ইবাদাত ও স্বভাবজাত সৌন্দর্য রক্ষায় মিসওয়াক

Print
Category: সংস্কৃতি রীতিনীতি
Published Date Written by সম্পাদক

ইবাদাত ও স্বভাবজাত সৌন্দর্য রক্ষায় মিসওয়াক


আল্লাহ্ নিজে সুন্দর ও পবিত্র। তিনি আমাদের জন্য যে জীবন বিধান পাঠিয়েছেন, তাতে সুন্দর ও পবিত্রতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বরং পবিত্রতা ছাড়া তো দ্বীন মেনে চলাই অসম্ভব। পবিত্রতা অর্জনের মধ্যেও সৌন্দর্য রয়েছে।

মূলতঃ পবিত্রতার দু'টো দিক রয়েছে। একটি হলো শরীয়তের বিধানগত দিক যাতে নির্দেশ অনুযায়ী মুখমণ্ডল, দু'হাত, দু'পা ধৌত করা ও মাথা মাসেহ্ করার মাধ্যমেই পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। অন্যটি হলো এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। যেমন, মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত মুখগহ্বর পরিস্কার করা। সেজন্য মিসওয়াক করা, গরগরার সাথে কুলি করা ইত্যাদি রয়েছে। নাকও মুখমণ্ডলের অংশ তাই বামহাতে নাক ঝেড়ে পরিস্কার করার কথা বলা হয়েছে। রগড়ে রগড়ে হাত-পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এভাবে ইসলামী বিধানে সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এর বহু কারণের মধ্যে একটি কারণ এই যে, আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত বিধান পূর্ণ করার পরও আমাদেরকে পরস্পরের সাথে একত্রে মিলে জামা'আতের সাথে ইবাদাতগুলো সম্পাদন করতে হয়। ইবাদাত ছাড়াও জাগতিক নানা কাজকর্মে একে অন্যের সাথে সাক্ষাত করতে ও কথাবার্তা আদান-প্রদান করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে যদি কারো মুখ থেকে দাঁত না মাজার কারণে দুর্গন্ধ আসে, তাহলে তা অন্যদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ ইসলাম সুন্দর এবং সর্বদা সুন্দরের পক্ষে কথা বলে।

আসুন দেখি মিসওয়াক করে দাঁত ও মুখ পরিস্কার রাখার ব্যাপারে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন। আবূ হুরায়রা রাদ্বিআল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন- "যদি মুমিনদের জন্য এবং যুহাইরের বর্ণিত হাদীসে রয়েছে আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক না হতো, তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" [সহীহ্ মুসলিম: ৪৯৬, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার]

আল্লাহর নবী আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি অন্যদেরকে যে নির্দেশ দিতেন, নিজে আগে তা পালন করতেন। সেজন্যই তিনি ছিলেন পৃথিবীর বুকে জীবন্ত কুরআন। অর্থাৎ, কুরআনকে অনুসরণের ব্যাপারে এক পরিপূর্ণ মডেল। আসুন দেখি মিসওয়াকের ব্যাপারে তাঁর বাস্তব জীবনের চর্চা কেমন ছিল। হুযায়ফা রাদ্বিআল্লাহু 'আনহু বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (সালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিস্কার করতেন।" [সহীহ্ আল-বুখারী: ২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ]

শুধু কি ঘুম থেকে জেগেই মিসওয়াক করতেন? না; বরং শুরাইহ্ রাদ্বিআল্লাহু 'আনহু বলেন: "আমি আয়েশা রাদ্বিআল্লাহু 'আনহাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গৃহে প্রবেশ করতেন তখন কোন্ কাজটি সর্বপ্রথম করতেন? আয়েশা বললেন, সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন।" [সহীহ্ মুসলিম: ৪৯৭, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার]

কুরআন-সুন্নাহর গবেষক ইসলামী পণ্ডিতগণের কাছ থেকেও মিসওয়াকের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম নববী বলেছেন: সবসময় মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। তবে পাঁচ সময়ে অত্যন্ত জরুরী- ১) নামাযের সময় ২) ওযুর সময় ৩) কুরআন তিলাওয়াতের সময় ৪) ঘুম থেকে উঠলে ও ৫) মুখে দুর্গন্ধ হলে।

বর্তমানের আধুনিক বিশ্বে দাঁত মাজার জন্য নানা প্রকার ব্যবস্থাপনা রয়েছে। সেগুলোর দ্বারা হোক কিংবা মূল সুন্নাতের আলোকে গাছের শিকড় বা ডাল দ্বারা হোক আমাদেরকে মিসওয়াক করতে হবে। ইসলামী জীবনাচারের এক সাধারণ ও স্বভাবজাত অংশ মিসওয়াক করা। তাই আমরা জীবনের প্রতিটি কাজকে ইবাদাতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এই মিসওয়াকের মত দৈনন্দিন কৃত কাজটির বেলায়ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণের নিয়্যত নিয়ে আদায় করার চেষ্টা করবো। এতে করে মিসওয়াকের মাধ্যমে নিজের মুখ পরিস্কার করার কাজটিও একটি উত্তম ইবাদাত হিসেবে মূল্যায়িত হবে।

আসুন ইসলামী সংস্কৃতি-রীতিনীতি মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করি এবং নিজেদের ইহ ও পর জীবনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেই। আল্লাহই একমাত্র তৌফিকদাতা।


এ বিভাগের আরো লেখা পড়তে অনুসরণ করুন: সংস্কৃতি-রীতিনীতি

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes