পবিত্র জীবন - প্রথম পর্ব

Print
Category: প্রবন্ধ নিবন্ধ
Published Date Written by আবদুস শহীদ নাসীম

পবিত্র জীবন - প্রথম পর্ব
-আবদুস শহীদ নাসীম


১. পবিত্র জীবনের পরিচয়ঃ
কুরআন মজিদে যে জীবনকে বলা হয়েছে ‘হায়াতান তাইয়েবাতান’ বা হায়াতে তাইয়েবা, সে জীবনকেই আমরা বাংলা ভাষায় বলি ‘পবিত্র জীবন’। হায়াতে তাইয়েবা বা পবিত্র জীবন একটি ব্যাপক অর্থবহ পরিভাষা। এ ধরনের জীবন প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন:

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّه حَيٰوةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ

অর্থ: যে কোনো পুরুষ বা নারী আমলে সালেহ্ করবে মুমিন অবস্থায়, আমরা অবশ্যি তাকে দান করবো পবিত্র জীবন এবং তাদেরকে তাদের আমলের চাইতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করবো। (সূরা ১৬ আন্নাহল: আয়াত ৯৭)

আল কুরআনের এ আয়াত থেকে জানা গেলো, হায়াতে তাইয়েবা বা পবিত্র জীবনের অধিকারী হবার জন্যে দুটি পূর্ব শর্ত রয়েছে। তাহলো :
01.    ঈমান। অর্থাৎ ব্যক্তিকে মুমিন বা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে হবে।
02.    আমলে সালেহ্ (righteous works)। অর্থাৎ ব্যক্তির চরিত্র ও কর্ম হতে হবে ন্যায়সংগত, সুন্দর, চমৎকার ও নিষ্কলুষ।
ঈমানের মূল কথা হলো, আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্বে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদত, উপাসনা, আনুগত্য ও দাসত্বের জীবন যাপন করা।

আমলে সালেহ হলো ব্যক্তির জীবনের সার্বিক কার্যক্রম স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, চমৎকার, নির্মল, নিষ্কলুষ, পরিশুদ্ধ, ন্যায্য, সুষম, পরিপাটি, পূণ্যময়, পরিপক্ক, যথাযথ, বাস্তব ও মধ্যপন্থী হওয়া।

সহজ কথায়, ইসলামের দৃষ্টিতে নিষ্কলুষ সৌন্দর্যই হলো পবিত্র। বিষ্কলুষ সুন্দর জীবনের অধিকারী ব্যক্তির জীবনই পবিত্র জীবন। আর এই নিষ্কলুষ পবিত্র জীবনের ভিত্তি বা মানদন্ড হবে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর একত্বের প্রতি অটল ও অনাবিল বিশ্বাস। কারণ, মানদন্ড (critcrion) ছাড়া কোনো কিছুরই যথার্থ মান নির্ণয় করা যেতে পারেনা।

২. তাইয়্যেবাত, তাহারাত, তাযকিয়া এবং সালাহাঃ
মানব জীবনকে বিশেষ করে মুমিনের জীবনকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে কুরআন মজিদে তাইয়্যেবাত (طَيِّبَات), তাহারাত (طهارة), তাযকিয়া (تزكية) এবং সালাহা (صَالِح، صَلَحَ) শব্দগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

طَيِّبَابْ (তাইয়্যেবাত) শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হলো طَيِّبْ (তাইয়্যেব) এবং طَيِّبَة (তাইয়্যেবা)। অভিধানে এর অর্থ করা হয়েছে: good, pleasant, delightful, good spirits, to heal, sanitate, improve, noble, descent, well, in high spirits.

তাহারাত (طهارة) শব্দটি উৎসারিত হয়েছে طَهَرَ (তা হা রা) থেকে। অভিধানে এর অর্থ করা হয়েছে: clean, pure, chasten, detergent, perform an ablution. طَهَارَةٌ (তাহারাত) মানে: holiness, virtue, sanctity, saintliness, purification. তাহারাতের অধিকারী ব্যক্তিকে বলা হয় তাহের (طَاهِر) বা তাহেরা (طَاهِرة)। এর অর্থ: clean, pure, chaste, modest, virtuous, upright, righteous, honest, innocent.

পবিত্রতা বুঝানের জন্যে কুরআন মজিদে ব্যবহৃত হয়েছে تَزْكِيَّةٌ (তাযকিয়া) শব্দটিও। এটি উদগত হয়েছে زكو এবং زكى শব্দমূল থেকে। অভিধানে এর অর্থ করা হয়েছে: to thrive, to grow, increase, to rectify, purify, to be pure in heart, be just, corrcet, righteous, good, to be fit, to be honest.

কুরআনে মজিদে পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা এবং অনাবিলতা বুঝানোর জন্যে صَلَحَ، صَالِحْ (সালাহা, সালেহ্) বহু বচনে صَالِحَات (সালেহাত) শব্দ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আমলে সালেহ্ (عَمَلُ الصَّالِحْ) এবং আমেলুস্ সালেহাত (عَمِلُوا الصَّالحات) -এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে হয়েছে কুরআন মজিদে। এর শব্দমূল হলো صَلَحَ (সা লা হা)। অভিধানে এর অর্থ করা হয়েছে: to be good, right, proper, in order, thrive, pious, practicable, improve, modify, put in order, rebuild, correction, elimination, reformation, renovation, settlement, compromise.

৩. সহজ ভাষায় চারটি পরিভাষার মর্মঃ
পবিত্রতা এবং পবিত্র জীবন অর্জনের জন্যে আমরা এযাবত কুরআন মজিদ থেকে চারটি পরিভাষার উল্লেখ করেছি। সেগুলো হলো:
 طَيِّب (তাইয়্যেব), طَهَارَة (তাহারাত), تَزْكِيَّةٌ (তাযকিয়া) এবং صَالِحْ (সালেহ)। এই পরিভাষাগুলোর যে অর্থ আমরা অভিধান থেকে উল্লেখ করেছি এবং কুরআন মজিদের ব্যবহার থেকে এগুলোর যে ভাবার্থ প্রকাশ পায়, সে অনুযায়ী বাংলা ভাষায় এগুলোর অধিকারী ব্যক্তিদের সহজ পরিচয় এরকম:
ভালো, উত্তম, সুন্দর, পূত, পবিত্র, পরিচ্ছন্ন, পরিশুদ্ধ, ভদ্র, চমৎকার, রুচিশীল, সুস্থ, উন্নত, সরস, সংস্কারপ্রাপ্ত, সজীব, সতেজ, স্বচ্ছ, পরিপক্ক, শালীন, শুদ্ধ, পরিপাটি, সুবিন্যস্ত, উচিত, সত্য, বাস্তব, যথার্থ, সিদ্ধ, সভ্য, সুশৃংখল, উদার, সমৃদ্ধ, অনাবিল, পুণ্যবান, সুভাষী, প্রাণবন্ত, মার্জিত, পরিশীলিত, পরিষ্কার, সৎ, সত্যাগ্রহী, সদালাপী, সত্যাশ্রয়ী, সত্যভাষী, বন্ধসুলভ, খাঁটি, নিখুঁত, নির্ভেজাল, অকৃত্রিম, নির্মল, শুদ্ধচিত্ত, সাধু, সৌজন্যপ্রিয়, সুশীল, সদাচারী, অমায়িক, নম্র, বিনয়ী, বিনীত, মধ্যপন্থী, সমঝোতাকামী, অনাড়ম্বর, সরলপ্রাণ, যত্নবান, প্রসন্ন, সুষম, সুশোভিত।

৪. ইসলামে পবিত্রতার ব্যাপকত্বঃ
ইসলামি জীবন যাপনের পথকে বলা হয় সিরাতুল মুস্তাকিম। এর অর্থ সরল, সঠিক, সুষম জীবন যাপনের পথ। এপথ মানুষের স্রষ্টা ও জীবনদাতা মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথ। এপথ মানুষের সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনকে একমুখী করে দেয়।

ইসলাম ব্যক্তির জীবনের ভেতরের ও বাইরের, ডানের ও বামের, সামনের ও পেছনের, উপরের ও নীচের সমগ্র দিক ও বিভাগ একমুখী, এক গন্তব্যের অভিমুখী এবং এক লক্ষ্য হাসিলের অভিলাষী করে দেয়। ফলে ঈমানি চেতনার এক স্বচ্ছ অনাবিল স্রোতস্বিনীর ফলগুধারা প্রবাহিত হতে থাকে ব্যক্তির সমস্ত জীবন প্রবাহের পরতে পরতে।

এই অনাবিল স্বচ্ছ স্রোতস্বিনীর ফলগুধারায় সিক্ত হয়ে যায় বিশ্বাসী ব্যক্তির সমগ্র জীবনধারা। এ ধরনের জীবন ধারার অধিকারী লোকদেরই কুরআন মজিদে বলা হয়েছে ‘আত্ তাইয়্যেবাতু ওয়াত্ তাইয়্যেবুন’ পবিত্র জীবনের অধিকারী নারী ও পবিত্র জীবনের অধিকারী পুরুষ (২৪: ২৬)।

৫. পবিত্রতা মানব জীবনে ঈমানি চেতনার নির্ঝরঃ
ঈমানি চেতনার পবিত্রতা হলো পর্বত শৃঙ্গ থেকে উৎসারিত ঝরণা ধারার মতো। নির্ঝরের ঝরণার প্রস্রবন যেমন বয়ে চলে নিরবধি জমিনের স্তরে স্তরে এবং উপরিভাগে কখনো সরবে কখনো নীরবে, ঠিক তেমনি ঈমানি চেতনার পবিত্রতা মুমিনের জীবন ধারায় বয়ে চলে নীরবে সরবে অহর্নিশি সমগ্র জীবনকাল। ঈমানি চেতনার অনাবিল পবিত্র স্রোতধারা বয়ে চলে মুমিনের :
01.    জীবন লক্ষ্যে, জীবনের মূল চেতনায়;
02.    ধ্যান ধারণায়, চিন্তা চেতনায়, দৃষ্টি ভংগিতে;
03.    আশা আকাংখায়, কামনা বাসনায়;
04.    সুখ দু:খে এবং আনন্দ বেদনায়;
05.    ঘৃণায় ভালোবাসায়;
06.    আবেগ উদ্দীপনায়;
07.    নিরাবেগ নীরবতায়;
08.    শুভ্রতা শূচিতায় ও সৌন্দর্য স্বচ্ছতায়;
09.    প্রাচুর্যে এবং স্বল্পতায়;
10.    বিত্ত বৈভব এবং দারিদ্র দন্যতায়;
11.    চেষ্টায় সাধনায়;
12.    কর্মের ময়দানে;
13.    লেন দেনে;
14.    আচার ব্যবহারে, আদব কায়দায়;
15.    চালচলনে;
16.    বেশ ভূষায়;
17.    কথায় বার্তায়, কণ্ঠস্বরে;
18.    ইবাদত উপাসনায়;
19.    ব্যক্তি জীবনে;
20.    সামাজিক জীবনে;
21.    দাম্পত্য জীবনে;
22.    পারিবারিক জীবনে;
23.    ব্যবসায়, বানিজ্যে, বিনিয়োগে;
24.    রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায়;
25.    দেন দরবার, আইন আদালত ও বিচার আচারে;
26.    আয় উপার্জনে;
27.    ব্যয় ব্যবহারে;
28.    বিয়ে শাদি ও সন্তান পালনে;
29.    বড়দের ও ছোটদের প্রতি কর্তব্য পালনে;
30.    শাসন পরিচালনায়;
31.    ব্যবস্থাপনায় ও কার্যনির্বাহে;
32.    শ্রমদান ও চাকুরি জীবনে;
33.    পড়ালেখায়, জ্ঞানার্জনে;
34.    পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষায়;
35.    মানব কল্যাণে, সমাজ কল্যাণে;
36.    গড়ার কাজে, নির্মাণ কাজে;
37.    নিদ্রায় এবং জাগরণে।
মূলকথা ঈমানি চেতনার পবিত্রতা পরিব্যাপ্ত থাকে মুমিন জীবনের সামগ্রিকতায়, বিশ্বাস ও চেতনায় এবং তার সমগ্র কর্ম প্রেরণায়।

৬. মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা. মানব সমাজকে পবিত্র করতে প্রেরিত হয়েছেনঃ
মুহাম্মদ সা. -এর রসূল হিসেবে প্রেরিত হবার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো মানব সমাজকে পবিত্র করা। মহান আল্লাহ বলেন:

لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ اِذْ بَعَثَ فِيْهِمْ رَسُوْلاً مِّنْ اَنْفُسِهِمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ اٰيٰتِه وَيُزَكِّيْهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَاِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِىْ ضَلٰلٍ مُّبِيْنٍ

অর্থ: আল্লাহ মুমিনদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তাদের প্রতি পাঠিয়েছেন একজন রসূল। সে তাদের প্রতি তিলাওয়াত করে তাঁর আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র পরিশুদ্ধ (তাযকিয়া) করে, তাদের শিক্ষা দান করে আল কিতাব (আল কুরআন) এবং হিকমাহ, যদিও ইতোপূর্বে তারা নিমজ্জিত ছিলো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে। (আল কুরআন ৩: ১৬৪, ২: ১৫১, ৬২: ২)

আয়াতটি কুরআন মজিদে তিন জায়গায় উল্লেখ হয়েছে। এ আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে মুহাম্মদ সা.-এর রিসালাতের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাযকিয়া করা। অর্থাৎ মানুষকে পরিশুদ্ধ, পরিশীলিত, পবিত্র, ও উন্নত করা।

মুহাম্মদ সা. কোন্ ধরনের ধর্ম প্রচার করেন, হাবশার বাদশা নাজজাশির এমন প্রশ্নের জবাবে হাবশায় হিজরতকারী সাহাবীদের দলনেতা জাফর বিন আবু তালিব রা. তাকে বলেছিলেন:

أَيُّهَا الْمَلِكُ، كُنَّا قَوْمًا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ، نَعْبُدُ الأَصْنَامَ، وَنَأْكُلُ الْمَيْتَةَ، وَنَأْتِي الْفَوَاحِشَ، وَنَقْطَعُ الأَرْحَامَ، وَنُسِيءُ الْجِوَارَ، وَيَأْكُلُ الْقَوِيُّ مِنَّا الضَّعِيفَ، وَكُنَّا عَلَى ذَلِكَ حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْنَا رَسُولاً مِنَّا، نَعْرِفُ نَسَبَهُ وَصِدْقَهُ وَأَمَانَتَهُ وَعَفَافَهُ، فَدَعَانَا إِلَى اللَّهِ تَعَالَى لِنُوَحِّدَهُ وَنَعْبُدَهُ، وَنَخْلَعَ مَا كُنَّا نَعْبُدُ نَحْنُ وَآبَاؤُنَا مِنْ دُونِهِ مِنَ الْحِجَارَةِ وَالأَوْثَانِ، وَأَمَرَنَا بِصِدْقِ الْحَدِيثِ، وَأَدَاءِ الأَمَانَةِ، وَصِلَةِ الرَّحِمِ، وَحُسْنِ الْجِوَارِ، وَالْكَفِّ عَنِ الْمَحَارِمِ وَالدِّمَاءِ، وَنَهَانَا عَنِ الْفُحُشِ، وَقَوْلِ الزُّورِ، وَأَكْلِ مَالِ الْيَتِيمِ، وَقَذْفِ الْمُحْصَنَةِ، وَأَمَرَنَا أَنَّ نَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَلا نُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَأَمَرَنَا بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّيَامِ

অর্থ: হে বাদশা! আমরা ছিলাম একটি জাহেল কওম। আমরা মূর্তি পূজা করতাম। মৃত পশু খেতাম। অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতাম। রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতাম। প্রতিবেশীদের সাথে মন্দ আচরণ করতাম। আমাদের শক্তিমানরা দুর্বলদের চোষণ করতো। এ অবস্থায়ই আমরা চলছিলাম। এমনি অবস্থায় মহান আল্লাহ আমাদের মধ্য থেকেই আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠান। আমরা সবাই তার বংশ মর্যাদা, সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, ও পবিত্র জীবন সম্পর্কে ভালোভাবে জানি। তিনি আমাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, তাঁকে এক বলে মেনে নিতে বলেছেন, শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত উপাসনা করতে বলেছেন এবং তাঁকে ছাড়া আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষরা যেসব পাথরও ভাষ্কর্যের পূজা করতাম সেগুলো পরিত্যাগ করতে বলেছেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সত্য কথা বলতে, আমানত আদায় করে দিতে, রক্ত সম্পর্ক অটুট রাখতে, প্রতিবেশীদের সাথে সদাচার করতে, হারাম থেকে এবং  রক্তপাত থেকে বিরত থাকতে। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন: ফাহেশা কাজ করতে, মিথ্যা কথা বলতে, এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎ করতে এবং পবিত্র চরিত্র নারীদের উপর অপবাদ রটাতে। তিনি আমাদের আরো নির্দেশ দিয়েছেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তাঁর সাথে কাউকেও শরিক না করতে। তিনি আমাদের আরো নির্দেশ দিয়েছেন সালাত আদায় করতে, যাকাত প্রদান করতে এবং সিয়াম পালন করতে।’’ (মুসনাদে আহমদ: উম্মে সালামা রা. থেকে)

রসূল সা. যে প্রধানত মানুষকে পবিত্র করার কাজ করেছেন, এ হাদিস তারই প্রমাণ।

নবুয়্যত লাভের শুরুর দিকেই মহান তাঁর রসূলকে নির্দেশ দেন:

وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ঙ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ

অর্থ: তোমার পোশাক পবিত্র রাখো এবং আবিলতা পরিহার করো। (সূরা ৭৪ আল মুদ্দাস্সির: আয়াত ৪-৫)

(ক্রমশ...)


লেখকের আরো লেখা পড়তে অনুসরণ করুন: -আবদুস শহীদ নাসীম

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes