সিংহ, ইঁদুর, সাপ ও মধুর চাক

Print
Category: অনুবাদ গল্প
Published Date Written by অনুবাদ: কাজী শফিকুল আযম

এক লোক স্বপ্নে দেখলো সিংহ তাকে তাড়া করছে। সে ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে গাছে উঠে পড়লো। নীচে তাকিয়ে দেখে সিংহ গাছের তলায় তার অপেক্ষায় বসে আছে কখন সে গাছ থেকে পড়ে যায় সেই আশায়। সে গাছের যে ডালে উঠে প্রাণ বাঁচাতে পারলো, সেই ডালের গোড়ার দিকে তাকিয়ে দেখে একটা কালো ইঁদুর আর একটা সাদা ইঁদুর সে ডাল কুটকুট করে কামড়ে কেটে ফেলতে শুরু করেছে। ডাল তাই খুব তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে পড়বে।

লোকটি ভয়ে অস্থির হয়ে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখে একটি বড় সাপ মুখ হাঁ করে ডালের ঠিক নীচে বসে আছে। ডাল ভেঙ্গে সে যখন নীচে পড়তে থাকবে, তখন সে সরাসরি সাপের মুখের মধ্যে পড়ে যাবে আর সাপটি তাকে গিলে ফেলবে।

লোকটি উপরের দিকে তাকালো কোন কিছু তার মাথার উপরে আছে কি না যা ধরে সে বাঁচতে পারবে। তাকিয়ে দেখে উপরের ডালে এক মধুর চাক। সেখান থেকে টপ টপ করে মধু গড়িয়ে পড়ছে। এত বিপদের মাঝে থেকেও লোকটির মনে মধু খাওয়ার শখ জাগলো। সব ভয়–ভীতি ভুলে গিয়ে সে মধুর স্বাদ নিল- এত চমৎকার মধু সে আগে কখনোই খায়নি।

মধুর স্বাদে বিমোহিত হয়ে সে তার সব বিপদের কথা ভুলে গেল। দু’টি ইঁদুর যে তার বসে থাকা ডালের গোড়া কাটছে, ডালের নীচে যে বিষাক্ত সাপ মুখ হাঁ করে তার অপেক্ষায় বসে আছে, গাছের তলায় হিংস্র সিংহ তাকে খাবে বলে বসে আছে- এসব ভয়ের কথা তার মন থেকে চলে গেল। সে জিহবা বের করে মধু খেয়েই যেতে লাগলো।

কিছু সময় পরে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে স্বপ্নের মানে জানার জন্য এক জ্ঞানী স্বপ্ন-বিষারদের কাছে গেল। স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, সিংহ হলো মৃত্যু- তুমি যেখানেই যাও না কেন, মৃত্যু তোমাকে তাড়া করে ফিরবে। কালো ও সাদা ইঁদুর হলো রাত ও দিন। চক্রাকারে রাত ও দিন পার হতে হতে তোমার মৃত্যুর সময় কাছাকাছি এসে যাবে যেমন একসময় গাছের ডালের গোড়া কাটা শেষ হবে।

মুখ হাঁ করা কালো সাপ হলো তোমার কবর। মারা যাওয়ার পর তোমাকে কবরে যাওয়া লাগবে। মধুর চাক হলো এই দুনিয়া। মধু হলো দুনিয়ার ভোগ–বিলাস। এই ভোগ–বিলাসে মত্ত হয়ে আমরা মৃত্যু, কবর-জীবন ও পরকালের কথা ভুলে যাই।

“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখে; যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও।” (সূরা আত্-তাকাসুর, ১০২:১-২)


যোগাযোগ: This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

লেখকের আরো লেখা পড়তে অনুসরণ করুন: -কাজী শফিকুল আযম

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes