি আমাদের
গণতন্ত্র বলে তুমি আমাদের
প্রশান্ত যুবকের সৌম্য শান্ত জবাব, কারো নই, আমি আমার
আমি আমার প্রতিপালকের, যিনি সৃজন করেছেন
যিনি পাঠিয়েছেন, যিনি কাজ দিয়েছেন, যাঁর কাছে ফিরে যাবো
এ পর্বে এসে আমি মহাজাগতিক এক আত্মার কথা বলছি…

তবু যখন পৃথিবী তাকে টানছে নির্মম ভাবে নির্দয়তায়
কখনো এ মেরুতে তো কখনো ও মেরুর বিভিষিকায়
আমি প্রলয় দেখেছি তার মাঝে, বিদ্রোহে, বিপ্লবে, বিগ্রহে
সে তোলপাড় করে চলে যমীন, তরুলতা, বৃক্ষ, মানব
মানুষের এ নষ্ট সমাজকে ভেঙ্গে দিয়ে গড়বে সে নতুন
আমি এমন প্রত্যয়ে বাংলায় অগণন যুবক দেখেছি
আমি মমতার বন্ধন ছিন্ন করা সেসব যুবকের কথা বলছি
যারা সূর্যের রঙ বদলে দিতে পারে, আগামীর রঙিন সূর্য
যার উদয়ের অপেক্ষায় সমগ্র বাংলাদেশ, সারাটি পৃথিবী।

২০ ডিসেম্বর ২০১৪, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।.