জিজ্ঞাসা ও জবাব: ৬৯ থেকে ৭৪

Print
Category: জিজ্ঞাসা ও জবাব
Published Date Written by ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

জিজ্ঞাসা ও জবাব

জবাব দিচ্ছেন- ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া


প্রশ্ন ৬৯: সিজদাহ সাহু তো করতে হয় নামাজে কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে। এখন নামাজে যদি কোন ফরজ ছুটে যায় কখন কি নামাজ দোহরিয়ে পড়তে হবে? অথবা কি করতে হবে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর: সাজদায়ে সাহু শুধু ওয়াজিব ছুটে গেলে দিতে হয়। যদি কারও ফরয বা রুকন ছুটে যায় তবে তাকে অধিকাংশ ফকিহের মতে সালাত আবার পড়তে হবে।
তবে কোনো কোনো ফকীহ মনে করেন, যে রাকা‘আতে সে ফরয ছুটে গেছে সে রাকা‘আতটি পুনরায় পড়লেই হবে।

প্রশ্ন ৭০: সফরের নামাজের ব্যপারে; বর্তমানে দেখা যায় বেশির ভাগ পরিবারই বাবা মা বা পরিবার থেকে দুরে থাকে কেউ কেউ স্বামির ব্যবসা বা চাকুরীর কারনে শহরে এসে থাকে এখন প্রশ্ন হল ছেলের বাড়ি কুমিল্লাহ বা চট্টগ্রাম এখন ঢাকা থেকে তারা পরিবার নিয়ে সেখানে গেলে কিভাবে সফরের নিয়ত করতে হবে? আর সেখানে যদি তারা সপ্তাহ বা পাঁচদিন থাকে তখন কি স্বামি বা স্ত্রী উভয়েই কসর পড়বে? নাকি পুরো নামাজ পড়বে। এরুপে মেয়ের বাবার বাড়ি ও ঢাকার বাহিরে মেয়ে থাকে শহরে স্বামির সাথে মেয়ে যদি কখনো তার দাদার বাড়ি যায় বা বাবার বাড়ি যায় দুই কি তিনদিন সেখানে অবস্থান করে তখন সে কি কসর পড়বে? নাকি পুরো নামাজ পড়বে? আর কসরের পুরো নিয়মটা কিভাবে জানাবেন।

উত্তর: একই মানুষের কয়েকটি স্থানে নিবাস থাকলে সে সব স্থানে তার কোথাও সফর করার সুযোগ নেই। কারও যদি ঢাকায় বাড়ি থাকে আর গ্রামেও বাড়ি থাকে তাহলে সে কোথাও কসর করবে না। বরং যাওয়া আসার পথ যদি সফরের দুরত্বে হয় তবে পথিমধ্যে কোনো সালাত আদায় করলে সেটি কসর পড়তে হবে, আর যদি সেটি সফরের দূরত্বে না হয় তবে সেটাও কসর হবে না।
আর সফরের দূরত্বের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনায় ৪৮ মাইলের কথা আসলেও সঠিক তথ্য হচ্ছে যে এটা কোনো মাইল দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। বরং কেউ যদি মনে করছেন যে তিনি সফর করছেন তবে সেটাই সফরে পরিণত হবে, হতে পারে তা ৪৮ মাইলের কম অথবা বেশি।
আর মুসাফির কতদিন অবস্থান করলে মুকিম হবে সে ব্যাপারে আমাদের প্রচলিত মত রয়েছে যে সে ১৫ দিন অবস্থান করার নিয়্যত (সংকল্প) করলে মুকিম হবে। কিন্তু বিশুদ্ধ মত হচ্ছে যে, কেউ যদি চার বা ততোধিক দিন কোথাও অব্স্থান করার নিয়্যত (সংকল্প) করে তবে তাকে পূর্ণ সালাত আদায় করতে হবে। 
বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি (শহর, গ্রাম বা কর্মস্থল) যেখানেই হবে সেখানেই স্ত্রীর বাড়ী বলে নির্ধারিত হবে। সুতরাং সেসব জায়গায় স্বামীর মতই তাকে পূর্ণ সালাত আদায় করতে হবে।
তবে স্ত্রীর বাপের বাড়ি যদি সফরের মত দূরত্বে হয় আর স্বামী যদি সেখানে চার দিনের কম সময় থাকার সংকল্প করেন বা কোনো সংকল্প না করেন তবে তিনি সেখানে কসর করবেন।
স্ত্রী নিজ বাপের বাড়ি (সফরের দূরত্বে হলে) সেখানে তার নিজস্ব কোনো ঘর-বাড়ি না থাকে, তিনি সেখানে বাপের ঘরে কিংবা ভাইয়ের ঘরে বেড়াতে গিয়ে থাকেন তবে তিনিও যদি সেখানে চার দিনের কম সময় থাকার সংকল্প করেন বা কোনো সংকল্প না করে তবে তিনি সেখানে কসর করবেন।
কসরের নিয়ম হচ্ছে: ফরয সালাতসমূহের মধ্যে যেগুলো চার রাকাআত সেগুলোকে দু রাকাত পড়া। আর যেগুলো দুই বা তিন রাকাত আছে সেগুলো সেভাবেই থাকবে। ফরয সালাতের আগে বা পরে যে সব সুন্নাত সালাত রয়েছে সেগুলো সফর অবস্থায় পড়া সুন্নাত নয়। কেবল ফজরের সুন্নাত এবং বিতরের সালাত পড়ার ব্যাপারে হাদীস রয়েছে।

প্রশ্ন ৭১: একপরিবারে দুই ভাই; আর তাদের মা বাবা উভয়ের সমান সম্পত্তি যখন তার পিতা ভাগাভাগি করতে যায় তখন দেখে যে, মা বাবা উভয়ের সম্পত্তি সমান তখন বড়ভাই মায়ের সম্পত্তি নেয় আর ছোট ভাইকে বাবার সম্পত্তি দেয় বড়ভাই বলে যে, সম্পত্তি যেহেতু সমান তখন তুমি একজনের অংশ নাও আমি একজনের অংশ নেই। ছোট ভাই কোন মন্তব্য বা অমত না করে বড় ভাইয়ের কথা মেনে নেয়। ওদিকে বড় ভাইয়ের সংসার বড় বড়ভাই মায়ের সম্পত্তি বিক্রি করে করে চলতে চলতে একসময় সব শেষ হয়ে যায় তখন বড় ভাই ছোট ভাইয়ের কাছে বলে বাবার সম্পত্তির ভাগ আমারও আছে আমার এখন কষ্ট তুই আমাকে কিছু জমি দে; ছোটভাই কোন প্যাচ না করে বড় ভাইকে কিছু জমি দিয়ে দেয়। আর বড়ভাই সে জমি দিয়ে আয় ব্যয় করে খায়(উপকৃত হয়) পরে অন্য লোকের কাছে বিক্রি করে টাকা নেয়। আর বড়ভাই কিছুদিন পর মারা যান। পরে যখন ছোট ভাইয়ের বুঝে আসল যে মা বাবা উভয়ের জমি তো সমান আর বড় ভাই তো তার ভাগের অংশ খরচ করেছে এখন সে আমার অংশ বিক্রি করবে কেন? ছোটভাই সেই লোকের কাছ থেকে তার জমি নিয়ে নেয় কোন টাকা দেয়া ছাড়াই এখন প্রশ্ন হল বড় যে ভাই ছিল উনার পরিবার বর্তমানে সচ্ছল কিন্তু ওরা কেউই বাবার ঋন শোধ করতে রাজি নয়। বড়ভাই যে ছোট ভাইয়ের জমি নিয়ে আয় ভোগ করেছে তাতে কি উনার গুনাহ হবে? বা কবর আযাব হবে? আর ছোট ভাইয়ের বউ বিষয়টাকে নিয়ে ভাবছেন এখণ ছোটভাই যে, অন্য লোকটা থেকে তার জমি নিয়ে নিয়েছে তার প্রতি কি এটা জুলুম হয়নি? কারন লোকটা তো টাকায় বিক্রি করে ছিল আর ছোট ভাই তা নিয়ে নিয়েছে আমার জমি বলে দলিল প্রমানের ভিত্তিতে, এখন ছোটভাইয়ের কি গুনাহ হয়েছে বা গুনাহ হলে কি ধরনের হবে? ছোট ভাইয়ের বউয়ে ভাবছে যদি লোকটা থেকে কোন ভাবে ঋন মুক্ত হওয়া যায় বা লোকটার যদি কোন উপকার করে যেমন লোকটা যেখানে থাকে সেখানে চলার ভাল পথ নেই যদি একটি রাস্তা তৈরি করে দেয় সেটা কি আদায় হবে? আর এতটাকা যেহেতু নেই বছরের যে যাকাত আসে সেই টাকায় যদি রাস্তা করে দেয় তবে কি তা জায়েজ হবে? কি করলে বা কিভাবে করলে দুই ভাইয়ের গুনাহ ক্ষমা করানো যাবে? কারন বড় ভাই তো নিজের সম্পত্তি শেষ করেছে এরপর ছোটভাইয়ের অংশও ভোগ করেছে এখন কি কাজ করলে বড়ভাইয়ের কবর আযাব ক্ষমা করানো যাবে? বিষয়টি জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর: কেউ তার সম্পদ অন্য কাউকে প্রদান করলে সে যদি তা বিক্রয় করে দেয় এবং অন্যের হক তার সাথে জড়িত হয়ে পড়ে তখন দেখতে হবে, যে লোকটি ক্রয় করেছে তিনি কি জানতেন যে সেটা বিক্রেতার সম্পদ?
১- যদি তিনি জেনে থাকেন যে এটি বিক্রেতার সম্পদই অথবা মূল মালিক বিক্রয়ের সময় সাক্ষী বা উপস্থিত থেকে থাকেন, তবে ক্রেতার ক্রয় সম্পূর্ণ বৈধ। তার কাছ থেকে জোর করে সেটা নেওয়া জায়েয নয়। জোর করে আবার নিয়ে নেওয়া হলে সেটা অন্যায় হবে, তাকে সেটা ফেরত দিতে হবে।
২- আর যদি তিনি না জেনে ক্রয় করে থাকেন, অথবা মূল মালিক সাক্ষী হিসেবে বা উপস্থিত না থাকেন, তবে মূল মালিক সেটাকে ফেরৎ নিতে পারবেন, কিন্তু তাকে অবশ্যই তার দেওয়া মূল্য ফেরৎ দিতে হবে। ক্রেতা তার দেওয়া অর্থ বিক্রেতার কাছ থেকেই আদায় করে নিবেন।
উক্ত নিয়ম অনুসারে ছোট ভাই যেহেতু ইচ্ছা করেই বড় ভাইকে সম্পদ দিয়েছে আর সে সম্পদ অন্যজন ক্রয় করে নিয়েছে, আর যিনি তা ক্রয় করেছেন তার কোনো দোষ নেই, সেহেতু ছোট ভাই যখন সে সম্পদ ফেরৎ নিবে তখন তার উচিত হবে ক্রেতার সমূদয় অর্থ তাকে ফেরৎ দেওয়া। তার বড় ভাই সে টাকা ফেরৎ দিবেন। কিন্তু যদি না দেন তবে ছোটভাই সেটা ফেরৎ দিবেন।  কোনো প্রকার দান বা সদকা বা যাকাত দিলে সেটা  আদায় হবে না।

প্রশ্ন ৭২: যাকাতের টাকা কি গবীর মিসকিনদের দিতে? নাকি যাকাতের টাকায় বাড়ির পাশে রাস্তা যেটা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে কষ্ট হয় সেটা মেরামত করা যাবে। আর রাস্তা করতে পারলে অনেক লোক চলতে সুবিধা হবে। গলির ভেতর রাস্তা হওয়ার যেগুলো সরকারি ভাবে করানো সম্ভব হয়না এখন যদি যাকাতের টাকায় করাতে চায় পারিবে কিনা তা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর: যাকাতের টাকার খাত সুনির্দিষ্ট। আটটি খাতের বাইরে ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই। যাকাতের টাকা কেবল ১-ফকীর, ২- মিসকীন, ৩- যাকাত আহরণকারী হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ৪- নওমুসলিমের জন্য , ৫-দাসমুক্তি, ৬-ঋণগ্রস্ত ৭- মুসাফির ৮- আল্লাহর রাহে জ্বিহাদে। (এবং দ্বীন-শিক্ষার জন্য) এর বাইরে আর কোথাও ব্যয় করা যাবে না।
সুতরাং রাস্তা নির্মানের জন্য যাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে না।

প্রশ্ন ৭৩: স্বর্নের কি পরিমান হলে যাকাত ফরজ হয়? আর রুপারই বা কতটুকু হলে যাকাত ফরজ? বর্তমানে অনেকে বলে যে, স্বর্নের দাম বেশি তাই অল্প স্বর্ন ও অল্প রুপা থাকলেই এসবের যাকাত দিতে হবে এখন সাধারন মানুষ কিভাবে আমল করবে? অনুরুপ ভাবে ঘরের মালের ও কি যাকাত দিতে হবে? আর কারোর যদি বন্ধকি জমি থাকে পাঁচলাখ টাকার মত এবং তা থেকে আয় পায় সে বন্ধকি জমির কি যাকাত দিতে হবে? দিলে কোন নিয়মে দিতে হবে জানিয়ে আমল করার সুযোগ দিবেন।

উত্তর: স্বর্ণের পরিমান ৮৫ গ্রাম হলে তখন তাতে যাকাত ফরয হয়। এর কম হলে তাতে যাকাত ফরয হয় না। রুপার পরিমান ৫৯৫ গ্রাম হলে তাতে যাকাত ফরয হয়। স্বর্ণ ও রুপা প্রত্যেকটি আলাদাভাবে  নেসাব (৮৫/৫৯৫) পরিমান না হলে তাতে কি দু শ্রেণীকে একসাথে করে যাকাত দিতে হবে? এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, তখন সেটা যদি অলংকার (ব্যবহার্য) হিসেবে থাকে তবে তাতে যাকাত ফরয হয় না। তবে যদি সেটা সম্পদ হিসেবে থাকে, (ব্যবহার্য না হয়) তখন অন্য সম্পদের সাথে মিশে তার পরিমাণ যদি স্বর্ণ বা রৌপ্য কোনো একটির নেসাব পরিমাণ হবে, তখনই তাতে যাকাত ফরয হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তখন কি স্বর্ণের নেসাব ধরব নাকি রৌপ্যের নেসাব ধরব? দলীল-প্রমাণাদি অনুসারে স্বর্ণের নেসাব (৮৫ গ্রাম স্বর্ণের দাম) ধরাই বেশি শক্তিশালী। কিন্তু সাবধানতা হচ্ছে রৌপ্যের নেসাব (৫৯৫ গ্রাম স্বর্ণের দাম) অনুসারে সেটার যাকাত দেওয়া।
প্রশ্ন করেছেন, ঘরের মালের যাকাত দিতে হবে কি না?
উত্তর, ঘরের মাল যদি ব্যবসায়ী সম্পদ কিংবা জমানো টাকা না হয়, অথবা উৎপন্ন ফসল না হয়, তবে তাতে যাকাত হবে না।
বন্ধকী সম্পত্তির আয় বিষয়টি অস্পষ্ট, তাই উত্তর দেওয়া গেল না।
 
প্রশ্ন ৭৪: কি কি নিয়মে টাকা লেনদেন করলে সুদ হবে? আর কারো টাকা ঘরে পড়ে আছে বা ব্যাংকে আছে এখন কেউ যদি সেটা টাকা ধার চায় আর এরুপ বলে তোমার টাকা তো ঘরেই পড়ে আছে যদি আমাকে দাও তবে লাভের কিছু অংশ বা ইসলামি শরীয়াহ মতে ইসলামি ব্যাংক যা দেয় সে পরিমান টাকা তোমাকে দেব  এখন এই নিয়মে কি টাকা দিলে সুদ হবে?

উত্তর: টাকা দিয়ে টাকা পাওয়া কিংবা বাকীর কারণে বেশি করে নেওয়া এ দুটিই সুদের মূল কথা।
কারো টাকা নেওয়ার সময় যদি বলে লাভের কিছু অংশ তোমাকে দেব, এটা বললেই কিন্তু হালাল হবে না। (যতই বলুক যে ইসলামী শরীয়াহ কিংবা ইসলামি ব্যাংক অনুযায়ী)
হালাল হতে হলে অবশ্যই লাভ-লোকসান শেয়ার করার শর্ত থাকতে হবে, আর কেমন হার কে বহন করবে, কেমন হার কে পাবে তাও নির্ধারিত থাকতে হবে।


~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~

জীবন যতদিন আছে, জিজ্ঞাসাও ততদিন থাকবে। যত জিজ্ঞাসা আছে, তত জবাবও আছে। তবে জিজ্ঞাসা করতে হবে জ্ঞানীদের নিকট। জ্ঞানী তথা আলেম নির্বাচনই আপনার কৃতিত্ব। কুরআন ও সুন্নার বিশুদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী সত্যপন্থী আলেম আপনাকে সত্যের পথে নিয়ে যাবে। আপনার জীবনের যে কোন জিজ্ঞাসা আজই পাঠিয়ে দিন "নির্মাণ" বরাবর।
আপনার জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, পি এইচ ডি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদীনা মুনাওয়ারা। সহকারী অধ্যাপক ও ফিকাহ্ বিভাগের চেয়ারম্যান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
জিজ্ঞাসা পাঠাবার ঠিকানা: This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.
~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~

শায়খের অন্যান্য জবাবগুলো জানতে অনুসরণ করুন: জবাব দিচ্ছেন: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes