উপমহাদেশের অতীত রাজনীতির খণ্ড চিত্র//২

Print
Category: ইতিহাস ঐতিহ্য
Published Date Written by এ.কে.এম. নাজির আহমদ

উপমহাদেশের অতীত রাজনীতির খণ্ড চিত্র
-এ.কে.এম. নাজির আহমদ


(জুন ২০১৩, ১৬তম সংখ্যার পর...)

  • ফারায়েযী আন্দোলন

১৭৮১ সনে হাজী শারীয়াতুল্লাহ মাদারীপুর জিলার বন্দরখোলা পরগনার শামাইল নামক গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
আট বছর বয়সে তিনি তাঁর আব্বা আবদুল জলিলকে হারান।
চাচা আজিমুদ্দিনের তত্বাবধানে তিনি পালিত হতে থাকেন।
গ্রামের শিক্ষালয়েই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অতপর উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য কলকাতা যান।
সেখানে মাও. বাশারাত আলীর সান্নিধ্যে থেকে শিক্ষা অর্জন করতে থাকেন।
১৭৯৯ সনে শারীয়াতুল্লাহ মাও. বাশারাত আলীর সাথে হাজে যান। তখন তিনি ১৮ বছরের তরুণ। অতো অল্প বয়সেই আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তাঁকে হাজে যাওয়ার তাওফীক দান করেন।
শারীয়াতুল্লাহ ছিলেন একজন জ্ঞানপিপাসু তরুণ। হাজের পর তিনি মাক্কা-মাদীনার বিভিন্ন শিক্ষাবিদের সান্নিধ্যে থেকে ইসলাম সম্পর্কে স্বচ্ছ ও ব্যাপক জ্ঞান হাছিল করেন। তিনি শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল ওয়াহ্হাবের (রাহ) সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে অবহিত হন। ১৯ বছর মাক্কা-মাদীনায় অবস্থান করে জ্ঞানসমৃদ্ধ হয়ে ১৮২০ সনে তিনি দেশে ফিরেন।
তখন চলছিলো দি ইংলিস ইস্ট কম্পেনীর শাসন। কম্পেনীর অধীনে মধ্যস্বত্বভোগী বেশ কয়েকটি জমিদার পরিবার প্রতিষ্ঠিত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজা ছিলো গরীব মুসলিম। জমিদারদের ধার্যকৃত অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে তারা হিমসিম খাচ্ছিলো।
এই গরীব প্রজাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে জমিদারদের নজর ছিলো না। প্রজাদের সন্তানদেরকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা ছিলো না। তদুপরি ইসলামী জীবন দর্শন ও জীবন বিধান সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান না থাকার কারণে মুসলিমদের জীবনাচারে হিন্দু সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে। নানাবিধ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে মুসলিমগণ। বিভিন্ন পূজা-পার্বনে হিন্দু জমিদারগণ মুসলিমদেরকে অর্থ যোগান দিতে বাধ্য করতেন। তাঁদের জমিদারিতে গরু যবাই করতে দিতেন না। দাঁড়ি রাখলে মুসলিমদের ওপর ট্যাকস ধার্য করা হতো।
হাজী শারীয়াতুল্লাহ এই দুরবস্থা থেকে মুসলিমদেরকে উদ্ধার করার জন্য সমাজসচেতন লোকদের সাথে আলাপ আলোচনা চালাতে থাকেন। কিছু সংখ্যক লোক তাঁর চিন্তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করে।
১৮১৮ সনে হাজী শারীয়াতুল্লাহ মুসলিমদের চিন্তার বিশুদ্ধিসাধন এবং চারিত্রিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন শুরু করেন। এটিকেই বলা হয় ফারায়েযী আন্দোলন। ‘ফারয’ অনুশীলনের ওপর বিশেষ তাকিদ দেওয়া হতো বলে আন্দোলনটি এই নামে পরিচিত হয়।
হাজী শারীয়াতুল্লাহর আন্দোলন ছিলো শান্তিপূর্ন এবং মাসজিদ ভিত্তিক। তিনি বিভিন্ন দিন বিভিন্ন মাসজিদে যেতেন। লোকদেরকে একত্রিত করে আল কুরআন ও আস্সুন্নাহর বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখতেন। তাঁর আলোচনায় প্রভাবিত হয়ে একদল মানুষ তাঁর অনুসরণ শুরু করে।
হাজী শারীয়াতুল্লাহ মুসলিমদেরকে হিন্দুদের পূজা-পার্বনে অর্থদান করতে নিষেধ করেন। গরু যবাই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন। দাঁড়ি রাখার ওপর আরোপিত ট্যাকসের বিরুদ্ধাচারণ করেন।
মুসলিমদের মাঝে একটি সংগঠিত শক্তির বিকাশ ঘটছে দেখে হিন্দু জমিদারগণ শংকিত হয়ে পড়েন।
১৯৩১ সনে পশ্চিম বাংলার বেশ কয়েকজন হিন্দু জমিদার যেই ভাবে সাইয়েদ নিসার আলী তিতুমীরের বিরুদ্ধে লেগেছিলেন, একই সনে একই ভাবে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের হিন্দু জমিদারগণ হাজী শারীয়াতুল্লাহর বিরুদ্ধে লাগেন। ঐ সময় কলকাতা থেকে হিন্দুদের দ্বারা প্রকাশিত পত্রিকাগুলোও হাজী শারীয়াতুল্লাহর শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে থাকে।
তিনি জোর করে হিন্দুদেরকে মুসলিম বানাচ্ছেন বলে মিথ্যা প্রচারনাও চালানো হয়।
জমিদারগণ ইংরেজদেরকে তাঁদের সাথে নিতে সক্ষম হন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়। একাধিকবার তিনি বন্দি হন। তাঁর অনুসারীগণ জোটবদ্ধ হয়ে নিপীড়নের মুকাবিলা করতে থাকে।
বৃহত্তর ফরিদপুর, বৃহত্তর বরিশাল, বৃহত্তর পাবনা, বৃহত্তর যশোর, বৃহত্তর খুলনা, বৃহত্তর নোয়াখালি, বৃহত্তর কুমিল্লা এবং বৃহত্তর ঢাকা জিলায় তাঁর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলন পরিচালনার সুবিধার্থে এক সময় হাজী শারীয়াতুল্লাহ ঢাকার নয়াবাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন।
১৮৩১ সনে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে নয়াবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি নয়াবাড়ি ছেড়ে তাঁর জন্মস্থান শামাইলে এসে বাস করতে থাকেন। এখান থেকে তিনি নদীপথে কুমিল্লা ও নোয়াখালি জিলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে দীনের দাওয়াত পেশ করতেন। হাজী শারীয়াতুল্লাহ ইংরেজদের কর্তৃত্বাধীন এই দেশকে দারুল হারব গণ্য করতেন। এই জন্য তিনি ও তাঁর অনুসারীগণ জুমু‘আ নামায ও ঈদের নামায আদায় করতেন না। ১৯৪৭ সন পর্যন্ত তাঁর অনুসারীগণ এই মতের ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
১৮৪০ সনে হাজী শারীয়াতুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ফারায়েযী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর সুযোগ্যপুত্র মুহাম্মাদ মুহসিনুদ্দিন।
(উল্লেখ্য, দি ইংলিস ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পেনীর মতে ১৮৫৭ সনের আযাদী সংগ্রামে হাজী শারীয়াতুল্লাহর অনুসারীদের সম্পৃক্ততা ছিলো।
১৮৫৭ সনের আযাদী সংগ্রাম বা সিপাহী বিদ্রোহের পর ফারায়েযী আন্দোলনের নেতা মুহাম্মাদ মুহসিনুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
১৮৬২ সনে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।)

  • ১৮৪২ সনে সিন্ধের আমীর শাসিত রাজ্যগুলোর পতন

গভর্ণর জেনারেল লর্ড এলেনবরার শাসনকালে চার্লস নেপিয়ার নামক একজন ইংরেজ সেনাপতি সামরিক অভিযান চালিয়ে একের পর এক সিন্ধের আমীর শাসিত রাজ্যগুলো দখল করে প্রতিষ্ঠিত করেন ইংরেজ শাসন।
 

  • ১৮৫৭ সনের আযাদী সংগ্রামের ব্যর্থতা

অনেক আগেই বিশাল মোগল সাম্রাজ্য ভেংগে পড়েছিলো।
দিল্লী ও আশপাশের কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো মোগল সম্রাটের শাসন।
প্রকৃতপক্ষে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরের সময় থেকেই সম্রাটের মর্যাদা একজন পেনশনধারী ব্যক্তির মর্যাদায় নেমে এসেছিলো। দি ইংলিস ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পেনীর কথামতোই তাঁকে ওঠবস করতে হতো।
গোটা উপমহাদেশে দেশীয় রাজ্য (চৎরহপবষু ংঃধঃবং) নামে অনেকগুলো রাজ্য গড়ে ওঠে। দেশীয় রাজ্যগুলোর রাজন্যবর্গ ইংরেজদের সাথে আপোস করে ক্ষমতায় টিকে থাকতেই ব্যস্ত ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে আমজনতা ইংরেজদেরকে ভালো চোখে দেখতো না।
ইংরেজগণ ভারতবাসীর রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়। ভারতবাসী অর্থনৈতিকভাবে শোষিত হতে থাকে। তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবন আগ্রাসনের শিকার হয়।
ক্ষোভ ধূমায়িত হতে থাকে।
১৮৫৭ সনের প্রথমভাগে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ঘটে এক মহাবিস্ফোরণ।
এটি ছিলো আসলে আযাদী সংগ্রাম।
ইংরেজরা এই সংগ্রামের নাম দিয়েছিলো সিপাহী বিদ্রোহ।
দি ইংলিস ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পেনীর গভর্ণর জেনারেল লর্ড চার্লস ক্যানিং এর আমলে এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
১৮৫৭ সনের কিছু আগে দি ইংলিস ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পেনীর অধীনে কর্মরত সিপাহিদেরকে দেওয়া হয়েছিলো রাইফেলের বিশেষ ধরনের টোটা। পানিতে ভিজে যাতে নষ্ট না হয় সেই জন্য এই টোটার গায়ে দেওয়া থাকতো চর্বির আবরণ। রাইফেলে ঢুকাবার আগে টোটার এই চর্বির আবরণ দাঁত দিয়ে কাটতে হতো। কথা ছড়িয়ে যায়, গরু ও শুকরের চর্বি দিয়ে তৈরি এই টোটার আবরণ।
দি ইংলিস ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পেনীর সৈন্যদের মধ্যে যারা ছিলো হিন্দু ও মুসলিম তারা ধর্মীয় কারণে এই টোটা ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে তাদের কয়েকজনকে  শাস্তি দেওয়া হয়।
১৮৫৭ সনের ২৯শে মার্চ বারাকপুর (পশ্চিমবঙ্গ) সেনাছাউনিতে বিদ্রোহের সূচনা হয়।
১৮৫৭ সনের ১০ই মে মিরাট (উত্তরপ্রদেশ) সেনানিবাসের হিন্দু ও মুসলিম সিপাহিরা অস্ত্রহাতে রাজপথে নেমে আসে। কয়েক দিনের মধ্যে বিহার, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লী, আগ্রা এবং নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত দেশীয় সৈনিকেরা রাজপথে নেমে আসে। তাদের সাথে যোগ দেয় অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
এক পর্যায়ে তারা দিল্লী দখল করে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে গোটা উপমহাদেশের সম্রাট ঘোষণা করে।
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরের সেনাপতি বখত খান, বুন্দেলখন্ডের মারাঠা অধ্যুষিত ঝাঁসি রাজ্যের রাণী লক্ষীবাঈ, অযোধ্যার বেগম হযরত মহল, কানপুরের তাঁতিয়া তোপি, জগদিসপুরের রাজপুত রাজা বাবু কুনওয়ার সিং, মারাঠা নেতা নানাসাহিব পেশওয়া, তুলসিপুরের রাণী ঈশ্বরীকুমার দেবী প্রমুখ তাঁদের অনুগত সৈনিকদেরকে নিয়ে রণাংগনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
বালাকোটের মুজাহিদদের উত্তরসূরীগণও শামিল ছিলেন এই সংগ্রামে। খায়রাবাদের মাও. ফজলে হক, পাটনার শাহ আহমাদুল্লাহ এবং থানা ভবনের হাজী ইমদাদুল্লাহ স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে অজয়গড়, আলওয়ার, ভরতপুর, ভূপাল, বিকানির, জয়পুর, হায়দারাবাদ, কাশমির, মারওয়ার, উদয়পুর প্রভৃতি রাজ্যের রাজন্যবর্গ এই সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেননি।
এই সংগ্রামের সফলতার ফলে উত্তরভারতে একটি মুসলিম শক্তির পুন: প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা পছন্দ করেননি পাঞ্জাবের শিখ নেতৃবৃন্দ। তাঁরা ইংরেজদেরকে সাহায্য করার জন্য শক্তিশালী সেনাদল প্রেরন করেন। একই ভূমিকা পালন করেন নেপাল রাজ। পাঞ্জাবের শিখ সৈন্য ও নেপালের গুর্খা সৈন্যরা ইংরেজদের সাথে মিলিত হয়ে স্বাধীনতা প্রত্যাশীদেরকে কাবু করে ফেলে।
ইংরেজগণ দিল্লী দখল করে সম্রাট ও তাঁর পরিবার সদস্যদেরকে খুঁজতে থাকে।
ইতোপূর্বে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর লালকেল্লা ছেড়ে চলে যান এবং পূর্ব দিল্লীতে অবস্থিত সম্রাট হুমায়ূনের সমাধি সৌধে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
১৮৫৭ সনের ২০শে সেপ্টেম্বর ইংরেজ সেনাপতি উইলিয়াম হডসন সেখান থেকে বাহাদুর শাহ জাফরকে গ্রেফতার করেন।
২১শে সেপ্টেম্বর সম্রাটের দুই ছেলে মির্যা মোগল ও মির্যা খাজির সুলতান এবং নাতি মির্যা আবু বাকরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সম্রাটকে মিয়ানমারের রাজধানী রেংগুনে নির্বাসিত করা হয়।
(১৮৬২ সনে তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।)
বন্দি ২৮ হাজার সেনা ও সাতশত আলিমকে ফাঁসি দেয়া হয়।
ঢাকার লালবাগ ফোর্টের বন্দী সিপাহীদেরকে বাহাদুর শাহ পার্কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
(এই সময় ইংল্যান্ডের রাণী ছিলেন ভিকটোরিয়া। ১৮৫৮ সনে বৃটিশ পার্লামেন্ট ঞযব এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ওহফরধ অপঃ ১৮৫৮ পাস করে। এই এ্যাকট অনুযায়ী উপমহাদেশটিকে দি ইংলিস ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পেনীর হাত থেকে নিয়ে বৃটিশ রাজকীয় শাসনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। গভর্ণর জেনারেল লর্ড চার্লস ক্যানিং হন বৃটিশ রাজকীয় শাসনের প্রথম ভাইসরয়।)
উপমহাদেশে জেঁকে বসে ইংরেজ শাসন।

  • ইসলামী নেতৃবৃন্দের বিচার প্রহসন

১৮৩১ সনে বালাকোট প্রান্তরে ইসলামী মুজাহিদদের বিপর্যয়ের পর ‘সিত্তানা’কে কেন্দ্র করে মাও. বিলায়াত আলী ও মাও. ইনায়াত আলী তৎপরতা চালাতে থাকেন।
১৮৫৭ সনের আযাদী সংগ্রামে তাঁদের উত্তরসূরীগণ ইংরেজবিরোধী জনমত সৃষ্টিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
পাঞ্জাবের শিখ সৈন্য বা নেপালের গুর্খা সৈন্যদের সাহায্যে আযাদী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া শক্তিগুলোকে পরাভূত করার পরই ইংরেজগণ বিশেষভাবে ইসলামী শক্তির মূলোৎপাটনে মনোযোগী হয়। খোঁজাখুঁজি করে বহু সংখ্যক ইসলামী ব্যক্তিত্বকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
১৮৬৪ সনে অনুষ্ঠিত হয় আমবালা ট্রায়াল।
মহারাণীর সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে মাও. ইয়াহইয়া আলী, মুহাম্মাদ জাফর থানেশ্বরী এবং মুহাম্মাদ শফীকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। পরে মৃত্যুদন্ড পরিবর্তন করে তাঁদেরকে আন্দামান দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়।
১৮৬৫ সনে অনুষ্ঠিত হয় পাটনা ট্রায়াল।
মহারাণীর সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে শাহ আহমাদুল্লাহ (পাটনা), ফজলে আলী এবং ফরহাত আলীকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড দেওয়া হয়। শাহ আহমাদুল্লাহকে আন্দামান দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়।
১৮৭০ সনে অনুষ্ঠিত হয় মালদহ ট্রায়াল।
মালদহ অঞ্চলে কর্মতৎপর বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব আমিরুদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয় এবং তাঁকে আন্দামান দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
১৮৭০ সনে অনুষ্ঠিত হয় রাজমহল ট্রায়াল।
রাজশাহী অঞ্চলে কর্মতৎপর ইসলামপুরের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব ইবরাহীম মন্ডলকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়ে আন্দামান দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এইভাবে বহু সংখ্যক ইসলামী ব্যক্তিত্ব বিচারের নামে প্রহসনের শিকার হন।


যোগাযোগ: This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

লেখকের আরো লেখা পড়তে অনুসরণ করুন: এ.কে.এম. নাজির আহমদ

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes