তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি)

Print
Category: নবীর বাণী
Published Date Written by সম্পাদক

6 - باب في التقوى

অনুচ্ছেদঃ ছয়
তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি)


 قَالَ الله تَعَالَى :  يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ   [ آل عمران : 102 ]

মহান আল্লাহ বলেনঃ হে ঈমানদারগণ! (তোমরা) আল্লাহকে ভয় কর যেমন তাঁকে ভয় করা উচিত। (সূরা আলে ইমরানঃ ১০২)

 

  وَقالَ تَعَالَى : فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ. [ التغابن :16] . وهذه الآية مبينة للمراد مِنَ الأُولى .

মহান আল্লাহ্ আরও বলেনঃ তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো। (সূরা তাগাবুনঃ ১৬)

 

وَقالَ تَعَالَى : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً - [ الأحزاب :70 ] ، وَالآيات في الأمر بالتقوى كثيرةٌ معلومةٌ.

মহান আল্লাহ্ আরও বলেনঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (সূরা আহযাবঃ ৭০)


  وَقالَ تَعَالَى : وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ [ الطلاق : 2-3 ]

মহান আল্লাহ্ আরও বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে, আল্লাহ্ তাকে (দুঃখ কষ্ট থেকে) মুক্তির পথ বের করে দেন এবং যে স্থান সম্পর্কে সে ধারণা করেনি, সেখান থেকে তিনি তাকে জীবিকা প্রদান করেন। (সূরা তালাকঃ ২ ও ৩)


  وَقالَ تَعَالَى :  إِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَاناً وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ - [ الأنفال :29 ] والآيات في البابِ كثيرةٌ معلومةٌ .


মহান আল্লাহ্ আরও বলেনঃ তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করে চলো, তাহলে তিনি তোমাদেরকে (ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে) পার্থক্যকারী (শক্তি ও ক্ষমতা) দান করবেন, তোমাদের থেকে তোমাদের গুনাহ সমূহ দূর করে দিবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন; আর আল্লাহ বড়ই মহান। (আনফালঃ ২৯)

 

69-وأما الأحاديث : فالأول : عن أبي هريرةَ رضي الله عنه ، قَالَ : قِيلَ: يَا رسولَ الله ، مَنْ أكرمُ النَّاس ؟ قَالَ : أَتْقَاهُمْ . فقالوا : لَيْسَ عن هَذَا نسألُكَ ، قَالَ : فَيُوسُفُ نَبِيُّ اللهِ ابنُ نَبِيِّ اللهِ ابنِ نَبيِّ اللهِ ابنِ خليلِ اللهِ  قالوا : لَيْسَ عن هَذَا نسألُكَ ، قَالَ : فَعَنْ مَعَادِنِ العَرَبِ تَسْأَلوني ؟ خِيَارُهُمْ في الجَاهِليَّةِ خِيَارُهُمْ في الإِسْلامِ إِذَا فقُهُوا .

 مُتَّفَقٌ عَلَيهِ . و(( فَقُهُوا )) بِضم القافِ عَلَى المشهورِ وَحُكِيَ كَسْرُها : أيْ عَلِمُوا أحْكَامَ الشَّرْعِ .


৬৯. হযরত আবু হুরয়রা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ ‘সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে?’ তিনি বললেনঃ ‘সবার চেয়ে যে বেশি আল্লাহ্ ভীরু।’ সাহাবীগণ বললেনঃ আমরা একথা জিজ্ঞেস করছি না। তিনি বললেনঃ তাহলে আল্লাহর নবী ইউসুফ, যাঁর পিতা আল্লাহর নবী, তাঁর পিতা আল্লাহর নবী এবং তাঁর পিতা ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্। সাহাবীগণ বললেনঃ ‘আমরা আপনাকে এ বিষয়েও জিজ্ঞেস করছি না। তখন রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল্লাম বলেনঃ ‘তাহলে তোমরা আরবের বিভিন্ন গোত্রের কথা জিজ্ঞেস করছো? (জেনে রেখ) জাহেলিয়াতের যুগে যারা ভালো ছিল, তারা ইসলামের যুগেও ভাল, যদি তারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানবান হয়ে থাকে।
(বুখারী ও মুসলিম)

 

70-الثَّاني : عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه ، عن النَّبيّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ : إنَّالدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرةٌ ، وإنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرَ كَيفَ تَعْمَلُونَ ، فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاء ؛ فإنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إسرائيلَ كَانَتْ في النِّسَاءِ .

رواه مسلم .


৭০. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘দুনিয়াটা অবশ্যই মিষ্টি মধুর ও আকর্ষণীয়। আল্লাহ্ তোমাদেরকে দুনিয়ায় তার প্রতিনিধি বানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখতে চান তোমরা কেমন কাজ কর। কাজেই (তোমরা) দুনিয়াকে ভয় করো এবং নারীদের ফিৎনাকেও ভয় করো। কারণ বনীইসরাঈলের প্রথম ফিৎনা নারীদের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছিল।’
(মুসলিম)

 

71-الثالث : عن ابن مسعودٍ رضي الله عنه : أنَّ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يقول :  اللَّهُمَّ إنِّي أَسألُكَ الهُدَى ، وَالتُّقَى ، وَالعَفَافَ ، وَالغِنَى .

رواه مسلم .


৭১. হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তাকওয়া, পথ নির্দেশনা (হেদায়েত) পবিত্রতা ও স্বচ্ছলতা প্রার্থনা করি।’ (মুসলিম)

 

72-الرابع : عن أبي طريفٍ عدِيِّ بن حاتمٍ الطائيِّ رضي الله عنه ، قَالَ : سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم ، يقول :  مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ رَأَى أتْقَى للهِ مِنْهَا فَليَأتِ التَّقْوَى .

رواه مسلم .


৭২. হযরত আবু তারিফ ‘আদী ইবনে হাতেম-তাঈ (রা) বলেনঃ রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম খাওয়ার পর অধিকতর তাকওয়ার (আল্লাহ্ ভীতির) কোন কাজ সম্পাদন করল, এ অবস্থায় সেটাই তার করনীয়।
(মুসলিম)

 

73-الخامس : عن أبي أُمَامَةَ صُدَيّ بنِ عجلانَ الباهِلِيِّ رضي الله عنه ، قَالَ : سَمِعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ في حجةِ الوداعِ ، فَقَالَ : اتَّقُوا الله وَصلُّوا خَمْسَكُمْ ، وَصُومُوا شَهْرَكُمْ ، وَأَدُّوا زَكاةَ أَمْوَالِكُمْ ، وَأَطِيعُوا أُمَرَاءكُمْ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ .

رواه الترمذي ، في آخر كتابِ الصلاةِ ، وَقالَ : (( حديث حسن صحيح))


৭৩. হযরত আবু উমামা সুদাই ইবনে আজলান বাহেলী (রা) বর্ননা করেনঃ আমি রাসূলে আকরাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) বিদায় হজ্জের ভাষণ শুনেছি। তিনি বলেনঃ ‘তোমারা আল্লাহকে ভয় করো, পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করো, রমযানের রোযা পালন করো, স্বীয় মালের যাকাত দাও এবং নিজেদের শাসকের (বৈধ) নির্দেশ মেনো চলো। তাহলে তোমরা স্বীয় রব-এর জান্নাতে প্রবেশ করবে।’
ইমাম তিরমিযী তাঁর কিতাবুস সালাতে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ হাদীসরূপে আখ্যা করেছেন।


এ বিভাগের আরো লেখা পড়তে অনুসরণ করুন: নবীর বাণী

.
By Joomla 1.6 Templates and Simple WP Themes