আত্মপর্যালোচনা (মুরাকাবা)

Print
Category: নবীর বাণী
Published Date Written by সম্পাদক

রিয়াদ্বুস্ সালেহীন

প্রথম খণ্ড

ইমাম মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ্)

অনুবাদক: হাফেয মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান


5- باب المراقبة

অনুচ্ছেদঃপাঁচ

আত্মপর্যালোচনা (মুরাকাবা)

 

قَالَ الله تَعَالَى : ( الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ ) [ الشعراء : 219 – 220 ]

 

মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেনঃ তুমি যখন নামাযে দাঁড়াও, তখন যিনি তোমাকে ও মুসল্লিদের মধ্যে তোমার নড়াচড়া পর্যবেক্ষন করেন। (সূরা শুআরাঃ ২১৮-২১৯)

وَقالَ تَعَالَى : ( وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُم ) [ الحديد :4]

 

তিনি আরও বলেনঃ তোমরা যেখানেই থাকো, আল্লাহ্ তোমাদের সাথেই থাকেন। (সূরা হাদীদঃ ৪)

وَقالَ تَعَالَى : ( إِنَّ اللهَ لا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ ) [ آل عمران : 5]

 

তিনি আরও বলেনঃ আল্লাহর কাছে আসমান ও জমিনের কোন কিছুই গোপন থাকেনা। (সূরা আলে-ইমরানঃ ৫)

وَقالَ تَعَالَى : ( إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ ) [ الفجر : 14]

 

তিনি আরও বলেনঃ নিশ্চয়ই তোমার প্রভু (তাঁর বিরোধীদের প্রতি) প্রখর দৃষ্টি রাখছেন। (সূরা আল-ফজরঃ ১৪)

وَقالَ تَعَالَى : ( يَعْلَمُ خَائِنَةَ الأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ ) [ غافر : 19 ] وَالآيات في البابِ كثيرة معلومة .

 

তিনি আরও বলেনঃ আল্লাহ্ চোখের বিশ্বাসঘাতকতা (অর্থ্যাৎ নিষিদ্ধ-দৃষ্টি) ও মনের গোপন কথা সম্পর্কে অবহিত। (সূরা মুমিনঃ ১৯)

 

60-وأما الأحاديث ، فالأول : عن عمر بن الخطابرضي الله عنه، قَالَ : بَيْنَما نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَومٍ ، إذْ طَلَعَ عَلَينا رَجُلٌ شَديدُ بَياضِ الثِّيابِ ، شَديدُ سَوَادِ الشَّعْرِ ، لا يُرَى عَلَيهِ أثَرُ السَّفَرِ ، وَلا يَعْرِفُهُ مِنَّا أحَدٌ ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبيّصلى الله عليه وسلم، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيهِ إِلَى رُكْبتَيهِ ، وَوَضعَ كَفَّيهِ عَلَى فَخِذَيهِ ، وَقالَ : يَا مُحَمَّدُ ، أخْبرني عَنِ الإسلامِ ، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم : (( الإسلامُ : أنْ تَشْهدَ أنْ لا إلهَ إلاَّ الله وأنَّ مُحمَّداً رسولُ الله ، وتُقيمَ الصَّلاةَ ، وَتُؤتِيَ الزَّكَاةَ ، وَتَصومَ رَمَضَانَ ، وَتَحُجَّ البَيتَ إن اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبيلاً )) . قَالَ : صَدَقْتَ . فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقهُ ! قَالَ : فَأَخْبرنِي عَنِ الإِيمَانِ . قَالَ : (( أنْ تُؤمِنَ باللهِ ، وَمَلائِكَتِهِ ، وَكُتُبهِ ، وَرُسُلِهِ ، وَاليَوْمِ الآخِر ، وتُؤْمِنَ بالقَدَرِ خَيرِهِ وَشَرِّهِ )) . قَالَ : صَدقت . قَالَ : فأَخْبرني عَنِ الإحْسَانِ . قَالَ : (( أنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأنَّكَ تَرَاهُ فإنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فإنَّهُ يَرَاكَ )) . قَالَ : فَأَخْبِرني عَنِ السَّاعَةِ . قَالَ : (( مَا المَسْؤُولُ عَنْهَا بأعْلَمَ مِنَالسَّائِلِ )) . قَالَ : فأخبِرني عَنْ أمَاراتِهَا . قَالَ : (( أنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا ، وأنْ تَرَى الحُفَاةَ العُرَاةَ العَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ في البُنْيَانِ )) . ثُمَّ انْطَلقَ فَلَبِثْتُ مَلِيّاً ، ثُمَّ قَالَ : (( يَا عُمَرُ ، أَتَدْري مَنِ السَّائِلُ ؟ )) قُلْتُ : اللهُ ورسُولُهُ أعْلَمُ . قَالَ : (( فإنَّهُ جِبْريلُ أَتَاكُمْ يعْلِّمُكُمْ أمْرَ دِينكُمْ ))

[ أخرجه : مسلم 1/28 ( 8 ) ( 1 ) ]

ومعنى (( تَلِدُ الأَمَةُ رَبَّتَهَا )) أيْ سَيِّدَتَهَا ؛ ومعناهُ : أنْ تَكْثُرَ السَّراري حَتَّى تَلِدَ الأَمَةُ السُّرِّيَّةُ بِنْتاً لِسَيِّدِهَا وبنْتُ السَّيِّدِ في مَعنَى السَّيِّدِ وَقيلَ غَيْرُ ذلِكَ . وَ(( العَالَةُ )) : الفُقَراءُ . وقولُهُ : (( مَلِيّاً )) أَيْ زَمَناً طَويلاً وَكانَ ذلِكَ ثَلاثاً .

 

৬০. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বি আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনঃ একদিন আমি রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসে আছি। এমন সময় হঠাৎ সেখানে একটি (অচেনা) লোক উপস্থিত হলো। লোকটির পোশাক-আশাক ছিল খুবই ধবধবে সাদা। তার মাথার চুলগুলো ছিল কুচকুচে কালো। তার শরীরে সফরের কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না। আর আমাদেরও কেউ তাকে চিনতে পারছিলনা। লোকটি সোজা রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বসল। তারপর তার জানু রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরজানুর সাথে লাগিয়ে দিয়ে নিজের দুহাত দুটি উরুর উপর সংস্থাপন করে বললঃ হেমুহাম্মদ! আমায় ইসলামের পরিচয় বলে দিন। রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইসলাম হলো এই যে, তুমি সাক্ষ্য দেবে আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সেই সঙ্গে তুমি নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোযা পালন করবে আর সামর্থ থাকলে হজ্জ আদায় করবে। আগন্তুক বলল, আপনি যথার্থই বলেছেন, আমরা লোকটির এ আচরণ দেখে বিস্মিত হলাম যে, সে নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেসও করেছে আবার তাঁর কথা যথার্থ বলে মন্তব্যও করছে। লোকটি আবার অনুরোধ করলঃ আপনি আমায় ঈমানের পরিচয় বলে দিন। রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঈমান হচ্ছে এই যে, তুমি আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাব সমূহ, তাঁর রাসূলগণ, কিয়ামত দিবস এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করবে।লোকটি বলল, আপনি যথার্থই বলেছেন। সে আবারও অনুরোধ করলঃ আপনি আমায় ইহসানের পরিচয় বলে দিন। তিনি বললেনঃ সেটা এই যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত এই মনোভাব নিয়ে করবে যে, তুমি তাকে দেখছ। তুমি যদি তাকে না দেখ, তবে তিনি তোমায় নিশ্চয়ই দেখছেন বলে মনে করবে।অতঃপর আগন্তুক বললঃ কিয়ামতের ব্যাপারে আমায় কিছু বলুন। রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাকে এ প্রশ্ন করা হয়েছে সেপ্রশ্নকারী অপেক্ষা বেশি কিছু জানেনা। আগন্তুক বলল, ‘তাহলে কিয়ামতের লক্ষণগুলো সম্পর্কে কিছু বলুন। রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লক্ষণ হচ্ছে এই যে, দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে। আর নগ্ন পা ও উলঙ্গ শরীর বিশিষ্ট গরীব মেষপালকদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা সুউচ্চ দালান-কোঠায় বসে অহংকার করছে। এরপর লোকটি হঠাৎ চলে গেল। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বললেনঃ উমর! তুমি কি এই লোকটির পরিচয় জানো? আমি বললামঃ এ বিষয়ে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনি হচ্ছেন জিবরাইল।

তিনি তোমাদেরকে দ্বীন (এর মৌল বিষয়াদি) শিখাতে এসেছিলেন।

[মুসলিম: ২৮/১ (৮) (১)]

61- الثاني : عن أبي ذر جُنْدُب بنِ جُنادَةَ وأبي عبدِ الرحمانِ معاذِ بنِ جبلٍ رضي الله عنهما ، عن رسولِ الله صلى الله عليه وسلم ، قَالَ : (( اتَّقِ الله حَيْثُمَا كُنْتَ وَأتْبعِ السَّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تَمْحُهَا ، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ ))

[أخرجه: الترمذي ( 1987 ) عن أبي ذر ومعاذ. وقال : (( حديث حسن صحيح )) ]

 

৬১. হযরত আবু যার ও মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদ্বি আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনঃ রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং মন্দ কাজ করে বসলে সঙ্গে সঙ্গে ভাল কাজ কর। তাহলে ভাল কাজ মন্দ কাজকে মুছে ফেলবে আর মানুষের সাথে সদাচরন করো।

[তিরমিযী: ১৯৮৭, ইমাম তিরমিযী এই হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে একে হাসান সহীহ হাদীস' রূপে অভিহিত করেছেন।]

62-الثالث : عن ابنِ عباسٍ رضي الله عنهما ، قَالَ : كنت خلف النَّبيّ صلى الله عليه وسلم يوماً ، فَقَالَ : (( يَا غُلامُ ، إنِّي أعلّمُكَ كَلِمَاتٍ : احْفَظِ اللهَ يَحْفَظْكَ ، احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ ، إِذَا سَألْتَ فَاسأَلِ الله ، وإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ باللهِ ، وَاعْلَمْ : أنَّ الأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إلاَّ بِشَيءٍ قَدْ كَتَبهُ اللهُلَكَ ، وَإِن اجتَمَعُوا عَلَى أنْ يَضُرُّوكَ بِشَيءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إلاَّ بِشَيءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ ، رُفِعَتِ الأَقْلاَمُ وَجَفَّتِ الصُّحفُ ))

[ أخرجه : الترمذي ( 2516 ) . وأخرج اللفظ الثاني : أحمد 1/307 ، وَقالَ : ((حديث حسن صحيح)) ]

وفي رواية غيرِ الترمذي : (( احْفَظِ الله تَجِدْهُ أَمَامَكَ ، تَعرَّفْ إِلَى اللهِ في الرَّخَاءِ يَعْرِفكَ في الشِّدَّةِ ، وَاعْلَمْ : أنَّ مَا أَخْطَأكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبكَ ، وَمَا أصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ ، وَاعْلَمْ : أنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ ، وَأَنَّ الفَرَجَ مَعَ الكَرْبِ ، وَأَنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْراً )) .

 

৬২. হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বি আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনঃ আমি একদিন রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে (কোন জানোয়ারের পিঠে) বসা ছিলাম। তখন তিনি আমায় বললেনঃ হে বৎস! আমি তোমায় কয়েকটি (গুরুত্বপূর্ণ) কথা শিখিয়ে দিচ্ছি। (খুব মনোযোগ দিয়ে শ্রবন করো)। আল্লাহর নির্দেশাবলীর হেফাজত ও অনুসরণ করো, আল্লাহ ও তোমায় হেফাযত করবেন। আল্লাহর হক (সঠিকভাবে) আদায় করো। তাহলে তাকেও তোমার সঙ্গে পাবে। কখনও কোন জিনিস চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই চাইবে। কোন সাহায্যের প্রয়োজন হলেও আল্লাহরইকাছে চাইবে। জেনে রাখ, সমগ্র সৃষ্টিকূল এক সঙ্গে মিলেও যদি তোমার উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তারা তার বেশি কোন উপকার করতে পারবেনা। পক্ষান্তরে তারা যদি একসঙ্গে মিলে তোমার কোন ক্ষতি (বা অপকার) করতে চায়, তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তার বেশি কোন অপকার তারা করতে পারবেনা। (জেনে রাখ, কলম তুলে রাখা হয়েছে এবং কিতাবাদি শুকিয়ে গেছে। অর্থ্যাৎ তাকদির চুড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। তাতে আর কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের অবকাশ নেই।)

 

[তিরমিযী: ২৫১৬, আহমাদ: ১/৩০৭, হাদীসটি হাসান সহীহ্। ইমাম তিরমমিযী এ হাদীসটিকে সহীহ্ ও হাসান হাদীস রূপে আখ্যায়িত করেছেন। তিরমিযী ছাড়া অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে এই বক্তব্যের সাথে আরো সংযুক্ত হয়েছেঃ আল্লাহর অধিকার হেফাযত করো, তাহলে তাকে পাবে নিজের সামনে। সুদিনে আল্লাহকে স্মরণ রাখ, তাহলে দুর্দিনে তিনি তোমায় স্মরণ করবেন। জেনে রাখো, যে জিনিস তুমি পাওনি, তা (মূলতঃ) তোমার জন্য নয়। আরো জেনে রাখো, আল্লাহর মদদ রয়েছে সবরের সাথে। আর প্রত্যেক দুঃখের সাথে আছে সুখ।]

 

63-الرابع : عن أنسٍرضي الله عنه، قَالَ : إِنَّكُمْ لَتعمَلُونَ أعْمَالاً هي أدَقُّ في أعيُنِكُمْ مِنَ الشَّعْرِ ، كُنَّا نَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ رَسُول اللهصلى الله عليه وسلممِنَ المُوبِقاتِ .

[ أخرجه : البخاري 8/128 ( 6492 ) ]

وَقالَ : (( المُوبقاتُ )) : المُهلِكَاتُ .

 

৬৩. হযরত আনাস রাদ্বি আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনঃ তোমরা এমন সব কাজ করে থাকো, যেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল অপেক্ষাও বেশি হালকা; কিন্তু আমরা রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সেগুলোকে অত্যন্ত ক্ষতিকর রূপে গণ্য করতাম।
[বুখারী: ৮/১২৮ (৬৪৯২)]

 

64-الخامس : عن أبي هريرةَرضي الله عنه، عن النَّبيّصلى الله عليه وسلم، قَالَ : (( إنَّ الله تَعَالَىيَغَارُ ، وَغَيرَةُ الله تَعَالَى ، أنْ يَأتِيَ المَرْءُ مَا حَرَّمَ الله عَلَيهِ ))

[ متفق عَلَيهِ .أخرجه : البخاري 7/45 ( 5223 ) ، ومسلم 8/101 ( 2761 ) ]

و(( الغَيْرةُ )) : بفتحِ الغين ، وَأَصْلُهَا الأَنَفَةُ .

 

৬৪. হযরত আবু হুরয়রা রাদ্বি আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা (বান্দার ব্যাপারে) আত্মসম্মান বোধ করেন; তাই মানুষের জন্য আল্লাহ্ যা নিষিদ্ধ (হারাম) করেছেন, সে যখন তাতে লিপ্ত হয়, তখনই আল্লাহর আত্মসম্মান বোধ অত্যন্ত প্রবল হয়ে উঠে।১

 [বুখারী: ৭/৪৫ (৫২২৩), মুসলিম: ৮/১০১ (২৭৬১)]

 

১* এ কথার মর্মার্থ এই যে, আল্লাহ্ যখন কোন কাজ নিষিদ্ধ করেন, তখন মানুষ তা নিদ্বির্ধায় মেনে চলবে, এটাই একান্ত ভাবে কাম্য। কিন্তু মানুষ যখন তা অগ্রাহ্য করে, তখন সে প্রকারান্তরে আল্লাহর সিদ্ধান্তকেই অমর্যাদা করে। যা আল্লাহর পক্ষে অসহনীয়।- অনুবাদক

 

65-السادس : عن أبي هريرةَرضي الله عنه : أنَّه سَمِعَ النَّبيَّصلى الله عليه وسلم، يقُولُ : (( إنَّ ثَلاثَةً مِنْ بَني إِسْرَائِيلَ : أبْرَصَ ، وَأَقْرَعَ ، وَأَعْمَى ، أَرَادَ اللهُ أنْ يَبْتَليَهُمْ فَبَعَثَ إِليْهمْ مَلَكاً ، فَأَتَى الأَبْرَصَ ، فَقَالَ : أَيُّ شَيءٍ أَحَبُّ إلَيْكَ ؟ قَالَ : لَوْنٌ حَسنٌ ، وَجِلدٌ حَسَنٌ ، وَيَذْهبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ ؛ فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ وَأُعْطِيَ لَوناً حَسنَاً . فَقَالَ : فَأيُّ المَالِ أَحَبُّ إِليكَ ؟ قَالَ : الإِبلُ - أَوْ قالَ : البَقَرُ شكَّ الرَّاوي - فَأُعطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ ، فَقَالَ : بَاركَ الله لَكَ فِيهَا .

فَأَتَى الأَقْرَعَ، فَقَالَ: أَيُّ شَيءٍ أَحَبُّ إلَيْكَ؟ قَالَ: شَعْرٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي هَذَا الَّذِي قَذِرَني النَّاسُ ؛ فَمَسَحَهُ فَذَهبَ عَنْهُ وأُعْطِيَ شَعراً حَسَناً . قالَ : فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِليْكَ ؟ قَالَ : البَقَرُ ، فَأُعْطِيَ بَقَرَةً حَامِلاً ، وَقالَ : بَارَكَ الله لَكَ فِيهَا .

فَأَتَى الأَعْمَى ، فَقَالَ : أَيُّ شَيءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ : أَنْ يَرُدَّ الله إِلَيَّ بَصَرِي فَأُبْصِرُ النَّاسَ؛ فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللهُ إِلَيْهِ بَصَرهُ. قَالَ: فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِليْكَ ؟ قَالَ : الغَنَمُ ، فَأُعْطِيَ شَاةً والداً ، فَأَنْتَجَ هذَانِ وَوَلَّدَ هَذَا ، فَكانَ لِهذَا وَادٍ مِنَ الإِبلِ ، وَلِهذَا وَادٍ مِنَ البَقَرِ ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الغَنَمِ .

ثُمَّ إنَّهُ أَتَى الأَبْرَصَ في صُورَتِهِ وَهَيئَتِهِ ، فَقَالَ : رَجلٌ مِسْكينٌ قَدِ انقَطَعَتْ بِيَ الحِبَالُ في سَفَري فَلا بَلاغَ لِيَ اليَومَ إلاَّ باللهِ ثُمَّ بِكَ ، أَسْأَلُكَ بِالَّذي أعْطَاكَ اللَّونَ الحَسَنَ ، والجِلْدَ الحَسَنَ ، وَالمَالَ ، بَعِيراً أَتَبَلَّغُ بِهِ في سَفَري ، فَقَالَ : الحُقُوقُكثِيرةٌ . فَقَالَ : كأنِّي اعْرِفُكَ ، أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فقيراً فأعْطَاكَ اللهُ !؟ فَقَالَ : إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا المالَ كَابِراً عَنْ كَابِرٍ ، فَقَالَ : إنْ كُنْتَ كَاذِباً فَصَيَّرَكَ الله إِلَى مَا كُنْتَ .

وَأَتَى الأَقْرَعَ في صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذا ، وَرَدَّ عَلَيهِ مِثْلَ مَا رَدَّ هَذَا ، فَقَالَ : إنْ كُنْتَ كَاذِباً فَصَيَّرَكَ اللهُ إِلَى مَا كُنْتَ .

وَأَتَى الأَعْمَى في صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ ، فَقَالَ : رَجُلٌ مِسْكينٌ وابنُ سَبيلٍ انْقَطَعتْ بِيَ الحِبَالُ في سَفَرِي ، فَلا بَلاَغَ لِيَ اليَومَ إلاَّ بِاللهِ ثُمَّ بِكَ ، أَسأَلُكَ بالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَركَ شَاةً أَتَبَلَّغُ بِهَا في سَفري ؟ فَقَالَ : قَدْ كُنْتُ أعمَى فَرَدَّ اللهُ إِلَيَّ بَصَرِي فَخُذْ مَا شِئْتَ وَدَعْ مَا شِئْتَ فَوَاللهِ ما أجْهَدُكَ اليَومَ بِشَيءٍ أخَذْتَهُ للهِ . فَقَالَ : أمْسِكْ مالَكَ فِإنَّمَا ابْتُلِيتُمْ . فَقَدْ رضي الله عنك ، وَسَخِطَ عَلَى صَاحِبَيكَ ))

[ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ . أخرجه : البخاري 4/208 ( 3464 ) ، ومسلم 8/213( 2964 ) ]

و(( النَّاقةُ العُشَرَاءُ )) بضم العين وفتح الشين وبالمد : هي الحامِل . قوله :

((أنْتَجَ )) وفي رواية : (( فَنتَجَ )) معناه : تولَّى نِتاجها ، والناتج لِلناقةِ كالقابِلةِ

للمرأةِ . وقوله : (( وَلَّدَ هَذَا )) هُوَ بتشديد اللام : أي تولى ولادتها ، وَهُوَ بمعنى أنتج في الناقة ، فالمولّد ، والناتج ، والقابلة بمعنى ؛ لكن هَذَا لِلحيوان وذاك لِغيرهِ . وقوله : (( انْقَطَعَتْ بي الحِبَالُ )) هُوَ بالحاءِ المهملةِ والباءِ الموحدة : أي الأسباب . وقوله : (( لا أجْهَدُكَ )) معناه : لا أشق عليك في رد شيء تأخذه أَوْ تطلبه من مالي . وفي رواية البخاري : (( لا أحمَدُكَ )) بالحاءِ المهملة والميمِ ومعناه : لا أحمدك بترك شيء تحتاج إِلَيْه ، كما قالوا : لَيْسَ عَلَى طولِ الحياة ندم : أي عَلَى فواتِ طولِها .

 

৬৫. হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বী আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ বণী ইসরাইলের মধ্যে তিনটি লোক ছিলঃ একজন কুষ্ঠ রোগী, দ্বিতীয় জন টেকো এবং তৃতীয় জন অন্ধ। আল্লাহ্ তাদের পরীক্ষা গ্রহনের ইচ্ছা করলেন এবং এ লক্ষ্যে একজন ফেরেশতাকে তাদের কাছে পাঠালেন। তিনি কুষ্ঠ রোগীটিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সবচেয় প্রিয় জিনিস কোনটি? সে বললঃ সুন্দর রঙ, সুন্দর ত্বক এবং সেই রোগ থেকে মুক্তি, যার দরুন লোকেরা আমায় ঘৃনা করে। ফেরেশতা তার শরীরটা মুছে দিলেন। এতে তার রোগটা সেরে গেল এবং তাকে সুন্দর রং দান করা হলো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচাইতে প্রিয়? সে বললঃ উট কিংবা গরু।’ (এটা বর্ণনাকারী সন্দেহ)তখন লোকটিকে দশ মাসের গর্ভবতী একটি উট দেয়া হলো। ফেরেশতা বললেনঃ আল্লাহ এতে তোমায় বরকত দিন।

এরপর তিনি টেকো লোকটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সবচেয় প্রিয় জিনিস কোনটি? সে বললঃ সুন্দর চুল এবং এই টাক থেকে মুক্তি, যার দরুন লোকেরা আমায় ঘৃনা করে ফেরেশতা তার মাথাটা মুছে দিলেন। এতে তার টাক সেরে গেল এবং তার মাথায় সুন্দর চুল গজালো। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন সম্পদ তোমার কাছে অধিকতর প্রিয়? সে বললোঃ গরুতখন তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করা হলো। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ এতে তোমায় বরকত দিন। এরপর তিনি অন্ধ লোকটির কাছে এসে জিজ্ঞস করলেনঃ তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কি?’ সে বললঃ আমার চোখআল্লাহ্ আমার চোখ ফিরিয়ে দিন, যাতে আমি মানুষকে দেখতেপারি। ফেরেশতা তার চোখ স্পর্শ করলেন। এতে তার অন্ধত্ব ঘুচে গেল, আল্লাহ্ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন সম্পদ তোমার কাছে অধিকতর প্রিয়? লোকটি বললঃ ছাগলতখন তাকে এমন একটি ছাগী দেওয়া হলো, যা বেশি বাচ্চা দান করে। এরপর উট, গাভী ও ছাগলের বাচ্চা জন্মালো। এতে উট দ্বারা একটি মাঠ, গরু দ্বারা আরেকটি মাঠ এবং ছাগল দ্বারা অন্য একটি মাঠ একেবারে পূর্ণ হয়ে গেল।

এরপর তিনি কুষ্ঠ রোগীর কাছে এসে তার প্রথম আকৃতি ধারন করে বললেনঃ দেখ, আমি একজন মিসকিন। সফরে আমার সবকিছু ফুরিয়ে গিয়েছে। এখন আল্লাহ্ ছাড়া এমন কেউ নেই, যার সাহায্যে আমি আমার গন্তব্যস'লে পৌঁছাতে পারি। যে আল্লাহ্ তোমায় সুন্দর রং এবং সুন্দর ত্বক ও প্রচুর ধন-মাল দিয়েছে তার নামে আমি তোমার কাছে একটা উট সাহায্য চাইছি, যাতে করে আমি গন্তব্যস'লে পৌঁছতে পারি।সে বললঃ (আমার উপর তো)অনেকের হক রয়েছেতিনি বললেনঃ আমি সম্ভবত তোমাকে চিনি। তুমি না কুষ্ঠ রোগী ছিলে? তোমাকে না লেকেরা ঘৃনা করত? তুমি না নিঃস্ব ছিলে? এখন আল্লাহ্ তোময় সম্পদ দিয়েছে।সে বললঃ আমি তো এ সম্পদ পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।তিনি বললেনঃ তুমি যদি মিথ্যাচারী হয়ে থাক, তাহলে আল্লাহ্ যেন তোমায় পূর্বাবসস্থায় ফিরিয়ে নেন।

 

এরপর তিনি টেকো লোকটির কাছে এসে তার পূর্বের আকৃতি ধারন করে সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন, যা প্রথম লোকটিকে বলেছিলেন। টেকো লোকটিও সেই উত্তরই দিল, যা পূর্বোক্ত লোকটি দিয়েছিল। ফেরেশতা একেও বললেনঃ তুমি যদি মিথ্যাচারী হয়ে থাকো , তাহলে আল্লাহ্ যেন তোমায় পূর্বাবসস্থায় ফিরিয়ে দেন।এরপর তিনি অন্ধ লোকটির কাছে তার পূর্বের আকৃতি ধারন করে এসে বললেনঃ আমি একজন নিঃস্ব (মিসকিন) ও পথিক। আমার সবকিছু সফরে ফুরিয়ে গেছে। এখন গন্তব্যস'লে পৌঁছার জন্য আমার আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সম্বল নেই। তাই সে আল্লাহর নামে তোমার কাছে একটি ছাগল সাহায্য চাইছি, যিনি তোমর চোখকে নিরাময় করে দিয়েছেন। লোকটি বললঃ আমি বাস-বিকই অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ্ আমার দৃষ্টিশক্তি ফেরৎ দিয়েছেন; সুতরাং তুমি তোমার ইচ্ছামতো মাল-সামান নিয়ে যাও এবং যা ইচ্ছা রেখে যাও।আল্লাহর কসম! আজ তুমি আল্লাহর ওয়াসে- যা কিছু নেবে, তাতে আমি কোন বাধা দেব না।ফেরেশতা বললেনঃ তোমার ধন-মাল তোমার কাছেই থাকুক। তোমাদের শুধু পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তোমার অন্য দুজন সঙ্গীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি। বুখারী: ৪/২০৮ (৩৪৬৪) ও মুসলিম: ৮/২১৩ (২৯৬৪)]

 

66-السابع : عن أبي يعلى شداد بن أوسرضي الله عنه، عن النَّبيّصلى الله عليه وسلم، قَالَ :(( الكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ ، وَعَمِلَ لِمَا بعدَ المَوتِ ، والعَاجِزُ مَنْ أتْبَعَ نَفْسَهُ هَواهَا وَتَمنَّى عَلَى اللهِ ))

[أخرجه : ابن ماجه ( 4260 ) ، والترمذي ( 2459 ) ، وإسناد الحديث ضعيف لضعف أبي بكر بن أبي مريم .

ومعنى الحديث : أن العاقل من حاسب نفسه وعمل للآخرة ، والعاجز من اهتم بالدنيا وفرط بالأوامر والنواهي ، وتمنى على الله ، فيقول : الله غفورٌ رحيم ، وسوف أتوب ... شرح رياض الصالحين لابن عثيمين 1/268 ]

قَالَ الترمذي وغيره من العلماء : معنى (( دَانَ نَفْسَهُ )) : حاسبها .

 

৬৬. আবু ইয়ালা শাদ্দাদ ইবনে আউস রাদ্বী আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে তার নফসের প্রবৃত্তির হিসাব গ্রহন করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে। আর দুর্বল সেই ব্যক্তি, যে স্বীয় নফসের কু-প্রবৃত্তির অনুসরন করে আবার আল্লাহর কাছেও (ভাল কিছু প্রাপ্তির) আকাংখা পোষন করে। ঈমাম তিরমিযী এ হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে একে হাসান হাদীসআখ্যা দিয়েছেন।

[ইবনে মাজাহ্: ৪২৬০, তিরমিযী: ২৪৫৯]

 

67-الثامن : عن أبي هريرةرضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُول اللهصلى الله عليه وسلم : (( مِنْ حُسْنِ إسْلامِ المَرْءِ تَرْكُهُ مَا لا يَعْنِيهِ))

[أخرجه: ابن ماجه ( 3976 )، والترمذي ( 2317 ) . وقال : (( حديث غريب )) حديث حسن رواه الترمذي وغيرُه]

 

৬৭. হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বী আল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামঃ মানুষের বাজে কাজ পরিহার করা ইসলামী সৌন্দর্য্যের অন্তর্ভুক্ত।

[ইবনে মাজাহ্: ৩৯৭৬, তিরমিযী: ২৩১৭, তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান।]

 

68-التاسع : عن عُمَرَرضي الله عنه، عَنِ النَّبيّصلى الله عليه وسلم، قَالَ : (( لاَ يُسْأَلُ الرَّجُلُ فِيمَ ضَرَبَ امْرَأَتَهُ ))

[أخرجه : أبو داود ( 2147 ) ، وابن ماجه ( 1986 ) ، وإسناده ضعيف لجهالة عبد الرحمان المُسلي ]

 

৬৮. হযরত উমর রাদ্বী আল্লাহু আনহু রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেনঃ কোন সঙ্গত কারণে স্ত্রীকে প্রহার করা হলে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না অর্থ্যাৎ, সে তার স্ত্রীকে কোন কারণে মেরেছে।

[আবু দাউদ: ২১৪৭, ইবনে মাজাহ্: ১৯৮৬]


এ বিভাগের আরো লেখা পড়তে অনুসরণ করুন: নবীর বাণী

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes