জিজ্ঞাসা ও জবাব: ৫২ থেকে ৫৭

Print
Category: জিজ্ঞাসা ও জবাব
Published Date Written by ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

প্রশ্ন-৫২: প্রচলিত তাবলীগ, চিল্লা, বিশ্ব-ইজতেমা ইত্যাদি সম্পর্কে কুরআন ও সহীহ্ সুন্নার কোন দলীল প্রমাণ আছে কি? ঘরবাড়ী ও প্রিয়জন ছেড়ে বহু দূরের জেলায় এমনকি দূরদেশেও তাবলীগ করতে যাওয়ার যে প্রথা, সেটা কতটুকু সঠিক? ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগের প্রকৃত বিধান ও পদ্ধতি জানাবেন।

উত্তর: প্রচলিত তাবলীগ, চিল্লা, বিশ্ব-ইজতেমা ইত্যাদিকে যদি দ্বীন শিক্ষা করার জন্য কোর্স হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তা না জায়েয হবে না। যেমন ছাত্রদের বার্ষিক কোর্স রয়েছে, তেমনি একজন বড় মানুষের জন্যও কোর্স থাকতে পারে, সেটা চল্লিশ দিনেরও হতে পারে। আর বিশ্ব ইজতেমায় যদি বয়ান বা ওয়াজ শুনতে যায়, তবে সেটাও না-জায়েয হবে না।
তবে সমস্যা হচ্ছে, তাবলীগী ভাইদের বাড়াবাড়ি। তারা অনেকেই মনে করে, চল্লিশ দিনের বিশেষ কোনো ফযীলত রয়েছে। যদি এ জাতীয় কিছু মনে করে তবে সেটা হবে বিদআত। আবার তাদের কেউ কেউ বিশ্ব ইজতেমায় একত্রিত হওয়ার জন্যও বিশেষ মর্যাদা নির্ধারণ করে থাকে, তাও বিদআত।
ঘরবাড়ী ও প্রিয়জন ছেড়ে বহু দূরের জেলায় এমনকি দূরদেশেও যদি দ্বীন শিক্ষা করার জন্য যায়, তবে তাও বিদআত হবে না। কিন্তু যদি কাছে অবস্থান করে সে দ্বীনী জ্ঞান শিক্ষা করার সুযোগ থাকে, তবে দূরে যাওয়া যাবে না।
তাবলীগী ভাইদের অবস্থা দেখে মনে হয়, তারা মূলতঃ মানুষদেরকে সাথে সাথে রেখে শিখাতে চায়। এটাকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্স হিসেবে দেখলে দোষ দেওয়া যায় না। তবে সমস্যা হচ্ছে-
১- নিজের পরিবার-পরিজনের খোঁজ না রাখা। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “একজন মানুষের জন্য এটাই গুনাহ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে যাদের জীবন-জীবিকার ব্যাপারে দায়িত্বশীল, তাদের ব্যাপারে উদাসীন থাকবে।” [আবু দাউদ: ১৬৯২]
২- তাবলীগের জন্য ভাষা জানা জরুরী, আল্লাহ্ কোনো নবীকেও তার কাওমের ভাষা ব্যতীত প্রেরণ করেন নি। অথচ অনেক তাবলীগের মুরুব্বী ভাষা না জানা সত্ত্বেও এমন বহু দেশে ভ্রমণ করেন, যেখানে যাওয়া দ্বারা তিনি নিজে যেমন উপকৃত হন না, তেমনি অন্য কাউকেও উপকৃত করতে পারেন না। এভাবে তারা হয় পরিবারের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, নতুবা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মত সফর ও মেহনত করা ও নিজেকে কষ্ট দেওয়াকে পূণ্যের কাজ মনে করছে। এর কোনোটাই শরীয়াতসম্মত নয়।
৩- দাওয়াত ও তাবলীগের মূল কথা হচ্ছে, “সেটা শুরু করতে হবে নিজ পরিবার থেকে।” কিন্তু নিজ পরিবার, এলাকা ও দেশ ঠিক না করে দূরে যাওয়া কখনও সমীচিন হয় না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবার থেকে শুরু করেছেন, তারপর গোত্র, তারপর সারা আরব, তারপর সারাবিশ্ব। আমাদের উচিত হবে, সত্যিকারের দ্বীন আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালানো।
৪- দাওয়াত ও তাবলীগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, আগে নিজে জানতে হবে, তারপর অন্যকে জানানো। তাবলীগের মুরব্বীদের অনেকেই আকীদা বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন না। তাদের উচিত হবে, সর্বাগ্রে এদিকে নযর দেওয়া।
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকভাবে তাঁর দ্বীনকে জানা ও বুঝার তাওফীক দিন, আমীন।

প্রশ্ন-৫৩: নামাযের কোন্ পর্যায়ের হুকুম তরক হলে সাহু সিজদা দিতে হয়? সাহু সিজদা কখন এবং কিভাবে দিতে হয়? অর্থাৎ, সালামের আগে ও পরে সিজদা করার ব্যাপারগুলো জানাবেন।

উত্তর: নামাযে যে সকল কারণে সাহু সাজদা দিতে হয়, তা দু’টি:
এক. ওয়াজিব পর্যায়ের বিধান ছুটে গেলে বা অতিরিক্তি কিছু করলে।
দুই. রাকাআত কম-বেশি হওয়ার সন্দেহ হলে।
হানাফী ইমামগণ আরও একটু যোগ করে বলেন, ওয়াজিব কিংবা ফরদ্ব আদায়ের সময় থেকে সেটাকে দেরী করে আদায় করা হলে তাতেও সাহু সাজদা দিতে হয়। বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক। স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা যাবে না।
সাহু-সাজদা কখন ও কিভাবে দিতে হবে? এর উত্তর বলা হবে যে-
১- যদি সন্দেহের জন্য সাহু সিজদা দিতে হয়, তবে সেটা সালামের আগে কিংবা পরে উভয়ভাবে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২- কিন্তু যদি কোনো ওয়াজিব ছুটে যায়, তবে সেটার জন্য সালামের আগে সাহু সাজদা দিতে হবে।
৩- আর যদি কোনো কিছু বেশি হয়ে যায়, তবে সেটার জন্য সালামের পরে সাহু সিজদা দিতে হবে।
সাহু সাজদা দেওয়ার হানাফী পদ্ধতি হচ্ছে, আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে দু’টি সাহু সাজদা দেওয়ার পর আবার আত্তাহিয়্যাতু পড়তে হবে। বস্তুত এ পদ্ধতির স্বপক্ষে কোনো দলীল পাওয়া যায় না। তাই সঠিক নিয়ম হচ্ছে, সালামের আগে সাহু সাজদা দেওয়া হলে, সাহু-সাজদা দিয়ে দু’ দিকে সালাম ফিরাতে হবে, আর যদি সালামের পরে সাহু-সাজদা দেওয়া হয়, তবে সেখানে আর কোনো কাজ থাকবে না। বরং সাহু-সাজদা দেওয়ার পর সালাত শেষ হয়ে গেল। (যদি মুক্তাদি মাসবুক হয়, আর তিনি সাহু-সাজদা দিতে না পারেন, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, কারণ ইমামের সাহু-সাজদা তার জন্য যথেষ্ট হবে। তবে এজন্যই মুক্তাদির উচিত হবে দ্বিতীয় সালামের সামান্যক্ষণ পর বাকী সালাতের জন্য উঠা, যাতে করে যদি ইমাম সাহেব সাহু-সাজদা দেয়, তিনি তাতেও শরীক হতে পারেন।)

প্রশ্ন-৫৪: কেউ কারো থেকে এক কানী (গ্রামীন হিসাবে) জমি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বন্ধক নিল। কিন্তু টাকা ফেরৎ নেয়ার সময় জমির মালিক ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করবে; এই নিয়মে কি সুদ হবে? অথবা জমিতে টাকা লাগানোর হিসাব-নিকাষ কিভাবে ইসলাম সম্মত হবে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর: এটা জানা থাকা দরকার যে বন্ধকী সম্পত্তি হচ্ছে জামানত হিসেবে গৃহীত বস্তু। যা একটি আমানত। মূল বিষয় হচ্ছে টাকা লেন-দেন করা। সুতরাং জমি বন্ধক নেওয়াটা বন্ধক গ্রহীতার উদ্দেশ্য হতে পারবে না, তার উদ্দেশ্য হবে তার মুসলিম ভাইকে ধার দেওয়া, তখন জমিন হবে সে টাকা ফেরত প্রদানের গ্যারান্টিস্বরূপ। কেউ যদি ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় এবং গ্যারান্টি হিসেবে জমি বন্ধক রাখে, তবে যখনই সে টাকা ফেরত দিবে তখনই তাকে জমি ফেরৎ দিতে হবে। জমিন ভোগ করার অধিকার জমির মালিকের, বন্ধকগ্রহীতার নয়, (যদি না জমির মালিক সেটাকে আবাদ করার জন্য বন্ধকগ্রহীতাকে অনুমতি না দেয়)। যদি টাকা ফেরৎ দেওয়ার সময় জমির মালিক সেই ৫০,০০০ টাকার স্থানে ৬০,০০০ টাকা দেয়, কোনোরূপ পূর্বশর্ত ব্যতীত, তবে তা জায়েয হবে। কারণ হাদীসে এসেছে, “তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে পরিশোধ করার সময় উত্তমভাবে পরিশোধ করে”। [বুখারী, ২৩৯২; মুসলিম, ১৬০০] কিন্তু যদি পূর্বে এরকম কোনো শর্ত করে ঋণদাতা টাকা দেয়, তবে তা সুদে পরিণত হবে।
জমিতে টাকা লাগানোর ইসলামসম্মত পদ্ধতি হচ্ছে:
১- জমি বাৎসরিক বা ফসল ভিত্তিক ভাড়া নেওয়া। ধরুন, আপনার জমি আছে, আমি সেটা এক বছরের জন্য নিব, আপনাকে সেটা বাবদ ৫০০০ টাকা দেব। অথবা এক ফসল ফলানোর সময় পর্যন্ত নিব, আর সেটার জন্য ২০০০ টাকা দেব। এটা করলে জায়েয হবে।
২- বর্গা নেওয়া। ধরুন, আপনার জমি আছে, আমি তাতে ফসল ফলানোর জন্য বর্গা নেব, সেটা আবার চুক্তি অনুসারে হতে পারে, অর্ধেক, তিনভাগের একভাগ ইত্যাদি। তাও আবার নিজেদের মধ্যে বুঝাপড়ার ভিত্তিতে কয়েক প্রকার হতে পারে:
ক. আপনার তাতে শ্রম ও অর্থ থাকবে, আমারও শ্রম ও অর্থ থাকবে।
খ. আপনার শ্রম ও অর্থ থাকবে না, আমার শ্রম ও অর্থ থাকবে।
গ. আপনার অর্থ থাকবে, শ্রম থাকবে না, আর আমার থাকবে শ্রম ও অর্থ।
ঘ. আপনার শ্রম ও অর্থ থাকবে, আর আমার অর্থ থাকবে, শ্রম থাকবে না।
মোটকথা: বর্গা চাষ জায়েয। সেটা প্রচলিত নিয়মে ও চুক্তি অনুসারে। তবে যুলুম যেন না হয়, সেটা দেখা দরকার।
৩- জমিনে ইনভেষ্ট করা। যেমন কারও জমিনে অন্য লোক কোনো ফ্যাক্টরি বা বহুতল বিশিষ্ট ইমারত নির্মানের জন্য চুক্তি করল। সেখানে চুক্তি অনুসারে প্রত্যেকে তার অংশ পাবে। বর্তমান ডেভেলপার কোম্পানীরা সাধারণত এটাই করে থাকে।

প্রশ্ন-৫৫: ছোট ছোট ভাই বোনেরা কথা শুনেনা, নামাজও ঠিকমত পড়তে চায়না, মায়ের কথাও মানেনা, যখন যার যেভাবে ইচ্ছা চলা ফেরা করে, বুঝালেও বুঝ মানেনা, এখন এই সমস্যা থেকে বাঁচার কোন কি পথ আছে? আছে কি কোন আমল বা দোয়া যা করলে ওরা কথা শুনবে ও মানবে। থাকলে জানাবেন। এর জন্য কি আমি তাদের সাথে মান-অভিমান করা, শাসন করা বা সম্পর্ক ত্যাগ করা ঠিক হবে?

উত্তর: যারা কথা শুনে না, আর যারা নামায পড়ে না, সবাই একই কাতারের নয়। যারা কথা শুনে না, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে হেদায়াতের দোআ করুন। আর মনে করু যে, হয়ত আপনার দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে।
তাদের সাথে মান অভিমান করলে বা শাসন করলে যদি কাজ হয়, তবে তা করা যাবে, কিন্তু যদি হিতে বিপরীত হয়, তবে তা করা যাবে না।
আর যদি নামায পরিত্যাগ করে, তাদের সাথে একসাথে থাকা যাবে না। প্রথম থেকেই এ ব্যাপারে তাদের সাবধান করতে হবে। প্রয়োজনে যাদের কথা তারা শোনে থাকে, তাদের সহযোগিতা নিতে হবে।

প্রশ্ন-৫৬: আমরা এমনই এক সময়ে এসে উপনীত হয়েছি, কারো বাসায় গেলে আপ্যায়ন করে, কে হালাল খায় আর কে হারাম খায়, জানা নেই। তবুও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে খেতে হয়। আবার না খেলে রাগারাগির ব্যাপার স্যাপার আছে। এই অবস্থায় আমাদের কি করনীয়?

উত্তর: যদি আত্মীয়-স্বজনের আয়-রোযগার হালাল না হয়, তবে তাদেরকে পূর্ব থেকেই এ ব্যাপারে কোনো প্রকার রাখ-ঢাক না করে সেটা বলতে হবে এবং তাদের খাবার কেনো খাওয়া যাবে না তা পূর্ব থেকেই জানিয়ে দিতে হবে। সেখানে রাগ করলে কিছু করার নেই।
কিন্তু কারও আয়-রোযগার হালাল কিংবা হারাম সে সন্দেহ থাকলে সেটার উপর ভিত্তি করে তাদের খানা খাওয়া বন্ধ করা জায়েয হবে না। নিছক সন্দেহ কোনো কিছুকে হারাম করে না।
 
প্রশ্ন-৫৭: বাংলাদেশে অনেক অনেক ব্যাংক আছে যেগুলোতে মেয়াদী ভাবে টাকা রাখা যায়, এভাবে কেউ একলাখ টাকা রাখলে ইসলামী ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রতি লাখে মাসে দিবে ব্যাংক চার্জ বাদ দিয়ে ৭৮৪ টাকার মত। তাতে বছরে মোট ৯৪০০ টাকা হয়। আর অন্যান্য ব্যাংকে আরো বেশি, যেমন অগ্রণী ব্যাংকে দেয় বছরে ১০হাজার ৬ শত ৮০ টাকা। অন্যান্য ব্যাংকে আরো বেশি। এখন এভাবে টাকা রাখলে কি সুদ হবে? অথবা ব্যবসায়ী ব্যক্তিকে ব্যবসার জন্য টাকা দিলে সে যদি প্রতিমাসে একলাখ টাকায় দুই হাজার টাকা দেয় তাহলে কি সুদ হবে? আবার বিনিয়োগের জন্য নিলে ৫০ হাজার নিলে ৬০ হাজার দেয়া লাগে এটাও কি সুদের মধ্যে পড়ে, জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর: ইসলামী শরীয়াত অনুযায়ী কোনো টাকা লগ্নি করে তার দ্বারা আয় কী হবে তা নির্ধারণ করা জায়েয নেই। যদি কম-বেশি করে, আর কাছাকাছি আয় হয়, অর্থাৎ সত্যিকারের আয় অনুসারে লাভ-লোকসানের মধ্যে সামঞ্জস্য করে মুনাফা দেওয়া হয়, তবে সেটা জায়েয হবে।
মনে রাখতে হবে যে, টাকা দিয়ে সেটার বিনিময়ে একটাকা বেশি নিলেও সুদ হবে, পক্ষান্তরে টাকা ব্যবসায় খাটিয়ে সেটা দ্বারা হাজার টাকা আয় করলেও সেটা জায়েয হবে।
যেহেতু ইসলামী ব্যাংকিং এর মূল কথা হচ্ছে ব্যবসায় খাটানো, তাই তারা লাভ-লোকসানের উপর নির্ভর করে যা দেয় সেটা জায়েয হবে। পক্ষান্তরে জাগতিক সুদী ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করে দেয় কতটাকা সুদ দিবে, তার টাকা দিয়ে ব্যবসা করা হলো কি হলো না, লাভ হলো কি লোকসান হলো সেটা তাতে ধর্তব্য নয়, তাই সেটাতে কোনো টাকা রাখা জায়েয নেই এবং সেটার লাভ নেওয়াও জায়েয নয়।
ব্যবসায়ী যদি লাখে ২০০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়, তবে বুঝতে হবে যে সে সুদ দিচ্ছে। কারণ সে ব্যবসার আগে কোনো ভাবেই জানে না তার ব্যবসার পরিমাণ কেমন হবে। লাভ হবে নাকি লোকসান হবে। আর যদি ব্যবসায়ী মাসিক কোন একটা অংকের টাকা দেয়, তারপর বছর শেষে বা ব্যবসা কর্মকাণ্ড শেষ করার পর লাভ-লোকসান দেখে সেটা অনুযায়ী সমন্বয় করে, আর টাকা প্রদেতা সেটার উপর রাযী থাকে, তবে সেটা জায়েয হবে।
বিনিয়োগের জন্য টাকা নিলেও যদি ব্যবসার হিসেব বাদেই কোনো অংক নির্ধারণ করে লাভ দেয় তাহলে তাও সুদ হবে।


~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~

জীবন যতদিন আছে, জিজ্ঞাসাও ততদিন থাকবে। যত জিজ্ঞাসা আছে, তত জবাবও আছে। তবে জিজ্ঞাসা করতে হবে জ্ঞানীদের নিকট। জ্ঞানী তথা আলেম নির্বাচনই আপনার কৃতিত্ব। কুরআন ও সুন্নার বিশুদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী সত্যপন্থী আলেম আপনাকে সত্যের পথে নিয়ে যাবে। আপনার জীবনের যে কোন জিজ্ঞাসা আজই পাঠিয়ে দিন "নির্মাণ" বরাবর।
আপনার জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, পি এইচ ডি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদীনা মুনাওয়ারা। সহকারী অধ্যাপক ও ফিকাহ্ বিভাগের চেয়ারম্যান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
জিজ্ঞাসা পাঠাবার ঠিকানা: This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.
~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~*~

শায়খের অন্যান্য জবাবগুলো জানতে অনুসরণ করুন: জবাব দিচ্ছেন: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes